cbn  

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণের ঘটনাটির কথা অকপটে স্বেচ্ছায় স্বীকার করে চারজন ধর্ষক রবিবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে। ধর্ষকরা মহেশখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাজিব কুমার বিশ্বাসের কাছে প্রদত্ত জবানিতে ঘটনার বীভৎসতা এবং ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন।

ধর্ষকরা বলেছেন, তারা ঘটনার রাতে একে একে ১৫ জন বখাটে তরুণীকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের সময় ওই তরুণী তৃঞ্চা মেটানোর জন্য ধর্ষকদের হাতে-পায়ে ধরে পানি চাইলেও এক ফোঁটা পানিও তারা দেননি- এমন কথাও স্বীকার করেন।
আদালতে দেওয়া জবানিতে তারা বলেছেন, পরবর্তীতে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় নারী ইউপি মেম্বার খতিজা বেগম এবং মেম্বার লিয়াকত আলীও মুখ্য ভুমিকা পালন করেছেন। এমনকি নারী ইউপি মেম্বার খতিজা বেগম ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষকদের নিকট থেকে নগদ ৭৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন। সেই সাথে লিয়াকত আলী মেম্বারও ধর্ষকদের কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা নেন। দুই ইউপি মেম্বার বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন।

পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার গ্রেপ্তার করে তিন ধর্ষককে। গ্রেপ্তার হওয়া ধর্ষকরা হলো ওসমান, লাইনম্যান রশিদ ও করিম। তারা সবাই স্থানীয় বখাটে।

গ্রেপ্তারের পর পরই তারা পুলিশের কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া বখাটে মনু মিয়াকেও নেওয়া হয় রিম্যান্ডে। চার ধর্ষকই গতকাল আদালতে জবানবন্দিতে প্রত্যেকেই ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে। ঘটনার পর ধর্ষকের সংখ্যা ১৪ জন বলে বলা হলেও গতকাল প্রদত্ত জবানবন্দিতে ধর্ষকরা নিজেরাই স্বীকার করেন তারা একে একে ১৫ বখাটে তরুণীকে ধর্ষণ করে। থানার ওসি জানান, মামলার পর গ্রেপ্তার হওয়া দুই ইউপি মেম্বারকেও রিমান্ডে নেওয়া হবে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর জানিয়েছেন, দ্বীপের কালারমারছড়া ইউনিয়নের পরিষদের কতিপয় মেম্বার ও ধর্ষকরা মিলে টানা ৫ দিন ধরে তরুণী গণধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিয়ে রাখে। ধর্ষিতা তরুণী চট্টগ্রাম শহরের এক ব্যক্তির ঘরে গৃহপরিচারিকার হিসাবে ছিল। তার মা থাকে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে। মাকে দেখার জন্য চট্টগ্রাম শহর থেকে মহেশখালী দ্বীপে এসেই গত ৭ জুলাই সন্ধ্যায় কালারমারছড়া ইউনিয়নের চালিয়াতলী নামক এলাকায় দুর্বৃত্তদলের কবলে পড়ে সে। দুর্বৃত্তরা পাহাড়ের একটি ঘরের বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে সারারাত ধরে পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।

ধর্ষণের পর তরুণীটি মহেশখালী দ্বীপের মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নারী মেম্বার শামীমা বেগমের ঘরে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া নারী মেম্বার খতিজা বেগম ও লিয়াকত আলী ধর্ষিতাকে থানায় পুলিশের কাছে যেতে বারণ করেন। শামীমার বাড়িতে তরুণীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় ধর্ষক-দলটি ইউপি মেম্বারদের ঘিরে ঘটনার বিষয়টি পুলিশকে না জানানোর জন্য চাপ দেয়। সেই সাথে ধর্ষকের দল আপস-মীমাংসার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে ধর্ষিতাকে ইউপি মেম্বারের ঘর থেকে বাইরে যেতে বাধা দেয়।

পুলিশ গত ১২ জুলাই এমন জঘন্য ঘটনাটির কথা জানতে পেরে মাতারবাড়ীর নারী মেম্বারের ঘর থেকে ধর্ষিতা তরুণীকে উদ্ধার করেন। থানার ওসি বলেছেন, আসলে ধর্ষকের দলটি ধর্ষিতার আলামত নষ্ট করার চিন্তা হয়তো-বা মাথায় রেখে হুমকি-ধমকির মাধ্যমে তরুণীটিকে থানায় না আসার ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই দিনই দুই ইউপি মেম্বারসহ ছয়জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় থানায়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •