ইমাম খাইর, সিবিএন:
কক্সবাজার জেলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের গত দুই দিনে (৬ ও ৭ আগস্ট) সাঁড়াশি অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৭ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া সুলতানা এ সাজা প্রদান করেন।
৭ আগস্ট ইয়াবাসহ আটক হয়ে সাজাপ্রাপ্তরা হলো -কক্সবাজার সদরের পোকখালী সিকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের ছেলে, বর্তমান শহরের পূর্ব মাছবাজার রাখাইন পাড়ার বাসিন্দা জসিম উদ্দিন (৪০), মহেশখালী শাপলাপুলের জাগিরাঘোনা এলাকার মৃত মোঃ ইসহাকের ছেলে শফিকুর রহমান (৪১) ও কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়ার মোঃ সেলিমের ছেলে মিজানুর রহমান (৪২)।
তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৫০০ টাকা, অনাদায়ে আরো দুই দিন করে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
এর আগের দিন (৬ আগস্ট) পরিচালিত মাদক বিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৪ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হয়েছে।
তারা হলেন -কক্সবাজার শহরের ফুলবাগ সড়কের বাসিন্দা আব্দুল মোতালেবের স্ত্রী লাকি (৩০), মহেশখালী ধলঘাটা মৃত জুনাব আলীর ছেলে ইকবাল বাহার (৩৯), শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুর রহিম (৪১) এবং টেকপাড়া আমেনা খাতুন স্কুল সড়কের বাসিন্দা মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে ইসমাইল (২৩)।
তাদের মধ্যে লাকিকে ৪ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৫০০টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো দুইদিনের বিনাশ্রম কারাদ- দেয়া হয়েছে।
বাকি ৩ জনকে ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড, ৫০০টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো দুইদিন বিনাশ্রম কারাদ- প্রদান করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া সুলতানা।
অভিযানে ইন্সপেক্টর (পরিদর্শক) আব্দুল মালেক তালুকদার, এসআই আবুল কাশেমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক (এডি) সোমেন মন্ডল জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার আলোকে তারা নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করেছে।
তিনি জানান, কক্সবাজারকে মাদকের অভিশাপমুক্ত করতে অভিযানের পাশাপাশি বিভিন্ন কমিউনিটির লোকজনের সাথে মতবিনিময় সভা করে মাদকের কুফল সম্পর্কে বোঝানো হচ্ছে। নিয়মিত অভিযানে কোণঠাসা হয়ে গেছে মাদক কারবারিরা।
মাদক বিরোধী অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অনেকটা সফল বলেও মনে করেন সোমেন মন্ডল। তিনি মাদক নির্মূলে সবমহলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলা কারাগারে আসামিদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি মাদকের মামলার আসামি। কারাবন্দি রয়েছে আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি।
তবে, অনেক গডফাদার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। টেকনাফের বড়মাফের কারবারিরা নিরাপদে আত্মগোপনে রয়েছে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •