জমি দখল করতে না পেরে

‘পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পথে বাধা সৃষ্টির মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে এক মামলাবাজ’

টেকনাফের হোয়াইক্যং নয়াবাজার এলাকার এক প্রবাসীর জমি দখল করতে না পেরে মিথ্যা অপপ্রচারে নেমেছে এক চিহ্নিত মামলাবাজ ও জমি দখলকারী। তিনি কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত অনলাইন-নিউজ কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করেছে। উক্ত বিবর্জিত বানোয়াট সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। যা সম্পূর্ন মিথ্যা এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
মূলত উক্ত মামলাবাজ এলাকার সাধারণ মানুষকে জিম্মী করে প্রশাসনকে বিভিন্ন ভূয়া তথ্য প্রদান করে সহজ-সরল নিরীহ মানুষকে হয়রানী করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। সর্বশেষ নয়াবাজার পূর্ব সাতঘরিয়া পাড়ার প্রবাসী হাজী সাবের আহমদের ছেলে কক্সবাজার সিটি কলেজ পড়–য়া ছাত্র এবং পুলিশ কনস্টেবল পরীক্ষায় সদ্য উত্তীর্ণ মোহাম্মদ রিদুয়ান এর বিরুদ্ধে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে অপপ্রচারে নেমেছে। এমন কাল্পনিক মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় হাস্যরস সৃস্টি হয়েছে। ধিক্কার জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করেছেন-সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল রিদুয়ান মিয়ানমারের নাগরিক। পরে অনুসন্ধ্যানে জানা গেছে, তিনি একজন বাংলাদেশের নাগরিক। বর্তমানে রিদুয়ান কক্সবাজার সিটি কলেজে অনার্স (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ১ম বর্ষে অধ্যায়নরত আছে। এবং তার পিতা-মাতা-দাদি-ফুফি ও বোন বাংলাদেশী আইডি কার্ডধারী। তার দাদা-দাদির আমল থেকে তারা এলাকায় বসবাস করে আসছে। তারা রোহিঙ্গা নাগরিক হলে কিভাবে ১৯৯৬ সালে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছে। তারমেধ্য রিদুয়ানের দাদীর ভোটার নাম্বার-৫৬১০৫০৬০২০৩২০৫৪৪, ফুফি ৫৬১০৫০৬০২০৩২০৫৪৬, পিতা-৫৬১০৫০৬০৩০৭১০১১৬ ও মায়ের-৫৬১০৫০৬০৩০৭২০১১৪। বর্তমানে ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয় পত্র অন্তর্ভুক্ত হয়ে বসবাস করে আসছে। তাদের ভোটার আইডি নাম্বার উল্লেখ করা হলো-পিতা সাবের আহমদ (২২১৯০৭৯৫৯৭০৫৮) মাতা মছুদা বেগম (২২১৯০৭৯৫৪৫০৪২) লিপিবদ্ধ আছে। মোহাম্মদ রিদুয়ানের পরিবার তথা পিতা সাবের আহমদ ২০০৬ সালে সরকারী হাজি হিসেবে হজ¦ পালন করেন। যার পাসপোর্ট নাম্বার-৯৯০৪৪০।
মূলত-নয়াবাজার পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়ার মৃত হাছন আলীর ছেলে নুরুল কবির একজন চিহ্নিত মামলাবাজ ও জমি দখলকারী। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তত অর্ডডজন মামলা। এলাকায়ও পরিচিত রয়েছে খারাপ লোক হিসেবে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সাতঘরিয়াপাড়ার নুরুল কবিরের বিরুদ্ধে রয়েছে জমি দখলের হরেক অভিযোগ। ২০০৬ সাল থেকে সেই কবিরের সাথে প্রবাসী হাজী সাবের আহমদের সাথে জমি বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জের ধরে ২০০৬ সাল থেকে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমাও চলে আসছে। এ ঘটনায় তার বিরোদ্ধে টেকনাফ থানায় ও কক্সবাজার আদালতে পৃথক মামলা রয়েছে। যেই জমির জন্য সমস্যা চলে আসছে সেই জমির তপশীল : মৌজা-মধ্যহীলা, থানা-টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার। বি,এস ২১৯নং খতিয়ানের বিএস ১০৩১১ নং দাগের. ৭৬ শতক।
তার বিরোদ্ধে জমি মালিক প্রবাসী হাজী ছাবের আহমদ বাদি হয়ে টেকনাফ থানায় ১১/০৬/২০১০ সালে ডাকাতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মছুদা বেগম বাদি হয়ে মামলা নাম্বার জিআর ৫২১/১৩। টেকনাফ থানা মামলা নং-৪৬। তারিখ-২৮/০৯/২০১৩ ইং। সেই মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। অপরদিকে তার বিরোদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আদালতে একটি আপিল মামলা করেছেন মছুদা বেগম। যার নাম্বার-১৫৩/২০১৫। যা এখনো বিচারাধীন। সর্বশেষ ২০১৯ সালের মার্চে রাতের আধারে রিদুয়ানের বাড়িতে তালাবদ্ধ করে জমি দখল করতে আসে দখলবাজরা। এ ঘটনায় উক্ত জমির উপর ১৪৪ ধারা জারির জন্য ২৭ মে ২০১৯ কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বরাবর একটি মামলা করেন। যার নং-এমআর ৫৪৫/২০১৯।
অনুসন্ধ্যান ও মামলা সুত্রে আরো জানা গেছে, বিগত ২১/০৫/২০০৭ ইং তারিখে ৬৯৯নং রেজিষ্ট্রি কবলামূলে বি,এস ২১৯ নং খতিয়ানের বি,এস ১০৩১১ দাগের ০.৪০ একর সর্বমোট (.৩৬+৪০)=.৭৬ একর জমি মছুদা বেগম খরিদ করে দখলামল প্রাপ্ত হয়ে তথায় কিছু অংশে বসতবাড়ী নিমার্ণ করে বাকী কিছু অংশে ঘেরা বেড়া দিয়ে পাডন্ডি খেত করিয়া সরে জমিনে ভোগ দখলে আছে।
তখন থেকে উক্ত জমি দখলকারী নুরুল কবির প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিয়ে খরিদা স্বত্বদখলীয় জমি জবর দখল করার পাঁয়তারা করে আসতেছে।
সেই কবির ভূমিদস্যু, ডাকাত গংদের বিরোদ্ধে ১১/০৬/২০১০ ইং তারিখ বসতগৃহে মারাত্মক অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হইয়া মারধর করে মালামাল ডাকাতি করায় তাহাদের বিরুদ্ধে জি,আর ২০৮/১০ ইং (টেকনাফ), টেকনাফ থানা মামলা নং- ১৫, তাং- ১২/০৬/২০১০ ইং, ধারা- ৩৯৪ দঃ বিঃ দায়ের করা হয়, যাহা বর্তমানে বিচারাধীন আছে।
এরপর বিগত ২৭/০৯/২০১৩ ইং তারিখ রিদুয়ানের বসতবাড়ী ও খরিদা জমি জবর দখল করার উদ্দেশ্যে বসতবাড়ীতে সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমন করে তার পরিবারের লোকজনকে মারাত্মক আহত করে। এঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে জি,আর ৫২১/১৩ (টেকনাফ) টেকনাফ থানার মামলা নং-৪৬ তাং ২৮/০৯/২০১৩ইং, ধারা-১৪৩/ ৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭;৪২৭/৫০৬ দঃ বিঃ দায়ের করি, যাহা বর্তমানে বিচারাধীন আছে।
তারপর সেই নুরুল কবির তার জমি দাবী করে প্রকৃত জমি মালিক মছুদা বেগমের বিরোদ্ধে তপশীলোক্ত জমি সংক্রান্তে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কক্সবাজার-এ এম,আর ২৪৪/১৩ ইং মামলা দায়ের করিলে, তাহা টেকনাফ উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন তলব করিলে, সমাজসেবা অফিসার সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করিলে বিজ্ঞ আদালত উক্ত এম,আর ২৪৪/১৩ নম্বর মামলা খারিজ করে দেন।
সর্বশেষ এতোকিছুর পরেও ক্ষান্ত না হয়ে বিগত ২৫/০৪/২০১৯ ইং তারিখ রাতে মারাতœক অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী মিলে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত রিদুয়ানের বসতগৃহের দরজার বাহিরে তালাবদ্ধ করে খরিদা স্বত্ব দখলীয় তপশীলোক্ত জমিতে হাঙ্গামাগৃহ নির্মাণ করার চেষ্টা করলে মোবাইল ফোনে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহের তালা ভেঙ্গে বাহির করে এবং তাদের গৃহ নির্মাণের সরনঞ্জামাদী সরে ফেলে।
পরে অভিযুক্তদের বিরোদ্ধে স্বত্ব দখলীয় জমিতে জোর অনাধিকার প্রবেশ করে ঘর নির্মাণ করার জন্য নির্মাণের সরঞ্জামাদি ও অস্ত্র এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র তার এক আত্বীয় জুলফিকারের বাড়িতে রাখে। তারপর রাতের আধারে ঘর নির্মাণ করলে সেখান থেকে পুলিশ নুরুল কবির কে আটক করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে ঘর ভেঙ্গে ফেলবে মর্মে মুচলেকা দিয়ে এবং উক্ত জমির বিষয়ে আর কোন ঝগড়া বা দখল করবে না বলে অঙ্গিকার করেন। সেই থেকে এখন তার মিয়ানমারের বিয়াইয়ের আত্বীয়-স্বজনদের সাথে সখ্যতা বজায় রেখে জমি দখল করতে না পেরে নানান দুষমনি করে আসছে। সর্বশেষ প্রবাসী হাজী ছাবের আহমদের ছেলে মোহাম্মদ রিদুয়ান ২০১৯ সালে কক্সবাজার জেলা পুলিশে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিয়োগপ্রাপ্তি নিশ্চিত দেখে দুষমনি করে সাংবাদিক ভাইদের মিথ্যা তথ্য রোহিঙ্গা নাগরিক বলে অপপ্রচারে নেমেছে।
এব্যাপারে পুলিশ কনস্টেবল (উত্তীর্ণ) মোহাম্মদ রিদুয়ান বলেন-আমার বাপ-দাদার আমল বাংলাদেশী। বর্তমানে আমি কক্সবাজার সিটি কলেজে অনার্সে অধ্যায়নরত আছি। পুলিশ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় এবং মেডিকেল টেস্ট সম্পন্ন হয়। এরপর টেকনাফ থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তদন্ত করে জেলা পুলিশে রিপোর্ট জমা দেয়। এরমাঝে আমাদের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধকারী নুরুল কবির পত্রিকা ও বিভিন্ন দপ্তরে আমার বিরোদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়।
তিনি দ্রুত আনীত মিথ্যা অভিযোগটি তদন্তপূর্বক যাচাই-বাছাই করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান। এবং উক্ত মিথ্যা ভূয়া সংবাদে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহবান জানান।
প্রতিবাদকারী
মোহাম্মদ রিদুয়ান (পুলিশ কনস্টেবল উত্তীর্ণ)
পিতা: সাবের আহমদ
মাতা: মছুদা বেগম
গ্রাম : পূর্ব সাতঘরিয়াপাড়া, হোয়াইক্যং, টেকনাফ, কক্সবাজার।

সর্বশেষ সংবাদ

রামু থানার অভিযানে ইয়াবা নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতাসহ আটক ২

এড. নজরুল ইসলাম আর নেই , জেলা আইনজীবী সমিতির শোক

বর্ণাঢ্য আয়োজনে কক্সবাজারে ২দিনব্যাপি সিসিমপুর মেলা শুরু

বিএনপি নেতা দুদুকে আইনের আওতায় আনার দাবিতে উখিয়া ছাত্রলীগের বিক্ষোভ

নিরাপদ সড়ক ও মানব ঝুঁকি

হাজীপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন উত্তর ডিককুল ক্রিড়া সংস্থা

মাদক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ছোবল রোধে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই

উখিয়ায় এনজিওকর্মী হত্যাকান্ডের পিছনে রয়েছে পরকীয়া

কক্সবাজার-রামুর উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে- এমপি কমল

সাকসেস ইন লাইফ

বহর নিয়ে এমপি কমলকে বরণ করলেন ঝিংলজার আ.লীগ নেতা আমিন

এনজিও কর্মী মাজহার হত্যার আসামী আলাউদ্দিন আটক

খানাখন্দে ভরা পোকখালী মুসলিম বাজার সড়ক

চিকিৎসার জন্য ভারত যাচ্ছেন খুরুশকুল ইউপি চেয়ারম্যান জসিম

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার- ২২

আদালত ও ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনে কক্সবাজার আসছেন বিচারপতি বোরহান উদ্দিন

কক্সবাজার জেলা তাঁতী দলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

চকরিয়া পৌর এলাকায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরসিসি সড়ক নির্মান উদ্বোধন

বাংলাদেশী ১০ নারীকে ভারত থেকে বেনাপোলে হস্তান্তর

মসজিদের নগরী ঢাকা আজ ক্যাসিনোর নগরী : যুবদলের মানব বন্ধনে লুৎফুর রহমান কাজল