২০১৪ সালের ঘটনা। গুজব রটে যে, আফ্রিকাতে অনেককেই ভূতে ধরছে। প্রথমে লোকেদের জ্বর হচ্ছে, আর তার পরেই তারা মরে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে মৃতের সংখ্যা। নিজের গ্রাম, শহর ছেড়ে পালাতে শুরু করেন মানুষজন। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে যান বিজ্ঞানী, গবেষকের দল। রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে, ভূত নয় বরং এক অজানা ভাইরাসের সংক্রমণে শুরু হয়েছে এই মৃত্যুমিছিল। পরে এই ভাইরাসের নামকরণ হয় ইবোলা ভাইরাস। বারবার আফ্রিকাতে ইবোলার আক্রমণ এতোই বেড়ে গিয়েছিলো যে ইবোলাকে এখন ‘ আফ্রিকার দুঃখ’ বলে ডাকা হয়।

“হাজার বছর ধরে ” উপন্যাস তো সবাই ই পড়েছেন। ওলা বিবি । ওলা বিবি একবার যেই গ্রামে আক্রমণ করতো পুরো গ্রাম অচল করে দিতো। লোকমুখে শোনা, “কোনরকমে এই কার্তিক মাস টা বাঁচলে আরও একটা বছর বাঁচতে পারব আশা করি “!

গতকালকের নিউজ হলো ফিলিপাইনে ডেঙ্গু তে ৪৫৬ জনের মৃত্যু। ভারতে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। এই মুহুর্তে বাংলাদেশে ডেঙ্গু মহামারী। সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করেছে ঢাকা শহরে। ঢাকায় প্রতি ঘন্টায় ১৭ জন আক্রান্ত হচ্ছে।মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭০০০+। তোবা (ছদ্মনাম)। ঢাকায় এসেছিলো এডমিশন টেস্টের জন্য কোচিং করতে। গতকাল সে ডেঙ্গু জ্বরে মারা গেছে। টিভিতে দেখলাম এক বছরের এক বাচ্চার জ্বর ছিল। প্রথমদিন তেমন পাত্তা দেয় নি বাবা মা। দ্বিতীয় দিন বাসার পাশে হাসপাতালে নিয়ে যায় কিন্তু ইতিমধ্যে হাসপাতাল টি ডেঙ্গু রোগী দিয়ে ভর্তি। অন্য একটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাচ্চাটি মারা যায়।

ডেঙ্গু এবার গতবারের চেয়ে শক্তিশালী স্ট্রেইন দিয়ে আক্রমণ করছে। ডেঙ্গুর সেরোটাইপ চারটি। Den-1,2,3,4. আগে ১,২ দিয়ে আক্রমণ করতো। তাই এর লক্ষন সবার জানা ছিল। কিন্তু এবার হয়তো ৩,৪ দিয়ে আক্রমণ করছে। তাই কোনো লক্ষন ই বুঝা যাচ্ছে না। চোখের পলকে রোগী শকে চলে যাচ্ছে, মারা যাচ্ছে।

এবার ডেঙ্গু যতটা শক্তিশালী আগামীবছর আরও শক্তিশালী হবে। ইবোলার মতো সামান্য জ্বরেই আপনি আমি মারা যাবো। শয়তানের চোখ পড়েছে বা জীনে ভর করছে এমন ট্রল ও দেখা লাগতে পারে।

আমরা ট্রল করতে পছন্দ করি। একটা ট্রল আছে, বিশ্বাস তো সেদিন ই হারিয়ে গেছে যেদিন দেখলাম জ্বলন্ত কয়েলের উপর মশা বসে আছে। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে পছন্দ করি। একজন মানুষ রোগ থেকে বাঁচতে ওষুধ খায়। চিন্তা করা যায় সেই ওষুধেও ভেজাল আছে? অসাধু ব্যবসায়ীরা আপনার আমার জীবন নিয়ে খেলতেও দ্বিধাবোধ করে না। কয়েলেও ভেজাল। মশা মরবে কি করে? ডেঙ্গু সাধারণত বিকেলের দিকে কামড়ায়। একটা মশাও বিপদজনক। সুতরাং দিন বা রাত যখনই ঘুমান মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে সচেতন করছে। টায়ার, টবে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে দিচ্ছে। একটা ছন্দ সবাইকে শিখিয়ে দিচ্ছে। তা হলো–
বেশি করে খাবো জল
মশারির নিচে চল
জ্বর হলে প্যারাসিটামল।

এই দেশ আপনার আমার সুস্থ্যভাবে বেঁচে থাকার জন্য কিছু করবে এই চিন্তা মাথা থেকে ফেলে দিন। একজন নেতা বলেছেন, ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগ দেশে ডেঙ্গু নিয়ে এসেছে। ঢাকা উত্তরের মেয়র বলেছেন ডেঙ্গু মশা ঢাকা দক্ষিণ থেকে এসেছে।।দক্ষিণের মেয়র বলেছেন এই মশা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের!!! হাহাহাহা!

অথচ উনাদের উচিত ছিল বাড়ি বাড়ি গিয়ে সবাইকে সচেতন করে দেওয়া। নিজেরা না গেলেও লোক নিয়োগ করে দেওয়া। মশা নিধনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু কেন করবে?
কয়েলের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে না? সেদিন একজন গবেষক প্যাকেটজাত দুধ পরীক্ষা করে এন্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব পেয়েছিলেন।।সেই নিউজ ভাইরাল হয়। উনাকে জবাবদিহি করতে হয় কেন তিনি গবেষণা করেছেন। ভাবা যায়?

আজকে দেখলাম ডিটারজেন্টে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়া গেছে। যাবেন কোথায়?

সুতরাং নিজের সুরক্ষা নিজের ই নিতে হবে। সামান্য জ্বর হলেও হেলা করা যাবে না।।নিজের বাসায় পানি জমতে দিবেন না। জ্বর হলেই ডাক্তারের কাছে চলে যাবেন। মনে রাখবেন ডেঙ্গু জ্বরে এন্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। সুতরাং ফার্মেসী থেকে এন্টিবায়োটিক এনে খাবেন না।।বেশি করে পানি খাবেন।। ফ্লুইড খাবেন। মশারির নিচে থাকবেন। সাবধানে থাকবেন।।অন্যকে সতর্ক হতে বলবেন।

আজকেই দেখলাম ঢাকার পর এবার চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।

আরেকটা ভয়ের নিউজ হচ্ছে এশিয়াতে আক্রমণ করবে মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট ম্যালেরিয়া। মানে হলো, ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে যত ওষুধ ছিলো তার বেশিরভাগই কাজ করবে না এই ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে। ভয়াবহ দিন আসছে আমাদের জন্য।

Saimoun Parvez

ফেসবুক থেকে-

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •