ডেস্ক নিউজ:

গত জুলাই মাসের ৩১ দিনে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৫৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ভর্তির নতুন রেকর্ড হয়। এর আগে পর্যন্ত গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে ১০ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি আগস্ট মাসের মাত্র ৭ দিনেই জুলাই মাসের সর্বোচ্চ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রেকর্ড ছুঁই ছুঁই করছে।

সরকারি হিসাবেই গত সাত দিনে ১৫ হাজার ৮৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি। এর কারণ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম মাত্র ৪০টি হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করছে। সে হিসাবে বাকি হাসপাতালগুলোর পরিসংখ্যান রয়েই গেছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আজ ৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৩৪০ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ২৩ জন। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি।

আক্রান্তদের মধ্যে ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬১০ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৭০৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে, রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৪২৮ জন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৬২, মিটফোর্ডে ১৩৮, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৪৪, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৯৭, বারডেম হাসপাতালে ২৪, বিএসএমএমইউতে ৩৫, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ৪২, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩৯, বিজিবি হাসপাতাল পিলখানায় ৮,সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৪৫, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১১০ জনসহ ঢাকা শহরে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৭০ জন। বিভাগীয় শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১৫৩ জন।
ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগে ২৯৯, চট্টগ্রামে ১৮৭, খুলনায় ১৮৬, রংপুরে ৯১, রাজশাহীতে ১২৮, বরিশালে ১৫৯, সিলেটে ৩৪ ও ময়মনসিংহ বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৩০ জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •