সিবিএন ডেস্ক : নিজ অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাকেই বিয়ে করতে যাচ্ছেন জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীর। সম্প্রতি আপত্তিকর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ভাইরাল হওয়ার পর নিজের চাকরি বাঁচাতেই ডিসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্র।

সূত্রটি আরও জানায়, স্বামীর চাকরি বাঁচাতে আহমেদ কবীরের বর্তমান স্ত্রী কঠিন হলেও এতে সম্মতি দেয়ার চিন্তা করছেন।

কঠিন সমালোচনার মুখে থাকা ওএসডি হওয়া জামালপুরের সাবেক ডিসি সবদিক চিন্তা করে সানজিদা ইয়াসমিন সাধনাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়াকেই নিজের জন্য উপযুক্ত ও সুবিধাজনক শাস্তি মনে করছেন।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট তাদের আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়।

সারাদেশ জুড়ে এখন এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমলোচনা। ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর জামালপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেই ডিসি ও সাধানার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। জনসম্মুখে আসছে শুরু করেছে তাদের অজানা কাহিনী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের আস্কারা পেয়ে, অফিস সহকারী সাধনা হয়ে উঠেছিল ছায়া ডিসি, নতুন ডিসির কার্যক্রম শুরু ২০১৮ সালে উন্নয়ন মেলায় হস্তশিল্পের স্টল বরাদ্ধ নেয়ার সময় জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের সাথে পরিচয় হয় সাধনার।

কথা এবং রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিনামূল্যে ষ্টল বরাদ্ধ দেন আহমেদ কবীর। উন্নয়ন মেলা চলাকালে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে যা শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়।

ডিসির প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দফতরে বদলি, নিয়োগ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সামান্য অফিস সহকারী সাধনার হাতে লাঞ্চিত হয়েছে ডিসি অফিসের অনেক কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত কাজে স্বার্থসিদ্ধি হাসিলের জন্য সবার আগে তাই সাধনাকেই ম্যানেজ করতেন সুবিধাভোগীরা।

সাধনা এ কারণে সবার নিকট ‘ছায়া ডিসি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অফিস চলাকালীন সময়ে তাদের রঙ্গলীলা অবাধ করতে তার কামড়ার দরজায় বসানো হয়েছিল লাল ও সবুজ বাতি। রঙ্গলীলা চলাকালে লালবাতি জ্বলে উঠতো। দরজার সামনে দাড়িয়ে থাকতো বিশ্বস্ত পিয়ন। এই সময় সকলেরই প্রবেশ নিষেধ। এ সময় অফিসের বাইরে ফাইলপত্র নিয়ে দাড়িয়ে থাকত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকেই। লীলা শেষে পরিপাটি হয়ে ডিসি যখন চেয়ারে বসতেন তখন জ্বলে উঠতো সবুজ বাতি।

তখন সবাই ভিতরে প্রবেশ করতে পারত। সাধনা অফিস সহকারী পদে যোগদান করার পর জেলা প্রশাসকের অফিস রুমের পাশে খাস কামড়াটিতে মিনি বেড রুমে রূপান্তর করতে খাট ও অন্যান্য আসবাবপত্রসহ সাজসজ্জা করেন। সেই রুমেই চলতো তাদের রঙ্গলীলা।

প্রকাশ পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অফিস কক্ষের ঠিক ডান পাশের ছোট একটি কক্ষ। ছোট এই কক্ষটিতে একটি ছোট খাট বসানো রয়েছে। কক্ষটি বেশ পরিপাটি দেখা যায়।

ভিডিওটিতে পুরুষ ব্যক্তিটিই জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। আর যে নারীকে দেখা যায়, তিনি এই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেই সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া একই অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

উল্লেখ্য, ইসলামী শরীয়তে ব্যাভিচার করার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ও বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে। এছাড়াও এর আরেকটি শাস্তি হিসেবে উভয়ের মধ্যে বিবাহ সম্পাদনকে স্বীকৃতি দেয় আমাদের সমাজ।
সুত্র : বাংলাদেশ টু-ডে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •