cbn  

ইমাম খাইর, সিবিএন:
বহু সমালোচনা ও বিতর্কের পর অবশেষে কক্সবাজারের কলাতলী-মেরিনড্রাইভ সংযোগ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামি ঈদুল আজহার আগেই সড়কটি হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। ২১ দিন পর থেকে যথারীতি ভারী যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।

গত ২ ফেব্রুয়ারী ডলপিন মোড় থেকে বেলি হ্যাচারী পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেন মেয়র মুজিবুর রহমান। ৩ মাস সময়সীমা দেয়া হলেও কাজ শেষ করতে লেগে যায় প্রায় ৬ মাস।

কিছু জটিলতা ও ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে কাজে ধীরগতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।

দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি করে। তবে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সংস্কারকৃত সড়কটি বেশিদিন টিকবে কিনা? সন্দেহ স্থানীয়দের।

সড়কের কাজ টেকসই ও মানসম্মত করতে একটু সময় নেয়া হয়েছে বলে জানান মেয়রের প্রেস সচিব আহসান সুমন। তিনি কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন)কে জানান, অনেক দিন আগে সড়কটির টেন্ডার হয়। নানা জটিলতায় পড়ে সংস্কার হয়নি। অবশেষে মেয়র মুজিবুর রহমানের আন্তরিকতাপূর্ণ প্রচেষ্টায় কাঙ্খিত সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আরসিসি ঢালাই দিয়ে সংস্কারকৃত সড়কটি শত বছর টিকবে।

তবু, কাজটি শেষ হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা।

এদিকে, ৩১ জুলাই সড়কের সম্পন্ন হওয়া কাজ পরিদর্শন করতে যান পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান। তিনি সড়কের কাজ নিয়ে সন্তুষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র মুজিব আশা করছেন, কিছুদিন কষ্ট পেতে হলেও এখন থেকে স্বস্তি পাবে কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ সড়কে চলাচলকারীরা।

পর্যটনের ক্ষেত্রে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক অতি গুরুত্বপুর্ণ। পর্যটকদের পাশাপাশি সড়কটি নিয়মিত ব্যবহার করছেন শহরের কলাতলী, দরিয়ানগর, রামুর হিমছড়ি, উখিয়ার সোনারপাড়া, ইনানী, মনখালী, টেকনাফের শামলাপুর, বাহারছড়াসহ লাখো উপকূলবাসী।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের তীর ধরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কটি ২০১৭ সালের ৬ মে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু মেরিন ড্রাইভের শুরুর দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে বেলী হ্যাচারি মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৩শ’ মিটার সড়ক বিগত ২০০০ সালে সামুদ্রিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেলে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

পরে ২০০৫-০৬ সালে কলাতলী গ্রামের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া সড়কটিকে সামান্য প্রশস্ত করে মেরিন ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে পৌর কর্তৃপক্ষ সংস্কারের উদ্যোগ নেয়।

এ জন্য চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু করে এপ্রিল পর্যন্ত ৩ মাস কলাতলীর গ্রামীণ সড়কটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। তখন থেকেই শহরের সঙ্গে মেরিন ড্রাইভ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ মেরিন ড্রাইভের বেইলি হ্যাচারি পয়েন্ট থেকে সমুদ্র সৈকতে ওঠানামার একটি বিকল্প পথ তৈরি করে।

একইভাবে কলাতলী পয়েন্টেও মাটি দিয়ে একই ধরনের পথ তৈরি করে। ফলে সমুদ্র সৈকত ধরে সনাতনী উপায়ে যানবাহন চলাচল নির্ভর করে সমুদ্রের জোয়ার ভাটার উপর। প্রতিদিন দুইবার সামুদ্রিক জোয়ারের সময় ৪-৫ ঘণ্টা করে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে শহরের একাংশের হাজার হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন সাময়িকভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এছাড়া সমুদ্র সৈকতে চলাচল করতে গিয়ে সামুদ্রিক জোয়ারের ধাক্কায় প্রতিদিন দুর্ঘটনাও ঘটছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •