cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়ার ঘাটপাড়া এলাকায় আদালতের দেয়া ১৪৪ ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাকা বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ওই এলাকার মৃত মৃত মাওলানা হাফেজ আহামদের পুত্র। তার ভাই মাওলানা এমদাদ উল্লাহ এই অভিযোগ করেছেন। এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অংশীদারী জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিবাদ থাকায় তা মীমাংসা না হওয়ার পর্যন্ত ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণে ১৪৪ ধারা জারি করেছে আদালত। স্থানীয় মৃত মাওলানা হাফেজ আহামদের পুত্র মাওলানা এমদাদ উল্লাহর আবেদনের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গত ২৯ জুলাই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এতে বিবাদী করা হয়েছে আমান উল্লাহ গংয়ের আমান উল্লাহ গং এর মৃত মাওলানা হাফেজ আহামদের পুত্র যথাক্রমে- আমান উল্লাহ, মুহিব উল্লাহ, মুজিব উল্লাহ, ওবায়দুল্লাহ, সানা উল্লাহ, হাবিব উল্লাহ, মেয়ে রাবিয়া বেগম, মাজেদা তাহেরীকে।
অভিযোগ মতে, খরুলিয়ার মৌজার আওতাধীন আর.এস ৫৬৪ নং খতিয়ানের আর.এস ৩৯৪৬, ৩৯৪৭ নং দাগাদির .৪৫ একর জমির তুলনামূলক বি.এস ২৪৪ নং খতিয়ানের বি.এস ৫১৩৬ ও ৫১৩৭ দাগাদির .৪০ একর জমির আন্দর .২০৭৫ একর জমির নিজস্ব কেনা ও পৈত্রিকভাকে মালিক হলেন মাওলানা এমদাদ উল্লাহ। তবে এখন পর্যন্ত ওই জমির ভাগবাটোয়ারা হয়নি। স্থানীয়ভাবে বিবাদীরা ভাগবাটোয়ারায় না আসায় ভাগবাটোয়ারা করার জন্য ইতিমধ্যে মাওলানা এমদাদ উল্লাহ কক্সবাজার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু ভাগবাটোয়ারা না হওয়া ও এই সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন থাকাও পরও জোর পূর্বক আমান উল্লাহ গং এর হাবিব উল্লাহ ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে তিনি পাকা বাড়ির পিলারও তুলে ফেলেছেন। এর প্রতিকার চেয়ে গত ২৯ জুলাই কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন ভুক্তভোগী মাওলানা এমদাদ উল্লাহ। তার আবেদনটি আমলে নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহাজাহান আলী ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাাণের উপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। একই সাথে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন এই বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কক্সবাাজার সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মাওলানা এমদাদ উল্লাহ জানান, ‘ভাগবাটোয়ারা না করেই ওই জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করে হাবিব উল্লাহ। তাকে নিষেধ করলেও সে তা আমলে নেয়নি। স্থানীয় বিচারও মানেনি। তাই আমি আইনগত সহযোগিতার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালত ১৪৪ ধারা জারি করে। পুলিশ গিয়ে ১৪৪ ধারা বিষয়ে অভিযুক্ত হাবিব উল্লাহকে অবহিত করে স্থাপনা বন্ধতো নয়; সেই জায়গা পা না রাখতেও নিষেধ করেছেন। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পরই ১৪৪ ধারা ও পুলিশের নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে হাবিব উল্লাহ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) খায়রুজ্জামান বলেন, ‘আদালতের ১৪৪ ধারার নির্দেশ মতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে তদারক করতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দলকে পাঠানো হয়। তখন হাবিব উল্লাহকে নির্মাণ বন্ধসহ উভয় পক্ষ স্থিতিতাবস্থা বজায় রাখতে বলা হয়েছে। এরপরও কেউ তা অমান্য করছে আমরা তার বিরুদ্ধে অ্যাকশানে যাবো’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •