জাহাঙ্গীর আলম কাজল: 

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সংলগ্ন পরিষদের সরকারি বন মল্লিকা ও বন লতা আবাসিক পরিত্যক্ত ভবন অপরাধীদের নিরাপদের অাখড়া পরিনত হয়েছে।
লোকজনের যাতায়াত কম থাকায় সেখানে
চুরি-ছিনতাইয়ের দাগী অাসামীরা অাশ্রয় নেয়। ভাগ-বাটোয়ারাও হয় ওই পরিত্যক্ত ভবনে। দিনরাত মাদক সেবনে ব্যস্ত থাকে কতিপয় মাদকাসক্ত যুবক।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, পার্শ্ববর্তী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের কিছু বখে যাওয়া ছাত্র বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে ধুমপান ও মাদক সেবনের জন্য সেখানে ভীড় জমায়। অনেক সময় শ্রেণী কার্যক্রমের প্রায় পুরোটা সময় তারা সেখানে কাটায়। স্থানীয় অনেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে জানিয়েছেন,
রাতে বন মল্লিকা ও বন লতা পরিত্যক্ত ভবনের দ্বিতীয় তলায় অপরাধী এসে আশ্রয় নেয়। তারা রাতভর সেখানে মাদক সেবন করে। ওই অপরাধী চক্রের চুরি ছিনতাইয়ের টাকাও ভাগবাটোয়ারা করা হয় সেখানে। ভাগবাটোয়া নিয়ে প্রায় সময় নিজেদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মারামারি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ চলে।
অপরাধীরা প্রায় সময় ভবন থেকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের উত্যক্ত করে।
আশে-পাশের লোকজন এইসব দেখলেও ভয়ে কারো বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননা।
অনেকে আক্ষেপ করে জানায়, ওই পরিত্যক্ত ভবনে দিনের বেলায় বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে ভীড় করে বখে যাওয়া কিছু উশৃংখল কিশোর।
তাদের মধ্যে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রও সহ বিভিন্ন প্রতিষ্টানের ছাত্র ও রয়েছে।
তারা মূলত সেখানে ধুমপান ও আড্ডা-ফুর্তিতে মেতে থাকে। বিশেষত শুক্রবার ওইসব বখে যাওয়া কিশোরের উৎপাত বেশি হয়।
জানা গেছে, এ সব ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সেখানে দীর্ঘদিন ধরে তাদের উৎপাত অব্যাহত থাকলেও কেউ মুখ খোলে না ভয়ে। অাবাসিক ভবনের পাশে কয়েকটি পরিবার বসবাস করে। ওইসব পরিবারের কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন লোকজনের দাবী,পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করে বাসযোগ্য করা হলে অপরাধীদের আনাগোনা বন্ধ করা যাবে।
যতদিন পর্যন্ত ভবনটি ভাঙা হচ্ছে না ততদিন অপরাধীদের অপতৎপরতা রোধে স্থানীয় প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে। পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাবকদেরও নজর রাখা জরুরী কেউ বিদ্যালয় ফাঁকি দিয়ে অপকর্ম করছে কিনা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •