জীবনের অনেক প্রশ্ন ফুরিয়ে যায়...

একজন ডা. বুলবুল বেঁচে থাকে পথ পরিক্রমায়

বিশ্বজিত সেন:
জীবনের অনেক প্রশ্ন জাগে চেতন অবচেতন মনে, কালের সন্ধিক্ষণে সেগুলো আবার ফিরে ফিরে আসে। মানুষের অম্লান অক্ষয় কর্মধারার সাথে তারা শুধু স্মৃতি হয়ে রয়, কিন্তু জাগতিকভাবে বেঁচে থাকে সকল হৃদয়ের গহীনে। বর্ষার মেঘমালার ব্যথার শ্রাবণ মানুষকে আনমনা করে তুলে, কিন্তু জীবনের গতিতো প্রবহমান সেখানে মানবিক কর্মময় জীবন বেঁচে যাকে অবিনশ্বর হয়ে …

দৃশ্যপট ১
ডক্টরস কেয়ারের এক ক্লান্তিময় দুপুর; আমি আর বাল্যবন্ধু ডা. আবদুন নূর বুলবুল চুটিয়ে আড্ডা মারছি। তার সহধর্মিনী ডা. শামীম চলে গেছে নিজ গৃহে। খিদে লাগলেও আড্ডার জোরে কিছুটা চুকেবুকে গেছে। এমন সময় বয়োবৃদ্ধ এক গরিব রোগী লাঠিতে ভর দিয়ে দিয়ে চেম্বারে চলে আসলো। ডাক্তার সাব সাব কয়েকবার বলতেই বুলবুল বললো মনে হয় রোগী এসেছে। আমি একটু দেখি। দু’মিনিট পর বুলবুল একজন রোগীকে নিয়ে চেম্বারে আবার ঢুকে গেলো। দেখলাম রোগীর বয়স হয়েছে, থেমে থেমে কাঁশছে। ছেড়া লুঙ্গি জীর্ণ শার্ট। বুলবুল তখন উনাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাকে বললো উনার ফুসফুসের অবস্থা খারাপ। যক্ষ্মা বা ফুসফুসের মারাত্মক রোগ হয়েছে। হঠাৎ এক পর্যায়ে বৃদ্ধ রোগীটি উঠে বুলবুলকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো। কেঁদে বলে উঠলো বাবা আমাকে বাঁচাও-আমার কেউ নেই বাবা। বুলবুল উনাকে ভালো করে দেখে তারপর ওষুধ দিলো, যেগুলো ছিলোনা নিচের দোকান থেকে কিনে দিলো। একই সাথে সামনের দোকান থেকে একটি লুঙ্গি এবং পাঞ্জাবী কিনে আনলো। লুঙ্গি পাঞ্জাবী দেখে বৃদ্ধের চোখে জল, কাঁদতে কাঁদতে বললো বাবা আল্লাহ তোমাকে হেদায়েত করুক। রোগীটি ওষুধ পত্র নিয়ে বাইরে যেতেই বুলবুল আবার হেঁটে তাকে ডেকে নিয়ে আসলো তারপর ডেস্ক হাতিয়ে নিজের পকেট আমার পকেট থেকে আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগে ১৩০০ (এক হাজার তিনশত) টাকা দিয়ে এবং বললো চাচা আপনি দুধসহ খাবার খাবেন, কোন কিছু অসুবিধে থাকলে আবার চলে আসবেন, আমি আছি।

রোগী চলে যেতে আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম- চিকিৎসা ওষুধটাতো দিয়েছিস টাকা কেন দিলি। সে সহজেই উত্তর দিলো টাকা থাকলেতো আমার কাছে আসতোনা। আর আমি এন্টিবায়োটিকসহ ওষুধ পত্র দিয়েছি। এগুলোর জন্যতো খাবার, দুধ খেতে হবে, না হলে তার শরীরের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে-সঠিক চিকিৎসা হবে না।

খিদে লাগছে বাসায় চল! নিচের দোকান থেকে দশ টাকা ধার নিয়ে দু’জনে তার বাসায় চলে গেলাম…। এর নামতো ডা. বুলবুল… মানবতা… মানুষের বুলবুল।

দৃশ্যপট ২
বর্ষার গভীর রাত্রি। তুমুল বর্ষণে মনে হয় প্রকৃতিও ক্লান্ত। হঠাৎ দেখি আমাদের বাসার দরজায় টকটক করে শব্দ! আমি তখন মোমবাতি জ্বালিয়ে পত্রিকার জন্য লেখালেখি করছি! বুলবুলের এক কথা বিশ্বজিত (বাঞ্চু) বের হতে হবে। দরজা খুলে দিয়ে দেখলাম সে ভিজে সারা, রেইনকোট থাকলেও সারা শরীর দিয়ে জল পড়ছে। হাতে একটা ব্যাগে ওষুধপত্র। আমি আর কোন কথা না বলে বুলবুলের সাথে বের হয়ে গেলাম। সে তখন থাকতো বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল হুদা চৌধুরীর দোতলায়। আমি মনে করেছি বাসার কাছে পার্শ্ববর্তী কারোর অসুখ। না-সে আর আমি হাঁটতে লাগলাম। আমি বললাম বাসায় যাবিনা! এখন না চল, তোকে নতুন জায়গায় নিয়ে যাবো। আচ্ছা চল-দুজনেই প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। আকাশ থেকে তুমুল বর্ষণ আর রাস্তায় হাঁটু পরিমান কাদা পানি। সেগুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে আইবিপি রোডে চলে আসলাম। তখন সে বললো হরিজন পল্লীতে যেতে হবে। রামচরণ/ রাম গোপালের বাবার বেশি অসুখ। রাত দু’টার দিকে চারদিকের বর্ষার শব্দের মধ্যে ঢুকলাম হরিজন পল্লীতে। প্রায় ঘরে আলো নেই, সবাই ঘুমাচ্ছে। একটা প্রান্তে একটি ঘরে নিভু নিভু তেলের কুপি জ্বলছে। ভেতরে এক বৃদ্ধের গোঙানীর শব্দ কয়েকজন নারী-পুরুষ কাঁদছে। বুলবুল আর আমি দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকতে সবাই চমকে উঠলো। বুলবুল টর্চলাইট মেরে বললো আমি ডা. বুলবুল, কস্তুরাঘাট থেকে খবর পেয়েছি ওনাদের আত্মীয় থেকে সেজন্য আমি চলে এসেছি। ঐ বৃদ্ধটিকে আমি চিনি। সেজন্য দায়িত্ব মনে করে চলে এসেছি। আপনারা সরুন, আমি রোগীকে দেখি। বুলবুল রোগীকে দেখে ওষুধপত্র দিলো। দেখি বৃদ্ধ কাঁদছে। বারবার হাত তুলে জোর করে আকাশের উদ্দেশ্যে বলছে বাবারে ভগবান তোমার মঙ্গল করুক, আমাদের আয়ু নিয়ে ঈশ্বর তোমাকে বাঁচিয়ে রাখুক। বুলবুল আসার সময় বলে আসলো অসুখ না কমলে সকালে চেম্বারে নিয়ে যেতে। আমরা বের হয়ে হরিমন্দির সামনে আসতে দেখলাম দু’জন নারী-পুরুষ হাতে গরম চা বেলা বিস্কুট আর দু’গ্লাস জল নিয়ে দৌঁড়ে আসলো। তাদের চোখের কোণে জলের ধারা। এখন আর কি করি বুলবুল বললো, চল হরি মন্দিরের বারান্দায় বসে চা-বিস্কুট খাই। দু’জন তখন হরি মন্দিরের বারান্দায় বসে চা-বিস্কুট খেলাম। ভিতরে ঈশ্বরÑবাইরে মানুষের চোখের জল-বর্ষার জল এক হয়ে বইছে আরেকটি জলের ধারা। বইছে ঈশ্বর আর মানবতারÑযেখানে মহৎ হয় মানুষ প্রকৃতি। এসব কাজে বুলবুলেরা আশা জাগায় অনেক জীবনের জন্য। ডা. বুলবুলের ভিন্নতা ছিল এখানেই!

দৃশ্যপট ৩
তখন তীব্র শীতের রাত। আমি আর ডা. বুলবুল কলাতলি থেকে আমাদের বন্ধু প্রয়াত হাসান আলীর বাসা থেকে ভাত খেয়ে বাসায় ফিরছিলাম। প্রধান সড়কের শহীদ মিনারের মোড়ে ঘুমগাছ তলায় আসতেইÑদেখলাম কিছু মানুষের জটলা, কেউ কেউ কাঁদছে। বুলবুল বললো দোস্ত চল দেখি কি অবস্থা… পূবালী ব্যাংকের সামনে একজন লোক আধশোয়া অবস্থায় বসে আছে। পায়ে ব্যান্ডেজ একটু একটু রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। ব্যাথায় লোকটি গোঙাচ্ছে। পাশে তার স্ত্রী এবং সন্তানরা কাঁদছে। বুলবুল বললো কি হয়েছে? তখন তারা জানালো সে এক বহদ্দারের নৌকায় কাজ করতো। ঘাটে অসতর্কতায় একটি নোঙরের ফলা তার হাঁটুর নিচে ঢুকে গেলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তখন তাকে বোট থেকে নামানো হয়। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মীরা ব্যান্ডেজ করে দিলেও আজ প্রায় ৪/৫ দিন চিকিৎসা করানো এবং বসে থাকায় পায়ের অবস্থা খারাপ। ঘরের মধ্যেও অনাহার চলছে ছোট দু’টি শিশু নিয়ে। এখন আর সহ্য করতে না পেরে রাস্তায় পড়ে আছে। বুলবুল তার সঙ্গে থাকা টর্চ লাইট দিয়ে একটু ব্যান্ডেজ খুলে দেখলো। বললো একে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং অপারেশন করাতে হবে। অপারেশন এবং ওষুধের কথা বলতেই তার রোগীর পরিবার জানালো তাদের অপারেশন তো দূরের কথা পেটে ভাত নেই দু’দিন, ওষুধ নেই। তখন বুলবুল আমার দিকে চেয়ে হেসে বললো তাতে কি হয়েছে? আমি তো আছি। তোমরা রিক্সা নিয়ে হাসপাতালে আসো। আমরা যাচ্ছি। যথারীতি হাসপাতালে গেলাম। বুলবুল নিজে দাঁড়িয়ে রোগী ভর্তি করে ডাক্তার ডেকে এনে নৌকার মৎস্য শ্রমিককে চিকিৎসার ব্যবস্থা করলো। পরদিন সার্জারীর ডাক্তার ডেকে এনে চিকিৎসা করিয়ে ১০ দিনের মধ্যে রোগীকে সারিয়ে দিলো, সাথে সাথে ঐসব দিনের জীবন-যাপনের খরচও দিল ডা. বুলবুল। দায়িত্ব আর মানবতা এই সমার্থক শব্দটি মিশে ছিলো তাঁর জীবনে। এখানেইতো সবকিছুর পর মাথা তুলে মানুষ বেঁচে থাকে। জীবন এবং মানবতার বুলবুলরা জীবনের প্রয়োজনে বারবার ফিরে আসে…

দৃশ্যপট ৪
এখানে আর আমার কিছু লেখার নেই… অন্যান্যরা লিখবেন তাঁদের স্মৃতি নিয়ে। নতুন প্রজন্ম জানবে মানুষ জানবে আমাদের একজন ডা. বুলবুল ছিলো…একজন মহৎ মানুষ ছিলো।

৮ এপ্রিল ২০১৯ সোমবার রাত ১০টার দিকে বুলবুলের মৃতদেহটি যখন জোয়ারিয়ানালাতে তাঁদের পারিবারিক গোরস্থানে মানুষ নামিয়ে দিচ্ছিলো আমি ছিলাম মসজিদের সামনে। সাড়ে তিন হাত মাটি আর শ্বেত শুভ্র কাফন-এই দুনিয়ার সবকিছু ছেড়ে বুলবুল আশ্রয় নিলো মাটির কোলে। চোখের জলে ভারাক্রান্ত মনে মনে বললাম বুলবুল তোকে আমি-আমরা কিভাবে বিদায় দেবো। আমাদের আর কে বা রইলো। একরাশ শোক আর শূন্যতা দিয়ে গেলি-যেটা আমাদের বহন করতে হবে চিরদিন-চিরকাল।

ডা. আবদুন নূর বুলবুল। আমার ৪০ বছরের অধিক বন্ধু-ভাই। সেই শৈশবের কাঠি লজেন্সের দিনগুলো থেকে তার অন্তিম শয়ান পর্যন্ত মনে হয় এর মাঝে কোনদিন ছেদ পড়েনি। অনেক বছর চলেছি তার সাথে। তার পরিবারসহ সমগ্র আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাথে। কিন্তু আমি আর তার মধ্যে বিশেষ কোন ভিন্নতা দেখতে পাইনি। একদিনের জন্য কথা কাটাকাটি মনোমালিন্য হয়নি। পারস্পরিক মূল্যবোধ, সম্মানবোধ আমাদেরকে একান্ত আপন করে রেখেছিলো। একইভাবে সব বন্ধুবান্ধব এবং সকলকে সে আপন করে রাখতো সব সময়। তার ভেতরের মানবতাবোধ এবং প্রখর মেধা বুলবুলের জীবন চলার পথটা ভিন্নতর ছিল। বিজ্ঞানের প্রতিভাবান এবং ক্লাসের এক নম্বর ছাত্র হলেও তার নিজস্ব কোন অহমিকা বা গৌরববোধ ছিল না। সব সময় সে নিজেকে প্রকাশ করতো সকলের প্রতিনিধি হিসেবে ভিন্নতর কিছু নয়।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যালের লেখাপড়াকালীন সময়েও আমরা খুব একটা দূরে থাকিনি। সংস্কৃতি চিন্তা, মানুষের প্রতি তাঁর দরদ, একসময় তাঁকে অনন্য মানুষে পরিণত করে। বুলবুলের পারিবারিক জীবনে শুরু থেকে চলে যাওয়াসহ বিশাল ঘটনা প্রবাহ, স্মৃতি আমাদের কাঁধে থেকে গেছে। চাকুরির প্রতি সে তার কোন দিন মোহ ছিল না। সে এবং তার স্ত্রী অতি সহজেই সরকারি চাকুরিতে চলে যেতে পারতো। কিন্তু যায়নি। নিজেদেরকে জনগণের সেবায় নিবেদিত করতে গ্রামের মধ্যে চিকিৎসা সেবা শুরু করে। ঈদগাঁওসহ বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে এক সময় থিতু হলো কক্সবাজারে। অন্যান্য ডাক্তারদের নিয়ে কমিউনিটি মেডিসিন সেন্টার এবং চিকিৎসাকে সহজলভ্য করার জন্য তারা শুরু করেছিলেন ডক্টরস চেম্বার দিয়ে। কয়েক বছর পর স্বামী-স্ত্রী মিলে দু’জনে শুরু করেন ডক্টরস কেয়ারর্স প্রতিষ্ঠানটি। ভালোই চলছিলো চিকিৎসা কেন্দ্র এবং গরিব মানুষদের সেবা। সাধারণ মানুষকে তাঁরা অসাধারণ সেবা দিয়ে সকল মহলের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

এক সময় তার মাথায় চাপলো জনপ্রতিনিধি হওয়া। জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলো পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যানের দৌঁড়ে এ সমাজের বহুরূপীদের ভিড়ে টিকে থাকতে পারলো না। তবে চেয়ারম্যান হিসেবে যতদিন কাজ করেছে ততদিন আলো ছড়িয়েছে দায়িত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি হিসেবে।

সে সহজে চাকুরি করতে চাইতো না। সময়ের প্রয়োজনে আরআরসি কার্যালয়ে হেলথ কো-অর্ডিনেটর হিসেবে যোগদান করলো। আরআরসি অফিসে রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সাথে সাথে সে কিন্তু যথারীতি চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছে সকল মানুষের জন্য। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গাদের ঢলের মতো চলে আসা শুরু। সে সহ সকলের দায়িত্ব বেড়ে গেলো। দিনরাত পরিশ্রম আর স্বামী-স্ত্রীর মানবিক, সামাজিক কর্মকা- এক অনন্যতায় রূপ নেয়। যেটা তাঁর সহকর্মীরা সকলেই জানে। অনেক সময় অসুস্থ থাকলেও সে সহজে বিশ্রাম নেয়নি। অবশেষে বিশ্রাম নিলো মরণ ঘুমে ৮ এপ্রিল ২০১৯ সকালে। সবকিছু ডেড স্টপ…।

ডা. বুলবুল সম্পর্কে কি লিখবো কোথায় গিয়ে লেখা শেষ হবে জানিনা। তবে সবসময় সে আমাদের ঘিরে আছে। বুলবুল। তো আমাদের শুধু বন্ধু ছিল না সে ছিলো এক ধরনের অভিভাবক। আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সে ছিল সাহায্য সেবা সহায়তার এক মূর্তমান প্রতীক। পারবোনা বিষয়টা ছিল তার জন্য অজ্ঞাত। মৃত্যুকে বরণ করার মধ্য দিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দিলো তার শূন্যতা কত বড় এবং কত ধরনের হতে পারে।

ডা. শামীম আরা নূর (বুলবুলের সহধর্মিনী)
ডা. বুলবুলের কথা লিখতে গেলে অবশ্যই ডা. শামীমের কথা লিখতে হয়। এই অসাধারণ কৃতি নারীকে আমরা দেখেছি বুলবুলের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে। একজন নারীর পরিবার এবং মানবতার জন্য যে বড় ত্যাগ তা আমাদের স্মৃতিতে শুধু নয় জাগতিকভাবেও উদাহরণীয় হয়ে থাকবে। নিরবে নিঃশব্দে জীবনের পথ চলায় প্রিয়জন চলে যাওয়ার সে শোক তিনি বহন করছেন সেটা আর ফুরাবেনা কোনদিন। আমাদের শ্রদ্ধা রইলো এই কৃতি বন্ধুপত্নীর প্রতি!

লেখার কলমটা বারবার থেমে যাচ্ছে। তার সাথে আমাদের ঘনিষ্ঠতা জাতি ধর্ম সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে ছিল। সে ছিলো অনেকের আশার বিন্দু। সে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলো মানবিক সম্প্রীতি আর ভালো কাজ করার বিষয়টি। বেঁচে থাকলে সেটা আরো বেশি হতো। কিন্তু আর হলো না।

আকাশে বর্ষার মেঘ ভারী হয়ে শোক ধারার মতো নামে ধরিত্রীতে। মানুষের কান্না কখন থামে জানিনা। অনন্ত পাথর শোক ভেঙ্গে দেয় মন, পরিবারসহ অনেক কিছু। এ মানুষটি সকলের হৃদয়কে স্পর্শ করে গেছে। যখন একজন গরিব, সাধারণ মানুষ বলে, বড় ভালো মানুষ ছিল ডা. বুলবুল। তখন শোক ফেটে উঠলেও নিজেকে গর্বিত মনে হয়, আমরা তার জীবন মননের বন্ধু ছিলাম। লেখা আর শেষ হলো না। অসমাপ্ত রয়ে গেলো, বুলবুল মন পোড়ে ব্যথা জাগে-যেখানেই থাকিস ভালো থাকিস। দেখা হবে একদিন স্বপ্নের ওপারে… জীবনের ওপারে।

লেখক : সাংবাদিক, গবেষক, পরিবেশবিদ।

সর্বশেষ সংবাদ

‘চেতনায় মুজিব’র উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের ৮ ধাপ অগ্রগতি

বেপরোয়া মোটর বাইক: বাড়ছে দুর্ঘটনা

চট্টগ্রামে জোড়াহত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের মানুষ এখন মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি

উখিয়ায় শহীদ এটিএম জাফর আলম কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন জেলা প্রশাসক

কক্সবাজারে ৪র্থ আন্তর্জাতিক ক্বেরাত সম্মেলন ২ ফেব্রুয়ারী

সৈকতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেশের বৃহৎ আলোকচিত্র প্রদর্শনী

মহেশখালীতে ভূমি অফিসের দালালকে ৫দিনের কারাদন্ড

ব্রাহ্মণবাড়িয়াস্থ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এক্স স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন’র আত্মপ্রকাশ

ই-পাসপোর্টে মানুষ আর ধোকায় পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

ভালো নেই ঢাকার মানুষ

মুজিববর্ষে বাড়ি পাবে দেশের ৬৮ হাজার দু:স্থ পরিবার

সিরিয়ায় বিমান হামলায় নিহত ৪০

উখিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশত দোকান ভস্মীভূত

কীভাবে বুঝবেন গোনাহ করছেন?

বিএনপি এখন নালিশ নির্ভর রাজনীতি করছে- ওবায়দুল কাদের

ট্রাম্পের অভিশংসন শুনানি শুরু: সেনেটরদের লড়াই

ই-পাসপোর্ট যুগে বাংলাদেশ, আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্ল্যানরোহিঙ্গাদের স্থানান্তর ও প্রত্যাবাসনে আরও গুরুত্ব চায় সরকার