মোহাম্মদ হিজবুল্লাহ, পেকুয়াঃ

যোগাযোগ ব্যবস্থার হাল দেখে বোঝা যায় এলাকার উন্নয়ন। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। অথচ দীর্ঘদিন যাবত সংস্কারের অভাবে সেই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন হাজারো মানুষের জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। দুঃখজনক এমন পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় এলাকা উজানটিয়া ইউনিয়নের প্রায় আট হাজার বাসিন্দারা। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক কাদার স্তুপে পরিণত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রায় আট হাজার মানুষকে পায়ে হেটে গাড়ি স্টেশনে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উজানটিয়া ইউনিয়নের প্রধান এই সড়কটির প্রায় দুই কিলোমিটার কাদায় ভরপুর হয়ে গেছে। সড়কে থাকা ইট গুলোও খুলে নেওয়া হয়েছে সংস্কারের জন্য। এই সংস্কার কথা গুলো মুখের ভেতরেই রয়ে গেল। বাস্তব হয়নি কথা গুলোর ১% ও। সেই সাথে ইট গুলো খুলে নেওয়ার পরপরেই আসে বন্যার পানি। এই বন্যার পানিতে ভেঙ্গে কাদায় পরিণত হয়ে যায় সড়কটি। এরপর থেকে সড়কটির কোন সংস্কার কাজ হয়নি। সড়কটি দিয়ে মানুষের হাটা চলা এখন অস্বাভাবিক হয়ে পড়েছে। ঐ এলাকায় গড়ে উঠা স্টেশন করিমদাদ মিয়ার ঘাটের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ভাবে তাদের ব্যবসায় ধবস নেমেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা সঠিক সময়ে স্কুল মাদ্রাসায় পৌঁছা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এবং এলাকার অসুস্থ রোগীরা সঠিক চিকিৎসার জন্য দূরে কোথায় নিতে গেলে কোলে বা দোলনা করে নিতে হয়। সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ গেছে। হালকা বৃষ্টি হলে মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে এই সড়ক দিয়ে হাটতে পারেনা। অযথা আর অবহেলায় বর্তমানে সড়কটির বেহালদশা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী উজানটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম উল্লাহ বলেন, উপকূলীয় এলাকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে এতদূর থেকে আসি শুধু ছেলে মেয়ে গুলোকে সুশিক্ষা দিয়ে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে। কিন্তু সড়কেরর কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সঠিক সময়ে এসে ছেলে মেয়েদেরকে পাঠদান করা আমার জন্য চ্যালেঞ্জ হিসাবে দাঁড়িয়েছে। এবং স্কুলে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা ইউনিয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসে এই রাস্তাটি দিয়ে। এসব শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় প্রতিনিয়ত। আমরা সড়ক কতৃপক্ষের কাছে বিনীত আহবান জানাচ্ছি সড়কটি যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম বলেন, রাস্তাটির সংস্কারের বিষয়ে কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা হয়েছে বর্তমান ঠিকাদার সঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় নতুন ঠিকাদারকে কার্যদেশ দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •