মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রত্যাবাসন স্থগিত ঘোষনার জন্য ২৬ নম্বর ক্যাম্পে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং এ চীনের প্রতিনিধি ঝেং তিয়াানঝু বলেেছেন, শরনার্থী প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতার দায়িত্ব নিয়েছে তাঁর দেশ চীন। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় বিস্ময়কর প্রশ্ন হলো-রোহিঙ্গা শরনার্থীরা কেন তাদের স্বদেশে ফিরতে চাচ্ছেনা? কেন তারা মিয়ানমারের সরকারের ওপর আস্থা রাখতে পারছেনা। এ আস্থা সৃষ্টির জন্য মায়ানমার সরকার কেন উদ্যোগী হচ্ছেনা। এসময় উপস্থিত মিয়ানমারের কূটনীতিকের কাছে গণমাধ্যম কর্মীরা এসব প্রশ্ন বারবার তুললেও মায়ানমারের প্রতিনিধির কাছে কোন জবাব মিলেনি, তিনি এসময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ ছিলেন, কোন বিষয়ে মুখ খোলেননি। বৃহস্পতিবার চীনের মধ্যস্থতা এবং তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল দ্বিতীয় দফে ব্যর্থ হওয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায়। দ্বিতীয় দফায় ব্যর্থ হওয়া প্রত্যাবাসন চেষ্টায় দেশটির দু’জন প্রতিনিধি বুধবার থেকে কক্সবাজারে স্ব-শরীরে উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মিয়ানমারের একজন প্রতিনিধিও। তিনি বাংলাদেশস্থ মিয়ানমার দূতাবাসের কূটনীতিক। তারা স্বচক্ষে দেখেছেন বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কতটা উদগ্রিব ও প্রস্তুত ছিলো। কিন্তু যে কাজটি বাংলাদেশ সরকারের আওতা বহির্ভূত তা হলো, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের তাদের নিজ দেশে যেতে রাজী করানো। এটি একান্তভাবে মিয়ানমার সরকারের নিজস্ব বিষয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, মিয়ানমার যাদের গ্রহণে অনাপত্তি দিয়েছে তাদের প্রত্যেকের সাক্ষাতকার নেয়া হবে। এ সাক্ষাতকার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। রোহিঙ্গা শরনার্থীদের কাছে-জানতে চাওয়া হবে, তারা স্বেচ্ছায় মিয়ানয়ারমারে ফিরতে রাজী কিনা? যদি একজন রোহিঙ্গা শরনার্থীও স্বদেশে ফিরে যেতে আগ্রহী পাওয়া যায়, তাকে সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তের নির্ধারিত ট্রানজিট পয়েন্টে পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে পৌছাবে বাংলাদেশ সরকার। এ প্রস্তুতি সব সময় বাংলাদেশ সরকারের থাকবে। প্রত্যাবাসন সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলেছেন, দ্বিতীয়বারের মতো এবারের চেষ্টা ব্যর্থ হলেও এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রত্যাবাসনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। এতে বাংলাদেশের কোন গাফলতি ও অবহেলা যে ছিল না, সেটা সারা বিশ্ব দেখেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. আবদুল মোমেনও তাই বলেছেন-বাংলাদেশ পুরোদমে প্রস্তুত ছিলো। কিন্তু জোর করে তো কিছু করা যাবে না। বাংলাদেশ সরকার এটা কখনো করবেও না। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম এনডিসি (অতিরিক্ত সচিব) যখন প্রত্যাবাসন বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে ব্রিফ করছিলেন-তখন ওই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ঢাকাস্থ চীন দূতাবাসের দু’জন প্রতিনিধি এবং মিয়ানমার দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। আরআরআরসি আবুল কালাম এনডিসি (অতিরিক্ত সচিব) বলছিলেন, এ পর্যন্ত ২৯৫ টি পরিবার থেকে সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে। কিন্তু এসব পরিবারের কেউই মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেনি। তবে এই কর্মসূচী নিয়মিত অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুক্রবার ২৩ আগস্ট থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাস ও ট্রাকগুলো উপস্থিত থাকবে সেখানে। প্রত্যাবাসনে আগ্রহী কোন শরণার্থী এলেই পরিবহণগুলোতে করে তাদের সীমান্তে পৌঁছে দেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •