ইমাম খাইর, সিবিএন:
চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিন আজ। একদিন পরেই ২৫ জুলাই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বৃষ্টি বাদলের কারণে শুরুতে নির্বাচনী প্রচারণা তেমন জমে না ওঠলেও শেষ পর্যায়ে প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
তবে, নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর লোকজনের হুমকি ধমকিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা আতঙ্কিত। ইতোমধ্যে ভয়ে অনেকে এলাকা ছাড়া হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। প্রতিদিন নির্বাচনী সহিংসতার খবর আসছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইন উদ্দিন হাসান শাহেদের ছোট ভাই সাংবাদিক বাপ্পি শাহরিয়ারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে অন্যান্য প্রার্থীদের কর্মীসমর্থরাও হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে গণমাধ্যমকে অভিযোগ করেছেন।
ইউনিয়নের হাজিয়ান থেকে মোটরসাইকেল প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক মুঠোফোনে জানিয়েছে, সরকার দলীয় লোকজন তাদের হুমকি দিচ্ছে। ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বাবাকে বকুনি দিয়ে আসছে। চাপে পড়ে অনেক মুরব্বি এলাকা ছাড়া।
দিগরপানখালী থেকে বেশ কয়েকজন ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, গত দুই দিন থেকে চাপাচাপি বেড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের কথার বাইরে ভোট দিলে দেখে নেবে বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
এসব কারণে ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি আশানুরূপ হবেনা বলে অনেকের মন্তব্য।
ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দিগরপানখালী গ্রামের বাসিন্দা ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার সভাপতি রতন বরণ দাশ দিনের ভোট দিনেই দিতে চান। রাতের বেলায় যাতে কোন ভোট না হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভোটার জানিয়েছে, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের বিগত পাঁচটি নির্বাচনে ভোট হয়েছে ডাকাতির স্টাইলে। অনেক সময় রাতের আঁধারে আবার দিনের আলোতে সকাল ১০ টার মধ্যেই ভোট শেষ হয়ে গেছে। এবার কিন্তু সেই সুযোগ প্রশাসন দেবে বলে মনে হচ্ছে না।
তবে, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন সুষ্টু হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানান, কোনো ধরনের ভয়ভীতিতে কাজ হবেনা। ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকেই গোপন কক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলবে। এর পরও কোনো দুর্বৃত্তচক্র ভোট ডাকাতি বা জনরায় কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাত্ক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, উপ-নির্বাচন হবে শতভাগ সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য। এ জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যা যা করার প্রয়োজন পড়বে তা-ই করা হবে। ভোটকেন্দ্রে কোন ধরণের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভাই সাংবাদিক বাপ্পির ওপর হামলা
সোমবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের গাবতলী বাজার এলাকায় আনারস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইন উদ্দিন হাসান শাহেদের ছোট ভাই সাংবাদিক বাপ্পি শাহরিয়ারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
হামলার জন্য সরকার দলের প্রার্থী নৌকা প্রতীকের গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর লোকজনকে দায়ী করেছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সাংবাদি মাইন উদ্দিন হাসান শাহেদ।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটছে। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে আরো উৎসাহিত হয়ে হামলা করছে সরকার দলীয় প্রার্থীর লোকজন।
তবে, এমন ঘটনার কথা জানেন না নৌকার প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি দাবী করেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্টু আছে। কোথাও সহিংস ঘটনা ঘটেনি। কোন ঘটনার সঙ্গে তার লোকজন জড়িত নয়।
সুত্র মতে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
সেখান থেকে আলোচনায় আছেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী (নৌকা), বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদুল আলম চৌধুরী (মোটরসাইকেল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক মাইন উদ্দিন মুহাম্মদ শাহেদ (আনারস)।
অপর ৫ প্রার্থী হলেন- ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মোঃ নাজমুল হাসান লিটন (ঘোড়া), সহ-সভাপতি হাসনাত মোহাম্মদ ইউসুফ (রজনীগন্ধা), যুবলীগ নেতা রিদুয়ানুল হক মজিদি (চশমা), সাবেক ইউপি সদস্য রফিক আহমদ (টেলিফোন) ও মোঃ ইখতিয়ার উদ্দিন (অটোরিকসা)।
গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি স্থানীয় এমপি জাফর আলমের আস্থাভাজন ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।
ফরিদুল আলম চৌধুরী ঐতিহ্যবাহি পরিবারের সন্তান। তিনি এর আগেও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন। কেন্দ্র দখল ও ভোটা ডাকাতির কারণে ওই নির্বাচনে তিনি নিকটতম পরাজিত প্রার্থী ছিলেন।
এক সময়ের পরিচিত সাংবাদিক মাইন উদ্দিন শাহেদ ওয়ার্কার্স পার্টির কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হলেও চাপের মুখে শেষ মুর্হুতে সরে দাঁড়ান।
উল্লেখ্য, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করে গত ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত চকরিয়া উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করেন গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। সে কারণে চেয়ারম্যান পদ শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী বিজয়ী হন।
বিধি অনুসারে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উপনির্বাচন ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী উপজেলায় পরাজিত হলেও ইউনিয়নে ফের নৌকা প্রতীক দেয় আওয়ামী লীগ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •