আজিম নিহাদ :
কক্সবাজারে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। দুয়েক দিন আগে কিছুটা শিথিলতা ফিরলেও এখন আবার প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু ডেঙ্গু নিয়ে এইরকম পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জন ঠিকমত কর্মস্থলে থাকেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিভিল সার্জনের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি বুধবার (৭ আগষ্ট) জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। সভায় বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকজন সদস্য। সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখবেন বলে সভাকে অবহিত করেন জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন। বিষয়টি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য।
জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে গিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন কমিটির একজন সদস্য। এসময় সিভিল সার্জন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের নজরে আনেন। সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি হিসেবে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন সিভিল সার্জনের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, ওনি (সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মতিন) ঢাকায় আছেন।
ডা. মহিউদ্দিন আলমগীরের এই জবাবের বিরোধীতা করেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির এক সদস্য। ওই সদস্য বলেন, সিভিল সার্জন মঙ্গলবার (৬ আগষ্ট) বিকেলে অফিসে ছিলেন। পরে ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর আবার বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে তিনি (সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল মতিন) ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসেন। এরপর বুধবার সকালে আবারও ঢাকায় চলে যান। তবে কেন ঢাকায় গেছেন সেই বিষয়ে কিছুই জানাননি ডা. মহিউদ্দিন মো. আলমগীর।
ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের পরিস্থিতিতে সিভিল সার্জনের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জানার পর সভাপতিসহ অনেক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রায় সময় তিনি কক্সবাজার থাকেন না বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেন।
সভায় একজন সদস্য বলেন, এই মুহুর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ডেঙ্গু। ডেঙ্গু নিয়ে সবাই উদ্বীগ্ন। সরকারিভাবে ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এই সময়ে একজন সিভিল সার্জনের এভাবে অনুপস্থিত থাকাটা কোনভাবেই কাম্য নয়। সিভিল সার্জনের দায়িত্ব অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। ইমারজেন্সি মুহুর্তে হ-য-ব-র-ল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
একাধিক সদস্যের প্রতিক্রিয়ার পর কথা বলেন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগের সময়ে সিভিল সার্জনের অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার (সিভিল সার্জন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখা হবে বলে জেলা প্রশাসক সভাকে অবহিত করেন।
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুঠোফোনে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগটি সঠিক নয় বলে দাবী করেন। সিভিল সার্জন বলেন, অফিসের কাজে তিনি সোমবার ঢাকায় গিয়েছিলেন। ঢাকায় কাজ শেষ করে মঙ্গলবার বিকেলে বিমানযোগে কক্সবাজার ফিরে আসেন। এদিন (মঙ্গলবার) বিকেলে বেশকিছুক্ষণ অফিসের কাজও করেছেন। বুধবার ঢাকায় যাননি দাবী করে সিভিল সার্জন বলেন, উখিয়ার বালুখালীতে আইআরসি একটি ভবন দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগকে। এই বিষয়ে বুধবার সকালে তিনি উখিয়ার বালুখালীতে গিয়েছিলেন। বালুখালী যাওয়ার কর্মসূচি থাকায় তিনি আগেই থেকেই তার পরিবর্তে ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরকে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর সভায় জানিয়েছিলেন বুধবার সকালে তিনি (সিভিল সার্জন) পূণরায় ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। মহিউদ্দিন আলমগীরের এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমি যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অফিসিয়াল কাজে গিয়েছি তা হয়ত তিনি (মহিউদ্দিন আলমগীর) জানেন না। তারপরও যদি কোন ব্যবস্থা নিতে চায় তাহলে নেবে। আমার কি করার আছে?’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকে প্রায়ই কর্মস্থলে থাকেন না সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মতিন। তার অনুপস্থিতিতে সিভিল সার্জনের দায়িত্বপালন করেন ডা. মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। ডা. মহিউদ্দিন আলমগীরের উপর দায়িত্ব চাপিয়ে প্রায়ই জেলার বাইরে ঘুরে বেড়ান সিভিল সার্জন। সিভিল সার্জনের খামখেয়ালীপনার কারণে জেলার স্বাস্থ্য সেক্টরে চরম অনিয়ম বিরাজ করছে। যে যার ইচ্ছেমত কাজ করছে। কোন জবাবদিহিতা নেই বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •