ডেস্ক নিউজ:
র‌্যাবের অভিযানে চিহ্নিত জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেডকে’ নাশকতার জন্য অর্থায়ন এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুই মামলায় ৬১ আসামির বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

একইসঙ্গে মামলার মূল আসামি সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থী আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। শাকিলা ফারজানা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক। প্রয়াত বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল হালীম এ আদেশ দেন বলে জানান ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনোরঞ্জন দাশ।

অ্যাডভোকেট মনোরঞ্জন দাশ বলেন, হাটহাজারী ও বাঁশখালী থানায় দায়ের হওয়া পৃথক দুইটি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন। ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মনোরঞ্জন দাশ জানান, হাটহাজারীর মামলায় ৩৩ জন আসামি ও বাঁশখালীর মামলায় ২৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী উপজেলায় মাদরাসাতুল আবু বকর নামে একটি মাদরাসায় ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে’ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী উপজেলার লটমণি পাহাড়ে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব-৭ এর কর্মকর্তারা জানান, হাটহাজারী ও বাঁশখালী থেকে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা নতুন জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সদস্য। শহীদ হামজা ব্রিগেডের তিনটি সামরিক উইং আছে। এগুলো হলো- গ্রিন, ব্লু এবং হোয়াইট। প্রত্যেক উইংয়ে সাতজন করে সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য আছেন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রাম নগরের ফয়’স লেকে একটি রেস্টুরেন্টে সভা করে এই জঙ্গি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটান সংগঠকরা।

পরে ১৮ আগস্ট হামজা ব্রিগেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ঢাকা থেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা (৩৯), অ্যাডভোকেট হাসানুজ্জামান লিটন (৩০) ও অ্যাডভোকেট মাহফুজ চৌধুরী বাপন (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •