একটি রাত

প্রকাশ: ২০ আগস্ট, ২০১৯ ১২:৪৪

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


মাহদী হাসান রিয়াদ

আট-দশটি রাতের মতো,সে রাতটিও ছিলো স্বাভাবিক একটি রাত। চারদিক বরাবরই নীরব আর নিস্তব্ধ। ছিলো না পশুপক্ষীর গুঞ্জন, কিংবা কারোর ডাকাডাকি। যান্ত্রিক শব্দও তেমন কানে আসে নিই।বলা যায় পুরোপুরি নিস্তব্ধ।এই গ্রহের কুল মাখলুক যেনো অসাড় হয়ে ঘুম রাজ্যের প্রজা বনে গেছে তখন।
কিন্তু, ভিন্নধর্মী একজন পাগল নাকি তখনো সজাগ ছিলো। নির্ঘুমে কাটিয়ে ছিলো পুরো রাত।
কিন্ত কোনো?

পাগলা সেদিন রাতে পথ হারিয়ে নাকি পৌঁছে যায় স্বপ্নের রাজ্যে।
স্বপ্ন রাজ্যের সবকটি এলাকায় তার অপরিচিত। আর পরিচিত হবেই বা কেনো? স্বপ্ন রাজ্যে কখনোই যে যাওয়াআসা হয়নি তার। তাহলে তো না চেনার’ই কথা।

এদিকসেদিক তাকিয়ে সে ভেবাচেকা খেতে লাগলো। সে সাথে ভয়ও পাচ্ছে বেশ।কিইবা করার,যেভাবেই হোক ক্ষণিকের জন্য হলেও তো জায়গা করে নিতে এ রাজ্যে। কিন্তু কে হবে তার পথপ্রদর্শক? কে দেবে একটুখানি টাই?কেউ আদৌও আসবে কি?

অবশেষে অকস্মাৎ কে যেনো চলে এলো! রূপ-লাবণ্যে ভরপুর। তার রূপের ঝলকে রীতিমতো পাগলা ঝলসে যাচ্ছে। অবাকবিস্ময় তাকিয়ে রইলো তার টানাটানা চোখের দিকে।
পাগলা দেখছেই তো দেখছে,তার দেখা শেষ হবার নামনিশানা অবধি নেই। শুধু দেখলেই কী হবে? আসল কাজ যে এখনো বাকি।

অতঃপর দেখিয়ে দিলো পথ। সে সাথে
চলন্ত ট্রেনের মতো বিরতিহীন কথোপকথন চলতে লাগলো দু’জনের মধ্যে।মাশাআল্লাহ, ব্যাবহারও খুব অমায়িক।বলনের মধুরতায় পাগলার হৃদয় যেনো খোঁজে পেলো প্রশান্তি। সে তো গদকণ্ঠের অধিকারী।শান্তি তো পাবেই।

পাগলের কাছে জানতে চাইলাম; আচ্ছা,সেদিন রাতে এমন কী হয়ে ছিলো যাতে করে পুরো রাত তোমার পলকেই ফুরিয়ে গেলো, এবং নির্ঘুমে রাত কাটালে?
এ কথা বলতে না-বলতেই তার চোখেমুখে ফুটে ওঠলো বিষণ্ণতার ছাপ।ঝাপসা আলোয় ছেয়ে গেলো তার হাসিমুখ খানা।
তাকে যেনো মনে করিয়ে দিলাম বিষাদময় একটি রাতের কথা।
এড়িয়ে যাওয়ার পায়তারা শুরু করে দিলো। এ্যাহ,আমি ও বাপু যেমনতেমন পাবলিক নই, নাছোড়বান্দা। একপর্যায়ে বলতে রাজি হলো,আমিও নড়েছড়ে বসলুম।

আহা,সেই রাতটি ছিলো আমার কাছে সার্প্রাইজ।সে রাতের অনূভুতি প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার জানা নেই।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আমার জীবনের সেরা এবং অনন্য একটি রাত। ব্যাকুল হৃদয়ের সবটুকু আবেগ সেদিন’ই আমি প্রকাশ করে ছিলাম।আত্মবিশ্বাস নিয়ে নির্ভয়ে বলে ছিলাম মনপিঞ্জরে বন্দী করে রাখা কথা গুলোও। অনন্তকাল পথপ্রদর্শক বানাতে চেয়ে ছিলাম তাকে। সারারাত এভাবেই প্রশ্ন/উত্তর/প্রতিত্তোরের মধ্যে দিব্যি রাত কাটতে লাগলো।
কিন্তু, শেষ সময়ে আমার স্বপ্নের শহরে তুফান গতিতে আঘাত হানে কালবৈশাখী!লণ্ডভণ্ড করে দেয় আমার স্বপ্নের কুঁড়েঘরটিও।
সেদিন অনুভব করে ছিলাম,মন ভাঙ্গার কষ্ট কতোটা প্রকট আর তীব্র হতে পারে। তবুও একটি চাওয়া; ভালো থাকুক,সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক কল্পনার রাজকুমারী।

অসম্ভবের নিগূঢ় আবছা সরিয়ে, খুলে দাও সম্ভাবনার দুয়ার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •