আতিকুর রহমান মানিক

উখিয়ার কোটবাজারের ভালুকিয়ার একটি কামারের দোকান থেকে বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এসব অস্ত্রের সঠিক নাম ও পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সোমবার সকাল ১১ টায় এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উখিয়া উপজেলার সহকরী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম।
ভালুকিয়া সড়কের একটি কামারের দোকান থেকে দেশীয় এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরনের জন্য বেসরকারী এনজিও সংস্হা মুক্তি এসব অস্ত্র তৈরী করতে দিয়েছিল বলে জানিয়েছেন কামার অধীর দাস।
এর আগে এসব অস্ত্রের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্হানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। স্হানীয়দের অভিযোগ এসব অস্ত্র রোহিঙ্গাদের সরবরাহের জন্য তৈরী করা হচ্ছে।
এর আগে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কামার অধীর দাশ থেকে ভিডিও সাক্ষাৎকার নেন উখিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সরওয়ার আলম শাহীন। সাক্ষাৎকারে কামার অধীর দাশ জানান, এনজিও মুক্তির জন্য পক্ষে প্রায় একমাস আগে ২,৬০০ পিস দেশীয় অস্ত্র তৈরীর অর্ডার দেন ভালুকিয়ার বাসিন্দা সাইফুল।
অর্ডার দেয়ার সময় ৩০ হাজার টাকা অগ্রীম দেন সাইফুল।
উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, এনজিও সংস্হা মুক্তির জন্য ভালুকিয়ার জনৈক সাইফুল এসব অস্ত্র তৈরীর অর্ডার দিয়েছিল। এসিল্যান্ড আরো বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্হা নেয়া হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিতরনের জন্য দেশীয় অস্ত্র তৈরীর ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্হানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুক্তির কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ বলেন, এ বিষয়ে  আমার সাথে কোন আলাপ আলোচনা করা হয়নি। টেন্ডার করা হয়েছে কিনা? তাও জানিনা।
তিনি বলেন, গত ২২ আগস্ট যে সভা হয়েছে সেখানেও এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবনা উত্থাপিত হয়নি। এমনকি আমাকে মৌখিকভাবেও এ বিষয়ে অবগত করেনি কেউ।

তবে মুক্তির পক্ষ থেকে এসব অস্ত্র রোহিঙ্গাদের জন্য নয় বলে দাবী করা হয়েছে । এক বিবৃতিতে জানান, টেকনাফ উপজেলাধীন হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ টি ওয়ার্ডে ৬০০ স্থানীয় উপকারভোগী পরিবারে সবজি চাষ প্রশিক্ষণ পরবর্তী বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরণ প্রদানের লক্ষ্যে সবজি বীজ, চারা, ভারমি-কমপোস্ট সার,পানির জার ও নিড়ানী সরবরাহের জন্য প্রকল্পে  টেন্ডারের মাধ্যমে গত ২৫ জুলাই ২০১৯ তারিখ মের্সাস কৃষি বিপনী (প্রোপাইটার: মোহাম্মদ আজিজুল হক (ঠিকানা বিমানবন্দর সড়ক মহিলা কলেজের সামনে কক্সবাজার) কে ২৬০০পিস নিড়ানী, সেক্স ফেরোমন ট্রাপ (গন্ধ যুক্ত কিটনাশক) ২৬০০পিস এবং পাইপ নজল (স্প্রেয়ার) ২৬০০পিস সরবরাহ করার জন্য কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক গত ২৮ মার্চ ২০১৯ তারিখে অনুমোদিত হয়। অনুমোদনের কপি যথারীতি এফডি-৭ সহ জেলা প্রশাসক কক্সবাজার, আরআরআরসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, টেকনাফ এবং সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পের সিআইসিদের প্রদান করা হয়। গত ৫ মে ২০১৯ তারিখে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, উপজেলায় কর্মরত এনজিও এবং হ্নীলা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে প্রকল্পটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটির উপকারভোগী বাংলাদেশী প্রান্তিক কৃষকদের বাড়ির আশেপাশে সবজি বাগানের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং তার অধিনস্থ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ চলছে। প্রশিক্ষণ শেষে নির্বাচিত উপকারভোগীদের মাঝে উল্লিখিত কৃষি উপকরণ সমুহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মর্কতা এবং হ্নীলা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হবে। প্রকল্পটিতে কোন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করা বা বিতরণ করার কোন কর্মসূচী নেই। সুতরাং মুক্তি কক্সবাজারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের মাঝে দেশীয় অস্ত্র সরবরাহের যে অপপ্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •