ফারুক আহমদ, উখিয়া:

উখিয়ার কোর্টবাজার ষ্টেশনে দু’লেনের সড়ক নির্মাণ কাজে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে বিদ্যুৎতের খুঁটি। এ সমস্যা সমাধানে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক করেও ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ। রত্মাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী জনবহুল ব্যস্ততম এ ষ্টেশনের উন্নয়ন কাজ দ্রুত শুরু করার জন্য বিদ্যুৎ খুটি সরানো বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের সিন্ধান্ত জরুরী বলে মনে করেন।

খোজ খবর নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দু’টি প্যাকেজে ৫০ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারন ও উন্নয়নে এশিয়ান ডেপলামেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ৪শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। সড়ক ও সেতু মন্ত্রানলয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোর্টবাজার ষ্টেশন সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ষ্টেশনে যানজট নিরসন ও পথচারীদের সুবিধার্থে দু’লেনের সড়ক নির্মানের ডিজাইন করা হয়। উক্ত প্রকল্পের কাজ সঠিক ভাবে সম্পাদন করার জন্য ষ্টেশনের খুটি অপসারণ করার জন্য সড়ক ও সেতু অধিদপ্তর এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় যৌথ ভাবে বেঠক বসে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। উক্ত সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোর্টবাজার সহ অন্যান্য জায়গায় চিহ্নিত বিদ্যুৎ খুটি অপসারণ করে অন্য জায়গায় স্থাপন করার জন্য অর্থ বরাদ্দ সহ ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা জানান, কোর্টবাজারের চৌধুরী মার্কেটের সামনে রাস্তার ধারে বিদ্যুৎ খুটি গুলো অপসারন করতে গিয়ে বিপত্তির মুখে পড়েন। মার্কেটের মালিক পক্ষের দাবি খুটি গুলো সরিয়ে পিছনে আনা হলে মার্কেটের উপরে বিদ্যুৎ লাইনের তার চলে আসে এতে জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার সমাধানের পথ খুজার লক্ষে কোর্টবাজার ষ্টেশনে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক বসে। এতে যোগদান করেন কক্সাবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা, কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম, রত্মপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মার্কেটের মালিকগন। তবে ওই বৈঠকে সমাধানের সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কোর্টবাজার ষ্টেশনের সম্প্রসারন ও উন্নয়ন কাজ জটিল হয়ে উঠে বলে বৈঠকে উপস্থিত অনেকেই জানিয়েছেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কেটের মালিক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আদিল চৌধুরীর বক্তব্য হচ্ছে খুটি গুলো সরিয়ে পিছনে আনা হলে তার গুলো মার্কেটের উপরে চলে আসবে। এছাড়াও ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা রয়েছে। বিষয়টি এখনো নিস্পৃত্তি হয়নি।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো আবু সালেহ জানান কোর্টবাজার ষ্টেশনটি যানজট মুক্ত করার জন্য উভয় পার্শ্বে ৩৩ ফুট করে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ বর্ধিত উন্নয়ন কাজের জন্য রাস্তার ধারে বিদ্যুৎ খুটি গুলো অপসারনের সিন্ধান্ত হয়েছে। কিন্ত মার্কেটের মালিক পক্ষের বাধা বা অসম্মতির কারনে আমারা এখন বেকায়দায় পড়ছি। পল্লী বিদ্যুৎতের ডিজিএম মো মোশারফ হোসেন (টেকনিক্যাল) জানান, উর্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্ভে করে উন্নয়নের স্বার্থে ১৭৯টি খুটি গুলো অপসারন করা হচ্ছে। কিন্তু কোর্টবাজার ষ্টেশনের পূর্ব পার্শ্বের অপসারন সম্ভব হলেও পশ্চিম পার্শ্বে খুটি অপসারনে সমস্যা হয়েছে।

ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়া রত্মপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী বলেন, কোর্টবাজারের উন্নয়নের স্বার্থে অবশ্যই বিদ্যুৎ খুটি গুলো অপসারন করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে মার্কেট মালিক পক্ষের কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে সেতু মন্ত্রনালয় এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা বসে দ্রæত সিন্ধান্ত নিলে এর সমাধান হবে বলে তিনি মনে করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •