আমার বাড়ি

প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০১৯ ১০:১০ , আপডেট: ২৭ জুলাই, ২০১৯ ১০:১০

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


cbn  

একেএম লুৎফুর রহমান আজাদ
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় অবস্থিত অসম্ভব সুন্দর ছোট্ট একটি গ্রাম গোহাইল বাড়ি। সখীপুরের অধিকাংশ এলাকা উঁচু হলেও, ভাওয়াল – মধুপুর গড়ের উঁচু টিলাগুলোর শেষ প্রান্তে তিনটি বিল দ্বারা পরিবেষ্টিত আমার গ্রাম। বিল তিনটি হলো রাখাইল, নকুল ও মরা বিল। বিলগুলোর সাথে বংশী নদীর সংযোগ রয়েছে। শুকনো মৌসুমে রাখাইল বিলের আংশিক এবং অন্য বিল দুটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। একমাত্র এই মৌসুমেই জমিতে ফসল উৎপন্ন হয়, যা দিয়ে সারা বছরের খাদ্যের যোগান করেন গ্রামের চাষীরা। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বিল তিনটি ভিন্নরূপ ধারণ করে। পাহাড়ী ঢল এবং বংশী নদীর কারণে পুরো বর্ষা মৌসুম তিনদিক থেকে পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। এই সময়ে গ্রামের সাধারণ মানুষ মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকে।

ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি এই গ্রামের মানুষের সংগ্রামী জীবন। প্রকৃতির এই বৈরিতার কারণে অনেকেই তাদের পেশার পরিবর্তন করতে হয়েছে। তবে অভাব অনটন থাকলেও এই গ্রামে জন্মছেন অনেক গুণীজন। মুক্তিযুদ্ধকালীন ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি আমির উদ্দিন (আমার বাবার ক্লাসমেট), সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সাবেক পিএসসির সদস্য আফাজ উদ্দিন এবং তার ভাই সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল কাদের, সাবেক উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সাবেক উপসচিব আব্দুল হামিদ ( তিনজনই সম্পর্কে আমার দাদা হন) সহ অসংখ্য সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তা। তাছাড়া আমাদের গ্রামে আশেপাশের অন্যান্য গ্রামের অনেক বেশি মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের বাড়িসহ এই গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। এই সকল কারণে টাঙ্গাইল জেলার সকলের কাছেই পরিচিত এই গ্রাম।
বাবার চাকুরীর কারণে ছোটকাল থেকে স্থায়ীভাবে থাকা হয়নি। তবে প্রায়ই আসতাম গ্রামে, বিশেষ করে দাদা বেঁচে থাকতে বেশি আসা হত। এরপর ভার্সিটিতে পড়াশুনা এবং চাকুরীতে যোগদানের পর খুব কম সুযোগ পেতাম। আজ অনেক দিন পর বাড়ি আসলাম এবং বিকেলে গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে উপভোগ করলাম কানায় কানায় পূর্ণ অপরূপ সুন্দর বিলগুলো। অনেক দিন পর একটি সুন্দর বিকেল কাটালাম আর বারবার স্মৃতি রোমন্থন করছিলাম গ্রামের ছোট ভাই নুর আলমের সাথে।
নিমন্ত্রণ রইলো সবার আমাদের এই ছোট গাঁয়।

একেএম লুৎফুর রহমান আজাদ
সদ্য বিদায়ী এনডিসি, কক্সবাজার জেলা।

 

বিদায় বেলায় জেলা প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার আবেগঘন অনুভূতি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •