cbn  

এড: আবু মুছা মুুহাম্মদ :  

পৃথিবীর সকল ব্যবসা, বাণিজ্য, লেন-দেন, চাকুরী-বাকুরী সব জায়গাতে ট্রেডলাইসেন্স/লাইসেন্স/ বিধিমালা/ নিয়ম-নীতি ইত্যাদি আছে। ঠিক বাংলাদেশের সকল আইনজীবী সমিতির সকল আইনজীবী সহকারী/ক্লার্ক/মুহুরী যাই বলিনা কেন? তাদেরও নিয়ম-নীতি বা বিধি-বিধান আছেন। তা নিম্নেরূপ:

১) একজন আইনজী, একজন কোর্ট অফিসারও বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রথম শ্রেণীর ব্যক্তি। তাদের সম্মানহানিকর কোন কথা-বার্তা কোন আইনজীবী সহকারী, বেঞ্চ অফিসার ও কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনতঃ বলতে পারেনা।

২) যে বিজ্ঞ আইনজীবীর মুহুরী সে আইনজীবীর যাবতীয় ক্লারিকাল কাজ ও কোর্টের বিধি-বিধান মতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। লাইসেন্সধারী আইনজীবীর বাইরে কোন কাজ করা টাউট/দালালী।

৩) আইনজীবীদেরকে ‘স্যার’ হিসাবে সম্বোধনের মাধ্যমে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আইনজীবী বয়সে যতই ছোট হউন না কেন।

৪) সকল মুহুরী তাদের পরিচয়পত্র ও পোষাক পরিধান করা আবশ্যক। বার সমিতি যে যে পোষাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

৫) মুহুরীদের আবার সহকারী কিসের? তা আইনে গ্রহন যোগ্যতা নেই। তারা নিজেরা সহকারী হিসাবে যোগদান করেছে। পিয়ন/কর্মচারী নিয়োগদানের পর পৃথিবীর এমন কোন প্রতিষ্ঠান আছে বলে আমার মনে হয় না, যে প্রতিষ্ঠানে আবার সহকারী পিয়ন নিয়োগ দেয়া হয়। এটা বিজ্ঞজনদের একটা প্রতিষ্ঠান। এখানে এত আইনের অপব্যবহার কাম্য নয়।

৬) আইনজীবী সহকারীদের নিজস্ব চেম্বার থাকতে পারেনা। না হলে সে আইনজীবী সহকারী কি করে হল? তাহলে সেও একজন পেশাধারী আইনজীবীর পরিবর্তে অলিখিত চিহ্নিত ব্যক্তি। তার নাম কি দেয়া যায়- সেটা আমার জানা নেই। আপনার দেন প্লিজ।

৭) আইনজীবী সহকারী যতই উচ্চশিক্ষিত/বয়োবৃদ্ধ হউক, তার পেশাগত নিয়ম-নীতি ও শৃংঙ্খলা বিবর্জিত আচরণ কোন অবস্থায় আইনজীবী ও কোর্টের সাথে করতে পারেনা। কারণ তার পরিচয় শুধুমাত্র আইনজীবীর অফিসিয়াল কার্যপরিচালনার প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তস্বাপেক্ষে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত।

৮) কোর্টের সকল বেঞ্চ কর্মচারীরা কোর্ট অফিসার হিসাবে সব বয়সের আইনজীবীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক দায়িত্বসমূহ পালন করবে, তাও বিনা উপটোকনে (ঘোষণাবিহীন)।

৯) আইনজীবী সমিতিতে দায়িত্বরত কর্মচারীরা আইনজীবীদের প্রতি সম্মান জানাতে বাধ্য। কেননা তাদেরকে নিয়োগদান করা হয়েছে আইনজীবীদের প্রয়োজনে নিজেদের অর্জিত অর্থ থেকে টাকা ব্যয় করে।

১০) আইনজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের জন্য আইনজীবী সমিতি সর্বদা সচেষ্ট আছে ও থাকবে। আর আইনজীবীদের অধিকার রক্ষার্থে যা যা করণী আইনজীবী সমিতি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমাদের আশা ও প্রত্যাশা।

বি: দ্র:
কোন মুহুরী/দালাল/মধ্যস্বত্ব ভোগী যদি মামলা তদবীর বা সংগ্রহ করে আদালতে না আনে বিজ্ঞ আইনজীবী সিনিয়র আর সমবয়সী সকল বন্ধুরা আপনারা কি ভাবতেছেন সে মামলা আপনারা পাবেন না? ভূল ও ভ্রান্ত ধারনা ধরে নিন যার যার জেলা বা উপজেলায় যে আদালত সমুহে jurisdiction Court এ আপনারা পেশায় নিয়োজিত আছেন তাহাতে মামলা না করে চাঁদের দেশে গিয়ে মক্কেলেরা মামলার বিচার প্রার্থনা করবেনা নাকি ? মক্কেল কে কোর্টে আসতেই হবে। কোন না কোন আইনজীবী নিয়োগ দিতেই হবে দালাল/টাউট/মধ্যস্বত্ব ভোগীর কোন প্রয়োজন পড়বেনা আইনজীবী ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।
রিজিকের মালিক (রাজ্জাক) স্বয়ং আল্লাহ কেন এত কষ্ট করে ভাগাভাগী করে মামলা নিতে হবে? এই টাকা এই মামলা শুধু আপনাদের দেখা শুনা ও পাওয়ার কথা।
সুতরাং মামলার জন্য আইনজীবীর কোন মাধ্যম দরকার আছে বলে আমার বোধগম্য নয় বরং এসব অনিয়মের বেড়া জালে পড়ে আপনাদের শান্তির পথে অর্থ উপার্জনের পথে কঠিন একটা বাধা। যেখানে একটা আইনজীবী পেশার ভিতর থেকে দুনিয়ার সব ব্যবসা বাণিজ্য ছেড়ে নিষ্টার সাথে আইন পেশায় জড়িত থেকে অল্প সময়ের মধ্যে সফলতার মুখ দেখার কথা সেটা অনেক খানি ক্ষীণ বা ছোট হয়ে গেল দুর্বল পদক্ষেপের ও দুর্বল মনোভাবের কারণে।

বিজ্ঞ আইনজীবী সাহেব আপনি পেশায় এলেন খুব দেরী করে অনেক স্থর পাড়ি দিয়ে অনেক ত্যাগ তীথিক্ষা সহ্য করে। তারপরেও কি আপনি বেতন ভোগী/TA/DA/ Pension ভোগী কর্মকর্তা ? উত্তরে: নয়। আল্লাহ জানে ৫/১০/১৫/২০ বছর পেশা করে আপনার সুনামধারী আইনজীবী পরিবার/পরিজনকে কি এমন দিয়ে যাবেন ? হয়ত দু-বেলা , দু-মুটো ভাত কাপডের জোগান আবার কেউ কেউ বেশি কিছু দিতে সম্মত হচ্ছেন সেটা কিন্ত আলাদা তাদের কথা নাই বা বলি অধিকাংশ বাংলাদেশের আইনজীবী পরিবার স্বচ্ছলতার মাঝে নেই বললেই চলে দয়া করে নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা ধরে রাখার জন্য আমার ছোট্র স্বপ্ন লেখা। আইনজীবী পরিবারটা বিজ্ঞ জনদের বসবাস, হতেও পারে কোন বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের নিকট আমার লেখাটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে। তা কাউকে আঘাত বা ছোট করার হীন মানষিকতা নিয়ে পোষ্টা দেয়া হয়নি বরং পেশাগত উৎকর্ষ সাধের সামান্য প্রয়াস মাত্র।

-আবু মুসা মুহাম্মদ, এডভোকেট
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •