ছবি :বিদেশে পালিয়ে যাওয়া এনজিও সংস্থা ফুয়াদ বাংলাদেশের দুই নির্বাহী পরিচালক ইব্রাহিম ও আবদুল মান্নান

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

চকরিয়ায় ফুয়াদ বাংলাদেশ নামের একটি এনজিও সংস্থা গ্রাহকের গচ্ছিত ৭৫ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে। সংস্থার দুইজন নির্বাহী পরিচালক প্রতারণার মাধ্যমে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে উল্লেখিত পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে বিদেশ পাড়ি দিয়েছেন। এ অবস্থার কারণে বিপুল পরিমাণ গচ্ছিত টাকা উদ্ধার নিয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছেন প্রতারণার শিকার গ্রাহকরা।

জানা গেছে, প্রতিজন গ্রাহককে গচ্ছিত টাকার বিপরীতে ১৬ শতাংশ লভ্যাংশের লোভ দেখিয়ে অভিযুক্ত চক্রটি কমকরে হলেও ৭৫ কোটি টাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উধাও । এ সংস্থার দু’ প্রধান নির্বাহী বাড়ি হচ্ছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুনিয়া গ্রামে। ওই গ্রামের আলী আকবরের পুত্র ইব্রাহিম ও মাষ্টার আনোয়ার হোসেনের পুত্র আবদুল মন্নান। বর্তমানে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে কাতারে রাজধানী দোহা মাইজার নামক অবস্থান করছে বলে ভূক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন। এ এনজিও সংস্থাটি ব্যাংকের আদলে ডিপিএস, এসডিপিএস, ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন লাভজনক পদ্ধতি দেখিয়ে গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এ বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়।

অভিযোগে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রাজার বিল গ্রামের মৃত ফতেহ ইউনুছ আহমদ পুত্র শহিদুল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেছেন,তার কাছ থেকে ওই দু’ প্রতারক বিভিন্ন লাভজনক ব্যবসা দেখিয়ে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে তিনি চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর থানা পুলিশ বেশ কয়েকবার অভিযুক্তদের বাড়িতে হানা দিলেও অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করেছেন, এনজিও সংস্থা ফুয়াদ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকার জমি ক্রয় করে নিজের সংস্থার নামে। বর্তমান এসব জমি দেখভাল করছে তার ছোট ভাই এহেচানুল করিম। গ্রাহকরা ওই জমি বিক্রয় করে তাদের পাওনা পরিশোদের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনি ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ ভাবে ফুয়াদ বাংলাদেশ নামক এনজিও সংস্থাটি চট্টগ্রামের বহদ্দরহাট, লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ, কক্সবাজার জেলার ঈদগাও, কক্সবাজার সদর ও চকরিয়া উপজেলায় অস্থায়ী ভাড়া অফিস খুলে কয়েক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ৭৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পলাতক হয়ে যায়। বর্তমানে অর্থলগ্নকারী কয়েক হাজার পরিবার তাদের মুলধন হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অভিযুক্তরা বিদেশে থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •