cbn  

এম বশির উল্লাহ, মহেশখালী:

ওরা এখন অনেক উজ্জিবিত ও প্রাণবন্ত। ক্রমাগত লেখালেখিতে উৎসাহিত হয়ে পড়েছে । ইতোমধ্যে ওরা দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি’র প্রথম সংখ্যাও প্রকাশ করেছে । হ্যাঁ, বলছিলাম কক্সব্জাার জেলার মহেশখালী উপজেলার এক সময়ে আলোচিত সন্ত্রাস জনপদ হিসাবে পরিচিত কালারমারছড়া বাসীর সব চেয়ে প্রিয় প্রতিষ্ঠান কালারমারছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের কথা । এবারে প্রথম বারের মতো ২০১৯ সালে বাস্তবায়িত হলো দেয়াল পত্রিকা বেলাভুমির কর্মসূচি। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে হাটিহাটি পা পা করে প্রতিষ্ঠানটি আজ উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে অত্র বিদ্যালয়ে দুই হাজারেররও অধিক ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে যাচ্ছে। প্রতি বছর জেএস সি ও এসএসসি তে সন্তোষ জনক ফলাফল করে আসছে। সম্প্রিিত সময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে অত্র প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা।

‘‘সবুজ বাঁচাই, সবুজে বাঁচি” এ স্লোগান নিয়ে “উপকুল বাংলাদেশ” নামের সংগঠন উপকূল জুড়ে ‘‘সবুজ উপকুল ২০১৯’’ নামে একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি শুরু করে।

গোটা কার্যক্রমটাই লেখালেখি আর সৃজনশীল মেধাবিকাশ কেন্দ্রিক। আর এর ভেতর দিয়েই পড়ুয়ারা পরিবেশ সচেতন হয়ে ওঠে। ব্যতিক্রমীধারার এই কর্মসূচির মূল কেন্দ্রে “বেলাভূমি” নামের দেয়াল পত্রিকা। এরসঙ্গে থাকে রচনা লিখন, পত্র লিখন, ছড়া ও কবিতা লিখন, চিত্রাংকনসহ বিভিন্ন ধরনের লেখা থাকে।

১আগষ্ট বৃহাস্পতিবার কালারমারছড়ার উচ্চ বিদ্যালয়ে বেলাভুমির কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো।

এই উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের কাঁচা হাতে লেখা ছড়া, কবিতা, ছোট গল্প ও ছবি আঁকা নিয়ে প্রথম প্রকাশিত হয় দেয়াল পত্রিকা ‘‘বেলাভূমি’’। ব্যতিক্রমধর্মী দেয়াল পত্রিকাটি প্রকাশের পরে অভিভাবক, শিক্ষকমন্ডলী ও সকল শিক্ষার্থীর মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। সকলে এ ধরনের দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের ভূয়সী প্রশংসা করেন ।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম আবু তাহের বলেন , তার বিদ্যালয়ের ছেলে মেয়েরা এত ভাল লিখতে পারে তা তার আগে জানা ছিলোনা। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন বলে মত প্রকাশ করেন।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও কৃতি ফুটবলার সামসুল আলম রনি বলেন, দেয়াল পত্রিকা বেলাভূমি প্রকাশ নিঃসন্দেহে প্রশংসার কাজ। এটা নিয়মিত বের হলে ছেলে মেয়েদের সাহিত্য চর্চা যেমনি বাড়বে তেমনি তাদের মেধার বিকাশ ঘটবে।

শিক্ষক মকছুদুল হক বলেন, দেয়াল পত্রিকা লিখার মাধ্যমে তাদের জ্ঞানের পরিধি আরো বাড়বে, আমরা এটি সব সময় প্রকাশের চেষ্টা করে যাবো এটি খুবই একটি ভালো উদ্যেগে।

প্রকাশিত দেয়াল পত্রিকা বেলাভুমির প্রথম সম্পাদক তাছরিয়া সুলতানা তামান্না জানান, জিবনে কোন দিন পত্রিকায় লিখবো বা সম্পাদক হবো ভাবতে পারিনি, আজকে নিজে লিখে আবার প্রকাশ করছি খুব আনন্দের বিষয় , আমরা এই পত্রিকা সব সময় ধরো রাখবো।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানিয়া রাইসা,সাকিলা হাসনাত সাকি, নাহিদা সুলতানা মিতু, তাছমিন রাহা রাফি, ফারিহা, মো: আতা উল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল হাসনাঈন তাফি, কায়দা আজম বিল্পব,আনিকা,ইফফাত,আব্দুল্লাহ, সজীব কাদের র্বষণ,ইসমাঈল নূর, অনুপমা সরওয়ার ইউসা, সারাবান তাহুরা, নূরে আফিফা জানায়, ‘‘বেলাভূমি’’ ওদের লেখালেখির দরজা খুলে দিয়েছে। প্রথম বার তারা এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করে বেশ আনন্দিত, ওরা বেলাভূমির অব্যাহত অগ্রযাত্রা কামনা করে।

শির্ক্ষাথীরা বেলাভুমিতে লিখেন পাহাড় কাটা, ইভটিজিং,নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, সড়ক যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগ ম্যাধম ফেইসবুকে অপব্যাবহার, বিদ্যালয়ের ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে, সড়ক দূর্ঘটনা,অপরিকল্পিত উন্নয়ন, সামাজিক অবক্ষয় সহ নানা ইস্যু নিয়ে তারা দেয়াল পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে পড়ুয়াদের মেধা বিকাশের লক্ষ্যে দেয়াল পত্রিকা প্রকাশের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •