বিশেষ প্রতিবেদক

রোহিঙ্গাদের বন উজাড়ের কারনে খাবার সংকটে পড়ে বন্য হাতি এখন লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। খাবারের খোঁজে হানা দিচ্ছে ক্ষুধার্ত বন্য হাতির পাল।  সোমবার ভোরে কক্সবাজার শহরের পূর্ব কলাতলী চন্দ্রিমা হাউজিং এর দক্ষিণে জলুর সওদাগরের ঘোনা জলুর ঘোনায় একদল বন্য হাতি তান্ডব চালিয়েছে। এতে ভিয়েতনামীয় ওপি নারিকেলের ২০০ গাছের চারা ধ্বংস করেছে। যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ৩লাখ টাকা। শুধু তাই রাগান্বিত হাতিগুলো পার্শ্ববতী বসতভিটায় হামলা চালিয়ে আম, কাঁঠাল, নারিকেল গাছ সহ বিভিন্ন ফলজ গাছ উপড়ে ফেলেছে। এনিয়ে ওই এলাকায় বন্য হাতি আতংক বিরাজ করছে।

ক্ষতিগ্রস্থ বাগানের মালিক মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, ১ একর জায়গায় ২০০টির মতো ভিয়েতনামীয় ওপি নারিকেল গাছের চারা রোপন করি। পাশাপাশি পেঁপে গাছের চারাও লাগানো হয়েছে। গত বছর এসব চারা লাগানোর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। দেখা শুনার জন্য লোক নিয়োগ করেছি। পর্যাপ্ত পানির জন্য লাখ টাকা খরচ করে টিউবওয়েল বসিয়েছি। প্রতিটি গাছের জন্য ৪হাজার টাকা করে খরচ পড়েছে। সকালে আমাকে ফোন করে হাতির তান্ডবে সকল গাছের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আমি গিয়ে দেখলাম একটি চারাও ভালো নেই। আমি লোন নিয়ে এ কাজে নেমেছি। এখন আমি কি করবো ?

ওই এলাকার বাসিন্দা নাজির আহমেদ, হাদিম ও নুর আলম জানান, সোমবার ভোরে ৪টির মতো হাতি দেখতে পায়। ওইসব হাতি শোর দিয়ে সব কিছু গুড়িয়ে দিচ্ছে। হাতিগুলো নারিকেল গাছসহ অন্য চারাগুলো পা দিয়ে নষ্ট করছে। আমরা দূর থেকে চিৎকার করলেও হাতিগুলো যায়নি। পরে চলে যায়।

জানা যায়, প্রচলিত বিভিন্ন জাতের নারিকেল গাছ থেকে ফলন পেতে ৬ থেকে ৭ বছর লেগে যায়। এরপর গাছপ্রতি ৪০-৫০টি নারিকেল পাওয়া যায়। তবে ভিয়েতনামের ‘ওপি’ নারিকেল গাছের ফলন পেতে সময় লাগে আড়াই থেকে তিন বছর। সর্বোচ্চ পাঁচ ফুট উচ্চতার এই জাতের গাছে প্রথম কিস্তিতে নারিকেল ধরে ২০০-২৫০টি। ফলন পাওয়া যাবে ৪০-৫০বছর।

শুধু নারিকেল নয়, ওপি ডাবের পানি অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি ডাবে পানির পরিমাণ প্রায় ২০০-২৫০এমএল। লাভবান বলে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এখন হচ্ছে ওপি নারিকেলের চাষ।

অভিঙ্গ মহল বলছেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গা বন উজাড় করে বসতি গড়েছে। যেখানে বন্য হাতির আবাস্থল ছিলো। সংকট ছিলনা খাবারের। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশ করে। তারা পাহাড়ের পাদদেশে, আশ্রয় নেয়। পাহাড় ন্যাড়া করে গাছ পালা কেটে সাবাড় করে। বন্য হাতিরা দিক বেদিক ছুটতে থাকে। প্রথম প্রথম হাতির আক্রমনে এ পর্যন্ত অনেক রোহিঙ্গার মৃত্যুও হয়েছে। ফলে ক্ষুধার তৃঞা মেটাতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে হাতির পাল। যতোদিন না হাতির চলাচল ও আশ্রয়স্থল ছেড়ে দেওয়া হবেনা ততোদিন হাতিগুলো লোকালয়ে চলে আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এমনও হতে পারে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর বাড়ি ধ্বংসসহ মানুষও মারতে পারে। এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সদর কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জীবাংশু দাশ ও উপ সহকারী সুপন বড়–য়া জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভিয়েতনামের ওপি নারিকেল গাছের অনেক চারা ধ্বংস হয়েছে। যেগুলো পুশিয়ে উঠা সম্বব নয়। আমরা মঙ্গলবার সকালে (আজ) আবার যাবো। কি পরিমাণ চারা নষ্ট হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষতিতো অনেক। প্রযুত্তি কারিগরি সহায়তাসহ ক্ষতি পূরণেরও আশ্বাস দেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •