cbn  

আবু সায়েমঃ কক্সবাজার জেলা কারাগারে ভূমিষ্ট হয়েছে এক নবজাতক । বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শিশুটি জন্মগ্রহণ করে। কারা সূত্র জানায়, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় টেকনাফ থানার জিআর ৭২১/১৮ মামলায় ছেনুয়ারা বেগম নামে এক নারী কারাগারে আগমন করেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ মহিলা অন্তঃসত্ত্বা বিধায় মহিলা ওয়ার্ডে বিশেষ দেখভালের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ উক্ত গর্ভবর্তী মহিলার যত্ন এবং দেখাশুনার নির্দেশ দেন। গতকাল ঐ মহিলার প্রসব বেদনা শুরু হলে, সহকারী কারা সার্জন এর পরামর্শে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। স্বাভাবিকভাবে মহান আল্লাহর রহমতে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সদ্য নবজাতক শিশুটির নামকরণ করা হয়েছে আব্দুল্লাহ । কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুযোগ্য জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ সদ্য প্রসূত বাচ্চাটির নামকরণ করেন এবং নতুন বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী উপহার দেন মা ও শিশুর জন্য।

কারাগারের জেলার রীতেশ চাকমা বলেন, প্রত্যেকটি মানুষকে মৃত্যুুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের সেবা করার জন্য আমি কারাগারে যোগদান করেছি। কক্সবাজার জেলা কারাগারে যোগদান করার পর থেকে আমি আমার মেধা ও মানসিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যথার্থভাবে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার ৮ গুণ বন্দি রয়েছে। ৪৫০০ জন বন্দি নিয়ে আমরা চরম বিপাকে রয়েছি। রাত দিন পরিশ্রম করে শৃঙ্খলার সাথে বন্দিদের আমরা স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে রাখতে কাজ করছি। রাখিব নিরাপদ , দেখাবো আলোর পথ, এ স্লোগানকে ধারণ করে আমাদের পথচলা । বর্তমানে কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার । প্রতিটি বিষয়ে আমরা আমাদের কারাগারের নিরাপত্তা এবং বন্দিদের সুষ্ঠভাবে রাখার জন্য কর্মীদের কাজের প্রতি প্রেষণা সৃষ্টি করে সেবার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

জেল সুপার বজলুর রশীদ আখন্দ বলেন, কারাগার হলো অপরাধ সংশোধনাগার । মানুষকে ভালো পথে ধাবিত করার জন্য এবং যে অপরাধে সে কারাগারে প্রবেশ করেছে আমরা চেষ্টা করি , তাদের বুঝিয়ে এবং মাসিক সভা আয়োজন করে মাদক বিরোধী এবং নানা ধরণের অপরাধ থেকে তারা যেনো ভবিষ্যতে বিরত থাকেন। দীর্ঘ সাড়ে ৩ বছর যাবত আমি কক্সবাজার জেলা কারাগারে নিয়োজিত রয়েছি, কিন্তু কাজ করতে গিয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। চার হাজারের অধিক বন্দিদের সুšদরভাবে রাখার জন্য রাত দিন পরিশ্রম করেছি। কারা কর্মীদের সাথে নিয়ে বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স সেটা রুপান্তরিত করতে কারা কর্মীদের মাদকের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। ফলশ্রুতিতে আমরা ১০ বারের মতো প্রায় ৭০০০ পিস কারাবন্দিদের পেট থেকে ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। সামগ্রিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে কক্সবাজার কারাগারের পরিবেশ বেশ চমৎকার, এবং আজ সফলতার নি:শ্বাস ফেলছি ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •