এম. বেদারুল আলম :
পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কোরবানের ঈদ উপলক্ষ্যে জেলায় দেড় লাখের অধিক পরিবারকে ১৫ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তবে চাল বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় কমে যাওয়ার কারনে প্রতি পরিবার এ বছর চাল বরাদ্দ ৫ কেজি করে কম পাচ্ছে। এ ঈদে জেলার ৭১ ইউনিয়নের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩২৩টি পরিবারের জন্য ২৩৮৯.৮৪৫ মে.টন চাল বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে যা গত বছরের ঈদে ছিল ৩১৮৬.৪৬০ মেট্রিকটন। জেলা ত্রান ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোঃ রইস উদ্দিন জানিয়েছেন ৭১ ইউনিয়নের জন্য প্রদত্ত বরাদ্দ প্রায় সকল ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছেছে এবং জনপ্রতিনিধিগণ ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ বিতরন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। ৬ আগষ্টের মধ্যে সকল ইউনিয়নে দরিদ্রদের কাছে চাল বিতরণ শেষ হবে বলে মনে করেন তিনি।
জেলা ত্রান ও পূর্ণবাসণ র্কাযালয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আযহার বিশেষ বরাদ্দের আওতায় অসহায় দুঃস্থ জনগোষ্ঠির জন্য ঈদ উপলক্ষ্যে ভিজিএফ কর্মসূচিতে জেলায় ৭ লাখ গরীব প্রান্তিক মানুষের জন্য ৩ হাজার ১শ ৮৬ মে.টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে । এতে প্রতি পরিবার ১৫ কেজি করে চাল পাচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৭১ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উপকারভোগিদের তালিকা প্রস্তত করে দুই তৃতীয়াংশ ইউপিতে বিতরণ শেষ করেছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ অফিস।
এদিকে উপকারভোগিদের তালিকা প্রনয়নে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মানতে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের অন্যতম হল-২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ি কার্ড পুনঃবিভাজন করতে হবে তা সংসদ সদস্যদের জানাতে হবে, দুঃস্থ ,অতিদরিদ্র, ব্যক্তি/পরিবারকে এ সহায়তা দিতে হবে, তবে বন্যায় আক্রান্তদের কিংবা অন্যান্য দূর্যোগে পতিতদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, ৭০ শতাংশ মহিলা তালিকাভুক্ত করতে হবে, ভুমিহীন, দিনমজুর, উর্পাজনক্ষম পুরুষবিহীন পরিবার, স্বামী পরিত্যাক্ত, তালাকপ্রাপ্ত, ভিক্ষাবৃত্তির উপর নির্ভরশীল, অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, প্রাকৃতিক দূর্যোগে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকাভুক্ত করতে হবে।
উপজেলা ভিত্তিক উপকারভোগির সংখ্যা এবং চাল বরাদ্দের পরিমান হলো – চকরিয়ায় ১৮ ইউনিয়নে ২৪,৬৮৮ কার্ডের তথা পরিবারের জন্য ৩৭০.৩২০ মে.টন। কক্সবাজার সদরের ১০ ইউনিয়নের ২০,২৮৮ পরিবারের জন্য ৩০৪.৩২০ টন। কুতুবদিয়ায় ৬ ইউনিয়নের ১৩,৪৭০ পরিবারের জন্য ২০২.০৫০ মে.টন। মহেশখালীর ৮ ইউনিয়নের ২২,৮৪০ পরিবারের জন্য ৩৪২.৬০০ মে.টন। পেকুয়ার ৭ ইউনিয়নের ১৬,৪০৪ পরিবারের জন্য ২৪৬.০৮০ মে.টন। রামুর ১১ ইউনিয়নের ২০,১৭৮ পরিবারের জন্য ৩০২.৬৭০ মে.টন। টেকনাফের ৬ ইউনিয়নের ২৩,৫৬১ পরিবারের জন্য ৩৫৩.৪১৫ মে.টন। উখিয়ার ৫ ইউনিয়নের ১৭,৮৯৪ পরিবারের জন্য ২৬৮.৪১০ মে.টন চাল ।
ভিজিএফ এর চাল বিতরণ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোঃ রইস উদ্দিন জানান, জেলার ৭১ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে সব চাল পৌছে দেওয়া হয়েছে। ৩০ শতাংশ ইউনিয়নে বিতরণ সম্পন্ন করেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি। আশা করি আগামি ৬ আগষ্টের মধ্যে সব ইউনিয়নে বিতরণ শেষ করতে পারব। আগে যেহেতু ১০ কেজি চালের সংগ্রহ করতে গিয়ে দরিদ্রদের পুরো দিন চলে যায় সেহেতু তারা ১৫ কেজি করে চাল পেলে পুষিয়ে উঠতে পারবে। পরিবারে দু’মোঠো অন্ন যোগান হবে।
চাল বিতরণের প্রস্তুতি বিষয়ে সদরের পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নুরুল কাদের জানান, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং প্রকৃত দরিদ্র উপকারভোগিদের তালিকা প্রস্তুত করতে আমরা চেষ্টা করেছি এবং সে অনুযায়ি তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে বিতরণ শেষ করবেন বলে তিনি জানান। সরকার ঈদে দরিদ্রদের মুখে হাসি ফুটাতে উক্ত ভিজিএফ কর্মসূচি চালু করেছে যার সফলতা নির্ভর করছে জনপ্রতিনিধিদের সততার উপর। তবে প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তাদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দাবি করে চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছ থেকে দরিদ্রদের বরাদ্দকৃত চাল জোরপূর্বক ভাগ বসান এমন অভিযোগ ও রয়েছে। দরিদ্রদের চাল যেন সঠিক উপকারভোগি পায় সে বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •