আতিকুর রহমান মানিকঃ

কক্সবাজার জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোছাইন যেন তুঘলকি সব কান্ড-কারখানা শুরু করেছেন। সরকারি দায়িত্ব মাথায় নিয়েও অফিস করেন না নিয়মিত।
যুক্তি সঙ্গত কোন কারণ ব্যাতিরেকেই দিনের পর দিন অফিসে অনুপস্থিত থাকছেন। দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার সেবাপ্রার্থীরা।
ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, গত ৮ /১০ দিন ধরেই হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে সঠিক সময়ে অফিসে পাওয়া যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে গিয়েও ফেরত আসছে সেবাপ্রার্থীরা। সংশ্লিষ্ট অনেক ডকুমেন্ট টেবিলে পড়ে আছে। হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোছাইন গত এক সপ্তাহে মাত্র দুই ঘন্টা অফিস করেছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
এতে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসের নিয়মিত কাজকর্ম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
একই অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুরো এক সপ্তাহে মাত্র ২ ঘন্টা অফিস করেছেন মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোছাইন।
এই পুরো এক সপ্তাহের মধ্যে কেবলমাত্র ১৫ জুলাই সকালে মাত্র দুই ঘন্টা অফিস করে আবারো ঢাকার উদ্যেশ্যে উড়াল দেন। এভাবে অনুপস্থিতির ফলে সরকারী গুরুত্বপূর্ণ পেমেন্ট আটকে আছে।
সদর উপজেলার ঈদগাঁও থেকে আগত এক ব্যক্তি বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে তার জমি অধিগ্রহনের আওতায় পড়েছে। জেলা প্রশাসনের আওতাধীন ভূমি অধিগ্রহন শাখা থেকে প্রায় একমাস আগে এসব জমির ক্ষতিপূরনের চেক ইস্যু করা হয়৷ কিন্তু জেলা হিসাব রক্ষন অফিসার না থাকায় তার এলএ চেকের ট্রেজারী ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়নি। ফলে এখনো টাকা উত্তোলন করা যায়নি।
একই অভিযোগ করলেন সদরের ইসলামপুর এলাকার এক স্কুল শিক্ষক। তিনি বলেন, রেল লাইন প্রকল্পে অধিগ্রহনের আওতায় পড়া তাদের জমির বিপরীতে ভূমি অধিগ্রহন শাখা থেকে প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এল এ চেক ইস্যু করা হয়। চেকের অনুবলে এল এ শাখা থেকে যথারীতি এ্যাডভাইজ ও স্ক্রলও ইস্যু করা হয়। কিন্তু গত প্রায় দুই সপ্তাহ চেষ্টা করেও জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসারের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় সোনালী ব্যাংক উক্ত চেক নগদায়ন করেনি।
কয়েকজন ঠিকাদারও জানান, জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন কাজের বিল আটকে গেছে। জনভোগান্তির এরকম উদাহরণ আরো অনেক রয়েছে।
সরকারী গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এভাবে লাগাতার অনুপস্থিত থাকতে পারেন কিনা? এমনই প্রশ্ন ভুক্তভোগিদের।
কিন্তু জেলা হিসাব রক্ষন অফিসার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোছাইন ২১ জুলাই (রবিবারও) যথারীতি অফিসে অনুপস্থিত থাকবেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে।
বিগত একসপ্তাহ ধরে বারবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় এ ব্যাপারে জেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোছাইনের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ট্রেজারি অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জয়নাল আবেদীনের সাথে যোগাযোগ করলে বিষয়টি তার আওতাধীন নয় বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার বলেন, বিষয়টি আমার নলেজে নাই। খোঁজখবর নিচ্ছি। রবিবার বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •