ফারুক আহমদ, উখিয়া :

উখিয়ার মধ্য রত্মপালং গ্রামে জমিতে চাষাবাদকালে পাওয়ার টিলার ভাংচুরের চেষ্টা সহ কৃষি কাজে বাঁধা দেওয়া হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় ৩ জন আহত হয়। আহতদেরকে উখিয়া ও কক্সবাজার সদর হাসপাতারে ভর্তি করা হয়েছে। তৎমধ্যে আহত দিদারুল আলমের চোখের অবস্থা গুরুতর।ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) সকালে।

প্রত্যক্ষদশীরা জানায়, উপজেলার রত্মপালং ইউনিয়নের কোর্টবাজারস্থ ভালুকিয়া সড়ক সংলগ্ন মধ্য রত্মা গ্রামে ছৈয়দ আলম সওদাগর, ফিরোজ সওদাগর, সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ আলী ও সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম ক্রয়সূত্রে মালিক হিসাবে জমি ভোগ দখল করে আসতেছে। একই এলাকার মৃত যতিন্দ্র কুমার বড়–য়ার ছেলে সুশীল বড়–য়া প্রায় সময় উক্ত জায়গা জোর পূর্বক জবর দখল সহ মোটা অংকের চাঁদা দাবী করে আসছিল।

এদিকে গতকাল সকালে কেয়ারটেকার উলা মিয়া জমি চাষ দেওয়ার জন্য পাওয়ার টিলার নিয়ে গেলে প্রতিপক্ষ সুশীল বড়–য়ার নেতৃত্বে তার ছেলে রুবেল সহ এক দল সন্ত্রাসী বাঁধা সৃষ্টি করে। এমনকি পাওয়ার টিলার ভাংচুরের চেষ্টা সহ চাষাদেরকে মার-ধর করে জমি থেকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করে।

খবর পেয়ে জমির মালিক মেম্বার মোহাম্মদ আলীর ছেলে দিদারুল আলম (৩৮) ঘটনাস্থলে পৌছলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে । তার চোখের অবস্থা গুরুতর ওই সময় দু’পক্ষের হাতাহাতিতে উলা মিয়া (৭০) সুশীল বড়–য়া (৭২) ও তার ছেলেও আহত হয়।

একই এলাকার মৃত বিজয় শ্রী বড়–য়ার ছেলে প্রবাল বড়–য়া প্রকাশ বাবুল বড়–য়া সাংবাদিকদের জানান, আইনশৃংখলা বিনষ্টকারী সুশীল বড়–য়ার কোন স্বত্ব বা মালিকানা নেই উক্ত জমিতে। এর পরও ভূঁয়া কাগজ বা দলিলপত্রাদি সৃষ্টি করে জমি জবর দখল,মোটা অংকের টাকা দাবী ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা তার স্বভাব। তিনি আরও বলেন সুশীল বড়–য়ার নামে সৃজিত বিএস খতিয়ান বা বাতিল করার জন্য আদালতে মামলা করা হয়েছে। যা বর্তমানে বিচারাধীন আছে।

খোজঁখবর নিয়ে জানা যায়, মধ্য রত্মা গ্রামের মৃত অমিত শ্রী বড়–য়ার ছেলে বিশ্বজিত বড়–য়া গং হতে কোর্টবাজারের ছৈয়দ আলম সওদাগর, ফিরোজ সওদাগর, সাবেক মেম্বার মোহাম্মদ আলী ও সাবেক মেম্বার আবুল হাশেম বিগত ১৯৯৬ সালে ২৯ শতক জমি ক্রয় করে । এছাড়াও প্রবাল বড়ুয়া প্রকাশ বাবুল বড়–য়া হতেও ১০ কড়া জমি ক্রয় করা হয়। ক্রয়কৃত জমির দাগের মধ্যে আন্যতম হচ্ছে ৫২৩। জমির মালিক ফিরোজ সওদাগর জানান, ক্রয়কৃত জমি ভূমি অফিস হতে যথারীতি আমাদের নামে সৃজিত খতিয়ান লিপিবদ্ধ করে খাজনা পরিশোধ পূর্বক বহুবছর ধরে ক্রয়কৃত জমি ভোগ দখল করে আসেতেছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতিপক্ষ সুশীল বুড়য়া সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে আমাদের জমি চাষাবাদ কালে বাধাঁ প্রদান ও পাওয়ার টিলার ভাংচুরের চেষ্টা চালিয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •