cbn  
তারেকুর রহমান:

কক্সবাজারকে একটি আধুনিক খেজুর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আরব দেশের খেজুর চারা নিয়ে শহীদ দৌলত ময়দান (পাবলিক লাইব্রেরীর মাঠ) এ সপ্তাহ ব্যাপী বৃক্ষমেলায় অংশগ্রহণ করলো কক্স-আরব স্টল।
আরব দেশের খেজুর চারা বাংলাদেশের মাটিতে চাষ করে জাতির কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কক্সবাজার বৃক্ষমেলায় তাদের অংশগ্রহণ বলে জানিয়েছেন, কক্স-আরব স্টলের প্রোপ্রাইটর ছলিম উল্লাহ। কক্স-আরব স্টলের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে হর্টিকালচার সেন্টার কক্সবাজার।

স্টলের মালিক আরও জানান, আরবের খেজুর চারা দেশের মাটিতে চাষ করতে আগ্রহী কৃষকরা তাদের স্টলে যোগাযোগ করে চারা সংগ্রহ করতে পারেন। বাংলাদেশের জলবায়ু খেজুরের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। প্রতিটি স্ত্রী গাছে খেজুরের ফলন হবে ২০০-৩০০ কেজি, একর প্রতি চারা রোপন করা যাবে ১০০ টি। বর্তমানে বাংলাদেশে কাঁচা খেজুরের মূল্য প্রতি কেজি ৮০০- ১০০০ টাকা। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আরবী খেজুর চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশেও আরবী খেজুর জাতের বিস্তার করতে তাদের এই লক্ষ্য।
কক্স-আরব কৃষি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আরব থেকে উন্নত জাতের খেজুর কলম আমদানি করে বিভিন্ন জেলার হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে এ জাতের খেজুরের বাগান তৈরী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা যায়।
এ জাতের চারার জন্য কেমন আবহাওয়া ও মাটি উপযোগী এমন প্রশ্নের জবাবে ছলিম উল্লাহ জানান, পর্যাপ্ত রোদ, কম আদ্রতা, শুকনা ও কম বৃষ্টিপাত, উষ্ণ আবহাওয়া এ খেজুর চাষের জন্য উপযোগী। বেশি শীত এবং সাময়িক জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ত সহিষ্ণু গুণাগুণ এ গাছের আছে। বেলে-দো-আঁশ মাটি এ জাতের খেজুর চাষের জন্য বেশি উপযোগী।
চারা কিভাবে রোপন করা হবে  এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘খেজুরের চারা সমতল থেকে এক ফুট ওপরে রোপন করতে হবে।  এজন্য গর্ত ভরাট করা মাটি উঠিয়ে মধ্যভাগ উঁচু করে নিতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে তা বাইরের দিক ঢালু করে নালা বরাবর মিলাতে হবে।  গাছ রোপন করা হলে গাছের গোড়া থেকে ২.৫ ফুট দূরে বৃত্তাকারে ১০-১২ ইঞ্চি চওড়া ও ১২ ইঞ্চি গভীর নালা তৈরী করে এ নালার মাটি বাইরের দিক সুন্দরভাবে বৃত্তাকারে উঁচু আইল বেঁধে দিতে হবে। রোপ শেষে ৮-১০ দিনের ব্যবধানে পানি দিয়ে নালা ভর্তি করে দিতে হবে’।
এবং পরিচর্যার ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘গাছ রোপন করে তা কাঠি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে  সোজা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথম কয়েক বছর পাতা শুকালে তা কেটে দিতে হবে। কোনমতে গাছের কাঁচা পাতা কাটা যাবেনা তবে বছরে একবার ফল সংগ্রহ শেষে নিচের দিকে ঝুলে পড়া বয়স্ক অপ্রয়োজনীয় পাতা আপসারণ করতে করতে হবে’।

এ জাতের চারায় সার প্রয়োগের পরামর্শ জানিয়ে ছলিম উল্লাহ বলেন, ‘আরবী খেজুর গাছে ৪ মাসের ব্যবধানে নিয়মিত সার প্রয়োগ করা জরুরী। তাতে গাছ ভালোভাবে বাড়বে। বেশি ফল দানে সক্ষম হবে। প্রতি বছরের জন্য প্রয়োজনীয় সারগুলো ৩ ভাগে ভাগ করে নিয়ে প্রতি ডোজ মে-জুন মাসে একবার এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ও ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে আরও দুইবার প্রয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া অনু খাদ্যগুলো বিশেষ করে জিঙ্কসালফেট, ম্যাগসালফেট, ফেরাল সালফেট ও বোরন-আইরোল বছরে একবার করে গাছের বয়স বিবেচনায় প্রতিষ্ঠাতে ২০০-৩০০ গ্রাম করে প্রয়োগ করা প্রয়োজন’।

আগ্রহী কৃষকদের প্রতি এমন পরামর্শ ও দেশের মাটিতে আরবের খেজুর চাষ করে দেশীয় মানুষের খেজুরের চাহিদা মেটাতে এবং আরবী খেজুর চাষের উপযুক্ত জায়গা পাওয়ার আবেদন জানিয়ে জেলার সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •