এম.এ আজিজ রাসেল:
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পৌরসভার নতুন পরিষদের এক বছর পার হয়েছে। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন দেখা মিলেনি। বিশেষ করে শহরের অভ্যন্তরে সড়ক-উপসড়কে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। পৌর এলাকার প্রায় ১২টি ওয়ার্ডের ৩০টি পাড়া-মহল্লার সড়ক চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাতে সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে খানা খন্দকে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে শহরবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর শহরের আলির জাহাল, রুমালিয়ার ছড়া, তারাবনিয়ার ছড়া, কালুর দোকান, পাহাড়তলী, বৃহত্তর টেকপাড়া, বার্মিজ স্কুল সড়ক, চাউল বাজার রোড, বড় বাজার, বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, গোলদিঘির পাড়, ঘোনারপাড়া, বৈদ্য ঘোনা, এন্ডারসন সড়ক, বার্মিজ মার্কেট, বাজারঘাটা, হাসপাতাল সড়ক, স্টেডিয়াম সড়ক, লাইট হাউস, সমিতিপাড়া, আদর্শগ্রাম, কলাতলী ও হোটেল মোটেল জোন এলাকার সড়কের বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। প্রতিটি সড়কের কার্পেটিংয়ের কোন অস্থিত্বই নেই। এক হাত পর পর ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিপাত হলে বাড়ে দুর্ভোগ। বৃষ্টি ও ড্রেইনের পানিতে একাকার হয়ে যায় সড়কগুলো। সাথে মিশে যায় রাস্তার পাশে জমে থাকা আবর্জনা। ফলে চলাচলে পোহাতে হয় সীমাহীন কষ্ট। তাছাড়া ভঙ্গুর সড়কে নানা সময় ঘটছে দুর্ঘটনা।

চাউল বাজার এলাকার শিক্ষিকা মাউটিন বলেন, এই এলাকার প্রায় সড়ক গ্রামীণ জনপদের চেয়ে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ৫ মিনিটের পথ যেতে লাগে ১৫ মিনিট। বৃষ্টি হলে রাস্তায় জমে থাকে নোংরা পানি। এতে চলাচলে খুব অসুবিধা হয়।

টেকপাড়া এলাকার ব্যাংকার জাহেদ উল্লাহ জাহেদ বলেন, দীর্ঘ এক বছর ধরে এখানকার সড়কে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। খবর নেই জনপ্রতিনিধির। শুধু ভোটের সময় তার দেখা মিলেছিল। বড় পুকুর রোডের ৩ কিলোমিটার জুড়ে শুধুই খানা-খন্দক। এ অবস্থায় হাটাচলায় সকলের ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে। সকলে মিলে মসজিদে যাওয়ার সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে।

হোটেল মোটেল জোন এলাকার পর্যটন ব্যবসায়ী বোরহান উদ্দিন বলেন, বিশ্বে কক্সবাজারের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানকার রাস্তার অবস্থা, ড্রেনেজ ও আবর্জনা ব্যবস্থা খুব নাজুক। যার কারণে পর্যটকেরা এখানে আসলে নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে ফেরেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।

কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, শীঘ্রই সব এলাকার রাস্তা সংস্কার করা হবে। সেই সাথে উন্নত করা হবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এখানে একে অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে লাভ নেই। জনতার কাছে সবাই দায়বদ্ধ। তাই তাদের উন্নয়নে, কক্সবাজারের উন্নয়নে তিনি কারও সাথে কোন আপোষ করবেন বলে জানিয়ে দেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি উদ্বেগজনক। এ নিয়ে উন্নয়ন সমন্বয়ন কমিটির সভায় আলোকপাত করা হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ব্যবস্থা গ্রহণে বলা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •