ফারুক আহমদ, উখিয়া :
ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে উখিয়ার ইউনিয়ন পরিষদসমূহের ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজ বাধ্য হয়ে সরকারি নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ২/৩ গুণ বেশি প্রদান করছেন।
গত সোমবার বিকেলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজামান চৌধুরী, জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করেন। ঐ সময় হয়রানির শিকার জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে ডিজিটাল তথ্য সেবা কেন্দ্র অভিযান চালান।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী গত ১৮ আগস্ট হতে ৫ টি ইউনিয়নে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এদিকে নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হাতে ২১ ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। তৎমধ্যে জাতীয় সনদ, জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, বিদ্যুৎ বিল, বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার, অনলাইন জন্ম তারিখ ইত্যাদি।

এসব প্রয়োজনীয়  কাগজপত্র স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উল্লেখিত কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হয়। অভিযোগে প্রকাশ, এই সুযোগে নতুন ভোটার তালিকায় আগ্রহীদের নিকট থেকে ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রের পরিচালক ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ অতিরিক্ত ফি দিতে না চাইলে নানা বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হতে হয়।

এনিয়ে নাগরিক সমাজের মধ্যে  দিয়েছে চরম অসন্তোষ। ভুক্তভোগীরা আরো অভিযোগ করে জানান, জন্ম নিবন্ধন সনদ সরকারি ফি ৩০ টাকার স্থলে ১ থেকে ২শ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এভাবে অন্যান্য কাগজ থেকেও অতিরিক্ত ফি আদায় করছে।

অপরদিকে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জালিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন ও ডিজিটাল তথ্যসেবা কেন্দ্রে অভিযান চালান। এসময় বেশ কিছু কাগজপত্র ও নগদ অর্থ দেখতে পান। ওই সময় তিনি দায়িত্বরত পরিচালকগণ কে কোন অবস্থাতেই সরকারি ফি ব্যতীত অতিরিক্ত টাকা আদায় না করার জন্য সতর্ক করে দেন।

এ ব্যাপারে জালিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান চৌধুরীর নিকট জানতে চাইলে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে জালিয়াপালং সহ অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদে তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •