কক্সবাজারের সাংবাদিকতার যতকথা : পর্ব-সতের

আজাদ মনসুর ॥

পাঠক, গেল পর্বে বলছিলাম ওয়েজ বোর্ড ও সংবাদপত্রে মজুরী বোর্ড নিয়ে লেখার কথা। তা অবশ্যই লিখবো, তবে বিষয়গুলো নিয়ে লিখবার আগে আরও কিছু বিষয়ে অবগত করবার দরকার আছে। আবার অনেক পাঠক মোবাইলে ও ইনবক্সে মতামত দিয়েছেন। কক্সবাজারের সাংবাদিকতার যতকথায় যতগুলো বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে এহেন সমস্যা পুরো দেশে বিদ্যমান। ফলে শিরোভাগ ঠিক রেখেই আলোচনা যাতে শুধুমাত্র কক্সবাজার কেন্দ্রিক না হয়। আপনারা বলেছেন পুরো বাংলাদেশের সাংবাদিকতার দৃশ্যপট যাতে উঠে আসে। ফলে কক্সবাজারের সাংবাদিকতার যতকথা’র সব পর্বগুলোই জাতীয় প্রেক্ষাপটে ভূমিকা রাখবে মনে মনে করেছেন।

আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ সব পর্বগুলো আন্তরিকতার সাথে পড়ে অন্তত মতামত ও বিভিন্ন অভিযোগ প্রদান করছেন। আমার লেখনির ধারাবাহিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও সংবাদ মাধ্যমের একটা অংশে ভিত্তিহীন বিষয়কেও খবর বানানোর প্রবণতা আছে। আইনে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকলেও খুব কম ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রতিকার পান বলে মনে করেন অনেকে। যেটার আসলে কোনো ভিত্তি নেই। হলুদ সাংবাদিকতা ও ভুয়া সংবাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটা কি? এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। কক্সবাজারের সাংবাদিকতার যতকথার আজকে সতের পর্ব।

এই দু’টোর মধ্যে যতটুকু না পার্থক্য তার চেয়ে মিলটাই বেশি। হলুদ সাংবাদিকতায় সেই বিষয়টাই তো ছিল। যেটা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আপনি লিখলেন, আসলে সেটার কোনো ভিত্তি নেই বা অতিরঞ্জিতভাবে লিখছেন। সংবাদকর্মী হতে গেলে তার যে দায়-দায়িত্ব রয়েছে, সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে যে দায়-দায়িত্ব নিয়ে করতে হয়, এখন আপনি যদি তার উল্টোটা করেন, তাহলে নিশ্চয়ই সমাজে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। হলুদ সাংবাদিকতাকে আমি সাংবাদিকতা বলতে চাই না। এই রকম অনেক সাংবাদিক আছে যারা আমার কথায় একমত হবেন। আপনি যে সংবাদটি প্রকাশ করলেন, সেটি ব্যক্তি হোক, প্রতিষ্ঠান হোক বা কোনো মহল নিয়ে হোক, এর একটা নেতিবাচক প্রভাব তো পড়বেই৷ এভাবে তো সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হবে।

নিঃসন্দেহে সাংবাদিকতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাংবাদিকতার যে নৈতিক মানদ- রয়েছে, সেটা তো তার সততা। যেটা সংবাদ নয়, সেটাকে যদি আপনি সংবাদ বানিয়ে ফেলেন, তাহলে তো পেশা হিসেবে এটার কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকে না। এটা যে সত্যতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা তো আর টেকে না। ভুয়া সংবাদ আসলে কোনো সংবাদই নয়, এটাকে আপনি কোনোভাবেই সংবাদ বলতে পারেন না। মানহানিটা হলো- সংবাদের ভেতরে ভুল হতে পারে। আপনি অনিচ্ছাকৃতভাবেও ভুল করে থাকতে পারেন। ইচ্ছাকৃতভাবেও কেউ চেষ্টা করে থাকতে পারেন। সেটার পুরোটাই হয়ত অসত্য নয়। ভুয়া সংবাদের কোনো ভিত্তিই থাকে না৷ যেসব সাংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে টিকে আছে, এই ধরনের সংবাদে তারা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাঠকদের পক্ষে কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয়, সেটার পার্থক্য করা সম্ভব নয়।

আমি মনে করি, যত বেশি প্রশিক্ষণ নেয়া যায়, তত আপনার দক্ষতা বাড়বে। যিনি ভুয়া সংবাদ দিচ্ছেন, তিনি ইচ্ছে করে এটা দিচ্ছেন কি-না সেটা ভেবে দেখবার বিষয়। যিনি এই সংবাদটি দিচ্ছেন, তার আসলে সংবাদ লেখার দক্ষতা কতখানি? তিনি আসলেই এই সংবাদটা সঠিকভাবে লিখতে পারেন কি-না, সেটাও দেখার বিষয়। দক্ষতা যখন বাড়বে, তখন আমরা ধরেই নিই যে, তিনি আর ওই লাইনে যাবেন না। আরেকটা হলো, সাংবাদিক কে বা কাকে আপনি সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। তার একটা স্বীকৃতির প্রয়োজন। তিনি যে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন, ওই গণমাধ্যমের দায়িত্ব হবে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে একটা সময় পর কার্ড দেয়া বা স্বীকৃতি দেয়া।

এ ব্যাপারে একটু নিয়মতান্ত্রিক বা কঠোর হওয়া প্রয়োজন। আর একটা হলো, মানুষ যখন সচেতন হবে, সাংবাদিকতা নিয়ে ভাববে, এটা দেখবে, তখন এগুলো আর টিকবে না। এখন কথা হচ্ছে যদি এভাবে চলতে থাকে? কিভাবে আপনি বেতন/ভাতাদি ঠিক করবেন? সাংবাদিকতায় যখন নাম লিখা হলো তখন তাকে তো আপনি বেতন/ভাতাদি না দিয়ে পারবেন না। তাই সাংবাদিকদের নিয়োগ দেয়ার সময় সব বিষয়ে যাচাই করে দিতে হবে। আপনি নিজে ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন/ভাতাদি পাচ্ছে। আবার দেখা যাবে আপনি ওই অদক্ষ, ভুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে লিপ্ত সাংবাদিক নামধারির জন্যও আপনি সুপারিশ করছেন কোন মাধ্যমে। ফলে এভাবে দখল করছে গণমাধ্যম চিহ্নিত অপরাধিরা।

সেই সাথে সমাজের মানুষকে বিভ্রান্তির পথে ঠেলে দেয়। এমনকি সামাজিক অপরাধ জগতেও জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। আবার এমনও শোনা যায় অপরাধ জগত থেকে বেরিয়ে এসে কলঙ্ক ঢাকার জন্য কেউ কেউ এ পেশায় এসে হলুদ সাংবাদিকতা চর্চা করে। যারা হলুদ সাংবাদিকতা চর্চা করে তারা প্রকৃত সাংবাদিক নয়, তাদের এ পেশা থেকে দুরে থাকা উচিৎ। হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ হলে সবার জন্যই মঙ্গল। কারণ সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র হচ্ছে বৃদ্ধিবৃত্তি চর্চার এক পবিত্র শিক্ষা কেন্দ্র। যেখান থেকে যে কেউ এ পেশাকে সমাজের কল্যাণের জন্য বেছে নিতে পারেন। এখানে উল্লেখ করা যায়, সাংবাদিকতায় কর্মদক্ষতা অর্জনের জন্য অবশ্যই অনুশীলন করতে হবে। অনুশীলন হচ্ছে জ্ঞানের উৎস।

একজন সাংবাদিক কিভাবে লোক সমাজে নিজেকে উপস্থাপন করবেন তার উপরও শিক্ষা ও রুচি জ্ঞান থাকার দরকার। পোশাক, ভাষাজ্ঞান, আচার, ব্যবহার এসবই একজন সাংবাদিকের মর্যাদার মাপকাঠিতে বিবেচিত হয় লোকসমাজে। আমাদের দেশে বহু গুনি সাংবাদিকের জন্ম হয়েছে। তাদের জীবন থেকে একজন তরুণ সাংবাদিকের শিক্ষা নেওয়া দরকার। যদি এমনটা চলতে থাকে তাহলে সমাজের খারাপ মানুষগুলোর দখলে চলে যাবে। আপনি একজন সিনিয়র সাংবাদিক কিন্তু আপনাকে সে যদি মাসিক মাসোহারা দেয়, আপনাকে নম দেয়, তৈল মালিশ করতে দ্বিধা না করে তাহলে তাকে তো আপনি সমাজের সর্বোচ্চ আসনেই বসাবেন। তার গ্রহণযোগ্য বা শিক্ষা-দিক্ষার কোন বালাই আছে কিনা ওই খবর আপনার রাখবার সময় কই? চলবে…

লেখকঃ আজাদ মনসুর (এম.এ, এলএল.বি) শেষবর্ষ

আইটি স্পেশালিষ্ট, প্রণেতা-কক্সবাজার সাংবাদিক কোষ, সভাপতি-কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদ (সিএসএস)

ধুধফপড়ী৯০@মসধরষ.পড়স ০১৮৪৫-৬৯ ৫৯ ১৬

সর্বশেষ সংবাদ

টাইগারদের জয়ের বন্দরে পৌছে দিল সাকিব

নাইক্ষ্যংছড়ি পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময়ী এলাকা -অতিরিক্ত সচিব মোঃ আতিকুল হক

দুই মামলায় জি কে শামীম ১০ দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রামে তিন ক্লাবে র‌্যাবের অভিযান, দুটিতে মিলেছে জুয়ার সরঞ্জাম

দুর্নীতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ নেতারা দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে

মরহুম রশীদ আহমদের ৩১ তম মৃত্যু বার্ষিকী রবিবার

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা ‘আই লাভ ইউ’: যুবলীগ চেয়ারম্যান

প্রশিক্ষণ পেশার উৎকর্ষতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে : এসপি মাসুদ

রামুর অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুকের জানাযা সম্পন্ন 

চট্টগ্রামে ৪ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

এনজিওকর্মী মাজহার খুনের ঘটনায় মামলা, স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর

‘পৃথিবীতে ইসলাম ছাড়া কোনো ধর্ম থাকা উচিত নয়’

পদুয়ার মাদক কারবারী কাইছার গ্রেফতার

মগনামার চেয়ারম্যান ওয়াসিমকে বিএনপি থেকে বহিস্কার

হুফফাজুল কুরআন সংস্থার জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন

হাটহাজারীতে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার

বঙ্গবন্ধু হত্যার পরিকল্পনাকারী এখনো তৎপর – ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

চকরিয়ায় মা’কে মেরে দাত ফেলে দিল ছেলে!

জিয়ার মাজারে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদল – খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার শপথ

মাতামুহুরী নদী ভাঙ্গন : দুই দশকে বসতি হারিয়ে ১০হাজার পরিবার গৃহহীন