মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বাংলাদেশে প্রতি একশ’ জনে দশজন করে প্রতিবন্ধি রয়েছে। কক্সবাজার জেলায় প্রায় ২২ হাজার প্রতিবন্ধি রয়েছে। এ বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধিদের জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন-প্রধানমন্ত্রীর কণ্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। তিনি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বেও তাঁর এ মহৎ কাজ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য কক্সবাজার শহরের শহীদ স্মরণীর হিলটপ ও হিলডাউন সার্কিট হাউসের মধ্য অরুণোদয় স্কুলের শুভযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রতিবন্ধী ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ২৮ আগষ্ট থেকে এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হবে ইনশাল্লাহ। শিক্ষক, থেরাপিষ্ট ও অন্যান্য কর্মচারী ইতিমধ্যে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিবন্ধি ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রতিষ্ঠানের সামনে পার্ক, শিশুদের খেলাধূলার প্রসস্থ জায়গা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। শিশুদের সাথে বাবা মা’ও এখানে থাকতে পারবেন। শিশুরা পারিবারিক ভাবে থাকবে। শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স থাকবে। সমুদ্র সৈকতে শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধি শিশুদের ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হবে, যাতে পড়ালেখা শেষে তারা সহজে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোহাঃ শাজাহান আলি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য রাখেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা জাসদের সভাপতি নঈমূল হক চৌধুরী টুটুল, কক্সবাজার আইএমও’র ট্রানজিশান ও রিকভারি ডিভিশনের চীফ মি. পেট্রিক সারিংনন, সিভিল সার্জন মো. আবদুল মতিন, জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক প্রিতম কুমার চৌধুরী, সিভিল সোসাইটি ফোরামের সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল কাদের চৌধুরী, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী।
সভায় প্রতিবন্ধি শিশুর পিতা আব্দুর রউফ, অন্য একজন প্রতিবন্ধি শিশুর মাতা কামরুন্নেছা ও তার প্রতিবন্ধি সন্তান জিদান’ও বক্তৃতা করেন। জিদান যখন বোবা কন্ঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষনের মতো করে বক্তব্য রাখছিলো, তখন উপস্থিত সুধীজন সহ সকলে তুমুল করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। ‘পিছিয়ে পড়া আর নয়, করবো মোরা বিশ্ব জয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন কর্তৃক নির্মাণাধীন প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত স্কুল “অরুণোদয়” এর প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার ২৭ আগষ্ট সকালে মূলতঃ এ প্রতিবন্ধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অরুণোদয় স্কুলটির কার্যক্রম শুরু করলে, কি কি সেবা ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে, সে সম্পর্কে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ ও অভিভাবকদের অবহিত করার লক্ষে এ ব্যতিক্রমী সমাবেশের আয়োজন করা হয় বলে প্রতিবন্ধী সমাবেশের সভাপতি এডিসি (সা.) মোহাঃ শাজাহান আলি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। সভাপতি এডিএম মোহাঃ শাজাহান আলি তাঁর বক্তব্যে সকলের সার্বিক প্রচেষ্টায় অতি দ্রুত এ প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম দ্রুত ও স্বল্পতম সময়ে শুরু করবে এবং প্রতিশ্রুত সেবা প্রদানে সক্ষম হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজার জেলার বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বা নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা সেবা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সুবিধা নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।কক্সবাজার জেলায় সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত জেলা প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত হবে এই অরুণোদয় স্কুল। ৮ হাজার ৫ শ’ বর্গফুটের সুবিশাল স্কুল ভবন, উন্মুক্ত খেলার মাঠ ও বাগানসহ প্রায় ৭০ শতক জমির উপর অরুণোদয় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি একটি সম্পূর্ণ অলাভজন প্রতিষ্ঠান। প্রতিবন্ধী সমাবেশে আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য ৫০ টি আধুনিক হুইল চেয়ার প্রদান করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •