অবৈধভাবে নেয়া ৩০০০ টাকা ফেরত দেন কর্মচারী নাজির হোসেন

বিশেষ প্রতিবেদক, চকরিয়া:
চকরিয়া সরকারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে এক রোগিকে হাতের আঙ্গুলের সামান্য জখম সেলাই করতে নাজির হোসেন বাহাদুর নামে হাসপাতালের কর্মচারী দাবী করেছে ৭ হাজার টাকা। পরে জোরপূর্বক ৩ হাজার টাকা আদায়ের মাধ্যমে ওই রোগির আঙ্গুলের সেলাই করা হয়েছে।

৬ আগস্ট বিকাল ৪টার দিকে ঘটেছে এ ঘটনা। তবে ওই টাকা ক্ষনিকের জন্য পকেটে রাখতে পারলেও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে অবৈধভাবে নেওয়া ওই ৩ হাজার টাকা রোগির কাছেই ফেরৎ দিতে হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিবাদী যুবনেতা এম শহিদুল ইসলাম শহিদ ও মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের হামিরাঘোনা এলাকার মৃত আবদুল হকের ছেলে হাছন আলী পারিবারিক পূর্বশত্রুতার বিরোধে হামলায় আহত হয়ে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিকাল ৪টার দিকে হাসপাতালে পৌছলে জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত হাসপাতালের এমএলএসএস (কর্মচারী) নাজির হোসেন বাহাদুর হাতের জখমের আঙ্গুলে দুইটি সেলাই করতে জনৈক হুমায়ুন কবির (দালাল ও সোর্স) এর মাধ্যমে ৭হাজার টাকা দাবী করেন। পরে ৩হাজার টাকায় কন্ট্রাক্ট হলে নগদে উক্ত ৩ হাজার টাকা নিয়ে আঙ্গুলের ক্ষত স্থান সেলাই করে দেন। যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসাপত্র রেজিষ্ট্রেশন নং ১৮০২৬১৮০।

এম শহিদুল ইসলাম শহিদ ও মাহবুবুল আলম আরো জানান, রোগি হাছন আলী তাদের দোকানে ঔষুধ ক্রয় করতে গেলে ঔষুধের কিছু টাকা বাকি রাখতে চাইলে মূল ঘটনা কি জানতে চান। এসময় তিনি বলেন, হাসপাতালের কর্মচারী নাজির দালাল মারফতে ৭ হাজার টাকা চেয়ে ৩ হাজার টাকা আদায় করেছেন। যার কারণে তার কাছে ঔষধ কিনতে টাকা নাই। এরপর স্থানীয় লোকজন নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে কর্মচারী নাজির হোসেন বাহাদুরের কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধার করে দেন।

অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালে নাজেম উদ্দিন নামে অপর এক কর্মচারী একইভাবে হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে প্রতি রোগির কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নানাভাবে অবৈধ উপায় আদায় করে আসছে। তার দেখায় নাজির হোসেনও একই নিয়মে রোগিদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের এ পথ অবলম্বন করেছে। তবে জানতে চাইলে নাজির হোসেন বাহাদুর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের অনিয়মগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও অভিযুক্তদের শাষিত করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা। কারণ তাদের নামের পূর্বপার্শ্বের মুক্তিযুদ্ধা সন্তানের খেতাব লাগানো আছে। তাদের রয়েছে বিশেষ সোর্স ও দালালচক্র। অবশ্য- আমি বীর মুক্তিযুদ্ধের সর্বোচ্চ সম্মানের সহীত স্মরণ করি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •