cbn  

শহীন মাহমুদ রাসেল:
পবিত্র কোরবানির ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে ঠিক ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে কক্সবাজারের কামার সম্প্রদায়ের লোকেরা। জেলার কামার শিল্পের কারিগরদের দোকানের কাছে এলেই ঠক ঠক শব্দে কান ভারী হয়ে উঠে সকলের। কারন আর কয়েক দিন পরেই মুসলমানদের বড় উৎসব কোরবানির ঈদ। আর এই ঈদে অধিকাংশ মানুষ কোরবানি দেয় তাদের প্রিয় পশুটিকে। কোরবানি ঈদের পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহরিত হয় কামার শিল্পের কারিগরদের বানানো দা, ছ্যান, চাকু, চাপাতি, ছোরাসহ বহু সরঞ্জাম।

শহরের কামরপল্লি, উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা বাজার, উখিয়া বাজার, রামুর ফকিরা বাজার, সদরের খরুলিয়া, বাংলাবাজার, ঈদগাঁও বাজারের কামারদের সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

জেলার বিভিন্ন গ্রামের কামারদের মাঝে ঈদের আমেজে মনবল চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। মরিচ্যা বাজারের কামারপাড়ার রঞ্জিত কর্মকার, সুদীন চন্দ্র কর্মকার ও অখিল চন্দ্র কর্মকার জানান, কোরবানির ঈদের সময় মোটামুটিভাবে ভালই বিক্রি করি তাতেই সারা মাস চলে যায়। আসলে আগের মত আর আমাদের রোজগার নেই অনেক কষ্ট করেই চলতে হয়। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে অনেক সুন্দর সুন্দর জিনিস বের হযেছে। অভাবের তাড়নায় কিনতে পারিনা। তা না হলে আরো ভাল সরাঞ্জামাদি তৈরি করতে পারতাম। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে শত বছরের এই পুরাতন শিল্প আজ ধ্বংসের পথে।

জেলার কামার কারিগরদের কাছ থেকে দোকানিরা অর্ডার দিয়ে কোরবানি কাজে ব্যবহরিত উপকরনগুলো ক্রয় করে তা ক্রেতা সাধারনের কাছে বিক্রয় করে। ক্রেতারা জানালেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের উপকরন গুলোর দাম অনেক বেশি। অন্যদিকে কামার শিল্পের সাথে জড়িত কারিগররা জানালেন, লোহার দাম বৃদ্ধি হওয়ায় দা, ছ্যান, ছোরা, চাকু, চাপাতিসহ এ সব সঞ্জামের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা বলেন, আমাদের পন্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও আমরা ভাল নেই, শুধু কোরবানি ঈদের সময়ে আমাদের কাজের চাপ বেশি হয়। বাকি সারা বছর আমাদের বসে বসে দিন কাটাতে হয়।

আমাদের ব্যবসার অবস্থাও ভাল না। এসকল জিনিষের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তারা জানান, আগে লোহা রডের দাম ছিল প্রতি কেজি ১২ টাকা এবং স্প্রিং জাতিয় লোহার পাতির দাম ছিল ৭০ টাকা কেজি আর এখন লোহার রডের দাম কেজি প্রতি ৭২ টাকা ও পাতির দাম ১৬০ টাকা কেজি। শ্রমিকের মজুরি দিন হাজিরা প্রতিদিন ছিল ১৫০ টাকা আর এখন দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা। আগে গড়ে লাভ হতো এক শত টাকা আর এখন গড়ে লাভ হচ্ছে ৫০ টাকা। যেভাবে বাজারে জিনিষপত্রের দাম বেড়েছে কামারের কাজ করে আর বাচাঁর উপায় নেই। এমন অনেক কামার তাদের এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাবার সম্ভবনার কথা বলছে।

বর্তমানে মাঝারি আকারের ছুরি প্রতি পিস ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, বড় আকারের ছুরি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা, দা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি দা ১২০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চাপাতি কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতি পিস চাপাতির দাম পড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

উল্লেখ্য যে, চাহিদামত কয়লা না পাওয়ায় এবং শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধিতে তারা আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকার সুনজর না দিলে এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •