আব্দুর রহমান হাশেমীঃ

মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহিম (আঃ) ও আদেশ অনুগত পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-এর আত্মত্যাগের মহান দৃষ্টান্ত কুরবানি।

আত্মত্যাগ, আত্মউৎসর্গ, তাক্বওয়া অর্জন ও আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের সুমহান মহিমায় চির ভাস্বর কুরবানি।

কুরবানি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যেই করতে হবে।
অাল্লাহ তায়ালা বলেন:
قُلْ إِنَّ صَلاَتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

“আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মরন রাব্বুল অালামীন আল্লাহরই জন্যে।” (সুরা অানআম-১৬২)

কুরবানি ত্যাগের সাথে তাক্বওয়া অর্জনই মুল প্রতিপাদ্য
যেমন অাল্লাহ তায়ালা বলেন:
لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِن يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنكُمْ-

“অাল্লাহর কাছে এগুলোর (কুরবানি পশুর) গোশত ও রক্ত পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তোমাদের তাক্বওয়া।”(সুরা হজ্জ্ব- ৩৭ অায়াতাংশ)

আমাদের ত্যাগ যেন হয় তাক্বওয়ার সাথে এবং তাক্বওয়া যেন হয় আল্লাহর কাছে আত্মউৎসর্গ বা অাত্মসমর্পনের মাপকাঠি।

রাব্বুল অালামীন বলেন:
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

“অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়ুন এবং কুরবানি করুন।” (সুরা কাওছার- ০২)

উল্লেখ্য যে, কুরবানির পশু অবশ্যয় অাল্লাহর নামে জবেহ করতে হবে।
মুশরিকরা প্রতিমার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে ও পশু জবেহ করে।

এক্ষেত্রে আরেকটা উল্লেখ্য বিষয় যে, লোক দেখানো কুরবানি সহ কোন ইবাদত অাল্লাহর কাছে কবুল হবেনা।

কুরবানি অবৈধ উপার্জন যেমন: সুদ, ঘুষ, নেশাজাত দ্রব্য বিক্রির টাকা, প্রবঞ্চনা, ধোঁকা প্রভৃতির অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত পশুর কুরবানি জয়েজ নয়।

রাসুল (স) বলেন: “অাল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতীত কিছুই গ্রহন করেন না।”(সহিহ মুসলিম-১০১৫)

সামর্থ্য থাকা ব্যক্তির কুরবানি করা অাবশ্যক:
রাসূল (সাঃ)-এর একটি হাদীসে এভাবে এসেছে- ‘‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে না আসে।’’ (ইবনে মাজাহ)

সুতরাং সামর্থ্যবানদের জন্যে অাল্লাহর কাছে আত্মসমর্পনের মাধ্যম কুরবানি।

কুরবানি সুচনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে অাল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (স) নিদের্শনা ও উপরোক্ত অালোচনায় কুরবানির মাধ্যমে অাল্লাহ বান্দাহর কাছ থেকে কি চাই তা স্বল্প পরিসরে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

মহান আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে ইখলাসের সাথে একমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরবানি ও সকল ইবাদাত করার তাওফীক দান করুন— আমীন

লেখক:
আব্দুর রহমান হাশেমী
কামিল হাদিস ও তাফসীর চলমান, মাষ্টার্স সমাজবিজ্ঞান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •