আল্ জাবের,উত্তর মহেশখালী:
মহেশখালী উপজেলার জনবহুল এবং ব্যস্ততময় একটি ইউনিয়ন কালারমারছড়া। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দুরত্বে এ ইউনিয়নের অবস্থান। কক্সবাজার জেলার প্রথম শহীদ পরিবারের সন্তানের জন্ম এ কালারমারছড়াতে। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সেলিমকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন জনগণের মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তারেক বিন ওসমান শরীফ। তিনি কালারমারছড়া ইউনিয়নের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান মরহুম ওসমান গনির সুযোগ্য সন্তান। মরহুম ওসমান গনি চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন এবং জেলার প্রথম শহীদ পরিবারের সন্তান। চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনিও খুব জনপ্রিয় ছিলেন। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্শ্বান্বিত হয়ে একটি সন্ত্রাসী মহল তাকে প্রকাশ্যে খুন করে। তখন থেকে কালারমারছড়াবাসী ওসমান গনি পরিবারের কাউকে তাদের কাছে জনপ্রতিনিধি হিসেবে পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত বিগত কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছিলেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। উক্ত নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে চমক দেখিয়েছেন তারেক বিন ওসমান শরীফ। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার পিতা ওসমান গনি চেয়ারম্যানের পদাংক অনুস্মরণ করে চলেছেন। তার পিতা যেমন করে কালারমারছড়ার ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ঠিক তেমনি করে তারেক চেয়ারম্যানও কালারমারছড়া ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। তিনি কালারমারছড়া ইউনিয়নকে ঢেলে সাজাতে প্রথমে গুরুত্ব দিয়েছেন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে। তার আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় ইতোমধ্যে কালারমারছড়া ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হয়েছে।

সরেজমিন দেখা যায় যে, যেখানে রাস্তা ছিলনা সেখানে তিনি রাস্তা করে দিয়েছেন।যেখানে রাস্তা পাকাকরণ ছিলনা সেখানে তিনি রাস্তা পাকাকরণ করে দিয়েছেন। যেখানে কালভার্ট, গাইডওয়াল, ড্রেন ছিলনা সেখানে এগুলো করে দিয়েছেন। মাটি ভরাট করে রাস্তার উপর ব্রিক সলিন করে দিয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সাথে সাথে বেড়েছে এতদঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মানও। কালারমারছড়ার জনগণ তারেক বিন ওসমান শরীফকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে ভুল করেননি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। তারা চেয়ারম্যান তারেককে আধুনিক কালারমারছড়ার উন্নয়নের রূপকার হিসেবে অভিহিত করেছেন। জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে তার নিরলস প্রচেষ্টা ও পরিকল্পিত উন্নয়ন সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।
তারেক চেয়ারম্যানের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প হলো -ফকিরজুম পাড়া রাস্তা পাকাকরণ ও ব্রিক সলিন, কালারমারছড়া বাজার হতে ধলঘাটা যাওয়ার রাস্তা পাকাকরণ ও গাইডওয়াল নির্মাণ, কালারমারছড়া দরবার সড়ক সংস্কার ও ব্রিকসলিন, উত্তর ঝাপুয়া পাহাড়তলী এলাকায় ব্রিজ নির্মান, সর্দারঘোনা এলাকায় ব্রিজ নির্মান, নাপিত পাড়া রাস্তার সংস্কার, ইউনুছখালী এলাকায় রাস্তা সংস্কার, বড়ুয়া পাড়া এলাকায় রাস্তা সংস্কার, অফিস পাড়া রাস্তায় ব্রিকসলিন ও গাইডওয়াল নির্মাণ, নয়াপাড়া রাস্তায় ব্রিজসহ ব্রিকসলিন ও দুই পাশে ড্রেন নির্মাণ, পূর্ব নয়াপাড়া রাস্তায় কালভার্টসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, ঘোনাপাড়ায় মাটি ভরাট করে রাস্তাসহ গাইডওয়াল নির্মান, চিকনীপাড়ায় রাস্তা পাকাকরণসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, ঘোনাপাড়া রাস্তায় গাইডওয়াল নির্মাণ, পশ্চিম মারাক্কাঘোনা এলাকায় রাস্তাসহ গাইডওয়াল নির্মাণ, মাইজ পাড়া এলাকায় রাস্তাসহ গাইডওয়াল নির্মাণ। এছাড়া আরো বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং চলমান রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও জনগণের ন্যায় বিচারে তিনি অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তার নিরলস প্রচেষ্ঠায় কালারমারছড়ার যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক দুর এগিয়ে গেছে বলে মনে করেন সচেতন এলাকাবাসী।

কালারমারছড়ার চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ জানান, এলাকার জনগণ তাদের সবচেয়ে মহামূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। তাদের এ ঋণ কোন দিন শোধ করার মতো নয়।

তিনি আরো বলেন, কালারমারছড়া ইউনিয়নকে উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করতে চাই। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নেও অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও কালারমারছড়ায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এব্যাপারে উর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনাও হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •