মাতলামি

প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০১৯ ১১:২৯

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


নঈম আল ইস্পাহান

বিকেলবেলা বই পড়তে পড়তে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি বুঝতেই পারিনি।ঘুম ভেঙেছে রাত একটায়।খুব নেশায় ধরেছে।মনে হচ্ছে সিগরেট খেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।বাসার গেইট বন্ধ হয়ে যায় রাত এগারোটায়।গেইট টপকে রাস্তায় নামলাম।কয়েকটা কুকুর ছাড়া কোন মানুষজনের আনাগোনা দেখতে পাচ্ছিনা।গলির মুখে রহমত আলীর দোকান সারারাত খোলা থাকে।দোকানের বেঞ্চিতে বসে টানা দুটো বেনসন শেষ করলাম।কিন্তু মনে হচ্ছেনা নেশার ঘুর কেটেছে।মিরাজের কথা মনে পড়লো।সে মগবাজার রেললাইনের বস্তিতে থাকে।সারাদিন গাঁজা খেয়ে পড়ে থাকে।তার নাম্বারটা সেইভ করা আছে।মিরাজের নাম্বারে ডায়েল করলাম।প্রথমবার রিসিভ করলোনা।দ্বিতীয়বার সাথে সাথে রিসিভ করলো।
আমি কিছু বলার আগেই মিরাজ বলল,নেশায় ধরেছে?উত্তরে বললাম,প্রচন্ডরকম।মিরাজ বলল,চলে আসো।রেডিমিট আছে।মিরাজ রেললাইনের উপর বসে ছিলো।আমাকে দেখে মুচকি হেসে দুই স্টিক এগিয়ে দিলো।টানা খেয়ে শেষ করলাম।পুরো শরীরটা হেলেদুলে উঠলো।নাহ,তবুও নেশার ঘুর কাটলোনা।খুবই হতাশ হলাম।মিরাজের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মগবাজার মোড়ের একটা বারে ডুকলাম।বারে ডুকলেই মদের গন্ধে অামার অর্ধেক নেশা হয়ে যায়।কিন্তু আজ হচ্ছেনা।মনে হচ্ছে একটু বাড়িয়ে খেলে নেশার ঘুরটা কাটবে।ওয়েটার অভ্রের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক।সে অর্ডার নিতে এলো।বললো,কয় প্যাগ আনব?উত্তরে বললাম,আজকে একটু বেশি লাগবে।সে আর কিছু জিজ্ঞেস করলোনা।তার জানা আছে আমার কী কী লাগবে।বলল,একটু অপেক্ষা করেন।আমি আসছি।

অভ্রের জন্য অপেক্ষা করছি।আমি জানি যতদূর সম্ভব সে তাড়াহুড়ো করে আমার অর্ডার নিয়ে আসবে।মিনিট কয়েক পরেই অভ্র ফিরে এলো।বলল,রেডি করে দিবো?আমি সম্মতি জানালাম।রেডি করে দিয়ে অভ্র চলে গেল।ডিজে স্প্যানিশ একটি জনপ্রিয় গান প্লে করেছে।শোনতে খারাপ লাগছেনা।আমি মোটেও সময় নষ্ট না করে খাওয়া শেষ করলাম।মনে হচ্ছে একটু মাতাল হয়েছি।মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রাখলাম।সবকিছু ঠিকঠাক দেখতে ও পড়তে পারছি।দাঁড়ানোর পর একটু সমস্যা হচ্ছে।মাথাটা ঘুরছে।মনে হচ্ছে কে যেন জোরে আঘাত করেছে।কিন্তু এবার ও আমার নেশার ঘুর কাটেনি।খুবই অস্থির লাগছে।মনে হয়না কিছুতেই এই নেশা কাটবে।

মোবাইলে সময় দেখলাম।এখন রাত তিনটা ষোল মিনিট।মারিয়ার মোবাইল নাম্বারের লাষ্ট ডিজিট ও ষোল।সে কি এখনো জেগে আছে?নাকি তার স্বামীর সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ব্যস্ত থাকবে!কল দিলে তার স্বামী খুব রেগে গিয়ে তাকে বকবেনা তো?অথবা এতো রাতে এক্স বয়ফ্রেন্ডের কল দেখে তাদের মধ্যে একটা সমস্যা ও হতে পারে।তাদের সমস্যা হলে আমার কী!আর ভাবতে পারছিনা।মারিয়ার নাম্বারে কল দিলাম।রিং হচ্ছে।মারিয়া কল রিসিভ করছেনা।টানা চারবার কল দিলাম।না,থাক।আর দিবোনা।দুইবারের বেশি কল দেওয়া মারিয়া মোটেও পছন্দ করেনা।হয়তোবা সে আগে থেকেই জানত মাঝরাতে আমি কল দিয়ে এভাবে বিরক্ত করবো।তাই ফোন সাইলেন্ট করে রেখেছে।

রাস্তায় মাঝেমধ্যে কয়েকটা প্রাইভেট কার ও রিকশা চলছে।আমি হাঁটছি।আরেকটু সামনে গেলেই রেললাইন।কানে হেডফোন লাগিয়ে ফুল ভলিওমে গান শোনছি।যতক্ষণ পর্যন্ত না রেল আসবে ততক্ষণ হাঁটবো।যেভাবে হোক এই নেশার ঘুর আমাকে কাটাতেই হবে!

রামু,কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •