শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভুয়া ও নকল লাইসেন্সধারী টমটম

ধরা পড়লো জরিপ আলী সিন্ডিকেট

শাহেদ মিজান, সিবিএন:
কক্সবাজার শহরের সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা ব্যাটরি চালিত টমটমগুলো। টমটমের কারণে সৃষ্ট যানজটে প্রতিনিয়ত নাকাল ও হয়রানি হচ্ছে শহরবাসী। ট্রাফিক পুলিশ এবং পৌরসভা নানা প্রচেষ্টা চালালেও কোনোভাবেই টমটমের দৌরাত্ম্য কমানো যাচ্ছে না। পৌরসভার হিসেবে, লাইসেন্সধারী টমটম রয়েছে পাঁচ হাজার। পৌরসভার দাবি মতে, পাঁচ হাজার টমটম শহরের ধারণ ক্ষমতার বাইরে নয়। তবে দৃশ্যত শহরে চলাচল করছে পাঁচ হাজারের আরো অধিক টমটম- এমনটি বলে থাকেন খোদ সংশ্লিষ্টরা। এটা সত্যও। তার নেপথ্যে রয়েছে বেশ সংখ্যক ভুয়া ও এক নাম্বারের একাধিক নাম্বার প্লেটধারী অবৈধ টমটম। টমটমের এই লাইসেন্স জালিয়াতিতে জড়িত রয়েছে শহরের একাধিক সিন্ডিকেট। এই জালিয়াত সিন্ডিকেটের ভুয়া নাম্বার প্লেটধারী তিনটি টমটম আটক করেছে পৌরসভা। এই সিন্ডিকেটের হোতা হলেন, বিগত পৌরসভার নির্বাচনের কাউন্সিলর প্রার্থী জরিপ আলী।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই শহরে চলাচলরত অবস্থায় ভুয়া নাম্বারধারী তিনটি টমটম আটক করেছে পৌরসভার লাইসেন্স তদারক কর্তৃপক্ষ। আর ওই নাম্বার প্লেট জালিয়াতির হোতা হলেন বিগত পৌরসভার নির্বাচনের কাউন্সিলর প্রার্থী ও শহরের ঝাউতলার বাসিন্দা ইউছুপ আলীর পুত্র জরিপ আলী। তিনি ওই টমটমগুলো মালিক নয়, তবে ভুয়া লাইসেন্স নাম্বার প্লেটগুলোর মালিক তিনি। তিনি শহরের ঝাউতলা ও ৬নং ঘাটের অবস্থিত দুইটি টমটমের গ্যারেজের মালিক। সে সুবাদে গড়ে তুলেছেন লাইসেন্স জালিয়াতির সিন্ডিকেট। অনুসন্ধান করে এমনটি তথ্য পেয়েছেন পৌরসভার টমটম লাইসেন্স তদারক কর্তৃপক্ষ। এই জালিয়াতির বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। খোদ মেয়র এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। জালিয়াত চক্রকে চিহ্নিত ও তাদের জালিয়াতির বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কক্সবাজার পৌরসভার টমটম লাইসেন্স ইন্সপেক্টর প্রমোদ পাল জানান, গোপন সূত্রে নিশ্চিত হয়ে গত ১৭ জুলাই ভুয়া নাম্বার প্লেটধারী তিনটি টমটম আটক করা হয়। ওই নাম্বার প্লেটগুলো পৌরসভা কর্র্তৃক ইস্যু করা নাম্বারপ্লেটগুলোর থেকে রং ও ডিজাইনে বিস্তর ফারাক রয়েছে। তাই সহজেই এই অবৈধ নাম্বার প্লেটধারী টমটমগুলো চিহ্নিত করে আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই টমটমগুলো ধরার পর ছাড়িয়ে নিতে পৌরসভায় আসেন জরিপ আলী। তিনি পৌরসভা ভবনে ঢুকে দুঃসাহসিকভাবে টমটমগুলো ছেড়ে দিতে কর্মকর্তাদের চাপ দেন। এই নিয়ে তিনি হেলাল উদ্দীন নামে এক কর্মকর্তাকে নাজেহালও করেন। পৌর ভবনে ঢুকে আটক ভুয়া নাম্বার প্লেটদারী টমটম ছাড়িয়ে নিতে তার এই চাপ প্রয়োগ আমাদের বিস্মিত করেছে। মেয়র আসার খবর পেয়ে কৌশলে সটকে পড়ে জরিপ আলী। পরে আমরা নিশ্চিত হয়েছি টমটমগুলো মালিক জরিপ আলী নয়। তবে ভুয়া নাম্বার প্লেটগুলোর মালিক তিনি। তার গ্যারেজে চার্জ দেয়ার সূত্র ধরেই প্রতিদিন মোটা টাকার বিনিময়ে তিনি ভুলা লাইসেন্স নাম্বার প্লেটগুলো ভাড়া দিতেন। এই ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যেই তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরে দৃশ্যত অবৈধ টমটম চলাচল বন্ধ রয়েছে কিন্তু কার্যত বন্ধ হয়নি। লাইসেন্স নিয়ে কঠোরতা বাড়ার পর গজিয়ে উঠে লাইসেন্স জালিয়াতির ভয়ংকর একাধিক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটগুলো নানাভাবে ভুয়া ও একই নাম্বারের একাধিক প্লেট তৈরি করে লাগিয়ে দিয়েছে অবৈধ টমটমের গায়ে। এভাবে কক্সবাজার শহরের হাজারোধিক অবৈধ টমটম পৌরসভা ও ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চষে বেড়াচ্ছে নির্দ্বিধায়। শহরের ৬নং এলাকা, ঝাউতলা গাড়ির মাঠ, বিজিবি ক্যাম্প, বাসটার্মিনাল ও আলিরজাঁহাল কেন্দ্রিক অন্তত ১০ সিন্ডিকেট টমটম লাইসেন্স জালিয়াতির সাথে জড়িত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবির। ধরা পড়া জরিপ আলী সিন্ডিকেট এর অন্যতম শীর্ষ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটটি ভুয়া ও এক নাম্বারের একাধিক প্লেট বানিয়ে অধৈব ব্যবসার করার অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের অন্তত অর্ধশত ভুয়া লাইসেন্স লাইসেন্সধারী টমটম রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছেন। অন্যান্য সিন্ডিকেটওগুলো একইভাবে টমটম জালিয়াতির করে যাচ্ছে।

তথ্য মতে, একটি নাম্বারের প্লেটধারী চারটি পর্যন্ত টমটম শহরে চলাচল করছে। তবে তারা অত্যন্ত কৌশলের সাথে চলাচল করছে। চারটির মধ্যে একটি কলাতলী, একটি মূল শহরে, একটি মূল শহরের বাইরে এবং আরেকটি বাসটার্মিনাল থেকে লিংকরোড পর্যন্ত চলাচল করে থাকে। এসব ভুয়া নাম্বার প্লেটগুলো অবিকল পৌরসভার ইস্যুকৃত নাম্বার প্লেটগুলোর মতো হওয়ায় কোনোভাবে তা ট্রাফিক পুলিশের নজরে আসতে পারে না।

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান লাইসেন্স ইন্সপেক্টর নূরুল হক বলেন, ‘ভুয়া ও একাধিক নকল নাম্বারধারী প্লেটগুলো অবিকল পৌরসভার ইস্যুকৃত লাইসেন্স নাম্বার প্লেটগুলোর মতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণে স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তা ট্রাফিক পুলিশের নজরে আসে না। তবে অধিক টমটমের চলাচলের কারণে বিষয়টি নানাভাবে আমাদের সন্দেহ হয়। এই রকম তিনটি টমটম আটক করতে সক্ষম হয়েছি। এই ক্লু ধরে অন্যান্য ভুয়া ও নকল লাইসেন্সধারী টমটমগুলো ধরতে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।’

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘পৌরসভা কর্র্তৃক যে সংখ্যক লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে তাতে শহরের ধারণ ক্ষমতার বাইরে যাওয়ার কথা নয়। তারপরও টমটমের দৌরাত্ম্যে রয়েছে। এতে ভুয়া ও নকল লাইসেন্সের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি আওতার আনা হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ

মহেশখালীতে স্কুলে জ্ঞান হারায় ছাত্রী , রাতে ‍মৃত্যু

রোহিঙ্গা নিয়ে ভাবনা ও সরল অংক

টেকনাফে নিহত যুবলীগ নেতার ভাইকে অপহরণচেষ্টা, ক্যাম্পে অভিযান

ঘুরে আসলাম সূর্যোদয়-অস্তের কুয়াকাটা

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার- ১৮

হালিশহরে মহেশখালের উপর অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল সিডিএ

মহাসড়কের ঈদগাঁওতে যত্রতত্রে গাড়ি পার্কিং : ব্যবসায়ীরা বিপাকে

সাবেক সাংসদ ও রাষ্ট্রদূত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরীর ৯ম মৃত্যু বার্ষিকী মঙ্গলবার

এনজিওর ইন্ধনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সন্দেহ-সংশয়

পেকুয়ায় ভূঁয়া এনএসআই কর্মকর্তা আটক

এবার বাহরাইনেও সম্মাননায় ভূষিত নরেন্দ্র মোদি

এবার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে নারী সহকর্মী সানজিদা’র বিরুদ্ধে

পেকুয়ায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

চকরিয়ায় ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার

সৌদিআরবে প্রবাসী সমাবেশ ও হাজীদের সংবর্ধনা

উখিয়ায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গার সমাবেশ থেকে বিশ্ববাসীর কাছে ৫ দফা

পেকুয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

কর্ণফুলী টানেলের বিশাল কর্মযজ্ঞ

রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে : ২ বছরে ৪৭১ মামলায় ১০৮৮ জন আসামী

পেকুয়ায় সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন