অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র

আজিম নিহাদ
সাংস্কৃতিক কর্মকা- নেই, চর্চার কোন পরিবেশও নেই। জরাজীর্ণ অডিটোরিয়াম প্রোগ্রাম করার অবস্থায় নেই। পর্যাপ্ত লাইটিং ব্যবস্থা নেই, দীর্ঘদিন ধরে অকেজো সাউন্ড সিস্টেম সহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই। এমন অবস্থায় পৌছেছে, যেন প্রতিষ্ঠানটি দেখার কেউ নেই।
এই হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের। অযতেœ-অব্যবস্থাপনায় ধীরে ধীরে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এমন অবস্থায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের এই দৈন্যদশা দেখে সম্প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ বিটিভি’র সাবেক মহাপরিচালক ও এফডিসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ। গত ১৩ জুলাই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রাখাইনদের বর্ষাবাস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তিনি অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ম. হামিদ বলেন, বাইরে থেকে দেখে মনে হয়েছে খুব সুন্দর একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভেতরের অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এত দুর্বল ব্যবস্থাপনা কেন?
অডিটোরিয়ামের কথা উল্লেখ করে ম. হামিদ বলেন, ‘এটাতো এখন প্রোগ্রাম করার উপযোগী নেই। কোথাও লাইটিং নেই। ঠিকমত সাউন্ড সিস্টেম ব্যবস্থাও দেখা যাচ্ছে না। সবকিছুই কেমন যেন জরাজীর্ণ দেখা যাচ্ছে। এভাবে কেমনে চলবে একটি প্রতিষ্ঠান।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত সংস্কৃতি বান্ধব। এই সংস্কৃতি বান্ধব সরকারের সময়ে এই প্রতিষ্ঠানটা কেন এভাবে পড়ে থাকবে? তিনি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালককে (মং এ খেন) দ্রুত জেলা প্রশাসকের সাথে সমন্বয় করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য প্রকল্প আকারে প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেন।
সূত্রমতে, কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির সংস্কৃতি চর্চার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি সেখানে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো তাদের কর্মকান্ড চালানোর কথা। কিন্তু কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চলে সম্পূর্ণ নিয়মের বিপরীতে। এখানে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনতো দূরের কথা রাখাইন বা অন্যকোন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির আনাগোনা নেই দীর্ঘদিন ধরে। তবে মাঝেমধ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কোন অতিথি আসলে দায়সারার জন্য কিছু রাখাইন তরুণ-তরুণী নিয়ে নামমাত্র প্রোগ্রাম করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা করার জন্য চুক্তিভিত্তিক একজন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি থেকে) নিয়োগ দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত অনেক পরিচালক দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঝেমধ্যে পরিচালকের অনুপস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বরাবরই সব পরিচালকই চরম অবহেলা এবং অনিয়ম করে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেউ কেউ দুর্নীতির স্বর্গ গড়ে তুলেছিলেন। দুর্নীতির দায়ে একজন ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে বিদায় নিতে হয়েছিল।
জানা গেছে, প্রত্যেক পরিচালকই সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপারে চরম উদাসীন ছিলেন। তারা সংস্কৃতি চর্চার বিপরীতে সেখানে অবৈধভাবে রুম ভাড়া দেওয়া, অডিটোরিয়ামকে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভাড়ায় ব্যবহার, মেরামতের বাজেট আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়মে লিপ্ত ছিলেন। এরফলে প্রায় অকার্যকর অবস্থায় পরিণত হয়েছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
কার্যত সংস্কৃতি চর্চা বা প্রশিক্ষণ না করলেও মন্ত্রণালয়ে বাৎসরিক কার্যক্রমের হিসাব পাঠানোর সময় বিভিন্ন ভূয়া প্রশিক্ষণ আয়োজনের হিসাব উল্লেখ করা হয়। শক্ত মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায় কার্যক্রম বা দায়িত্বপালন না করেও পার পেয়ে যায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালকরা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন পড়ে আছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। অডিটোরিয়ামে লাইটিং ব্যবস্থা অপ্রতুল, সাউন্ড সিস্টেম ব্যবস্থা একেবারে শূন্য। অডিটোরিয়ামের মঞ্চ এবং মঞ্চের পেছনে অবকাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল। সর্বত্র অপরিস্কার-অপরিচ্ছন্ন। কোন বাথরুম ব্যবহারের উপযোগী নেই। সবমিলিয়ে বেহাল অবস্থা সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের।
রাখাইন বা অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সংস্কৃতি চর্চায় দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কোন অবদান রাখছে না বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও সাংস্কৃতিক কর্মী মনথেনহ্লা রাখাইন। তিনি বলেন, সরকারিভাবে সব সময় সুযোগ-সুবিধা ছিল। পর্যাপ্ত বরাদ্দও ছিল। কিন্তু কোন পরিচালকই রাখাইনদের সংস্কৃতি চর্চার জন্য কাজ করেনি। সংস্কৃতি বিষয়ে রাখাইনদের একাডেমিক প্রশিক্ষণের জন্যও এগিয়ে আসেনি। এরফলে প্রতিবছর সরকারি বিপুল পরিমাণ বাজেট ফেরত গেছে। পাশাপাশি রাখাইনদের সংস্কৃতি চর্চা মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। সংস্কৃতি চর্চার পরিসর সংকুচিত হওয়ায় তরুণ-তরুণীরা ধীরে ধীরে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতিও বিমুখ হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিচালককে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা আশাবাদী নতুন পরিচালক সেই উদ্যোগ নেবেন।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়া নীড়ের’ সভাপতি কল্লোল দে চৌধুরী বলেন, ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন বা ছিলেন তাদের উদাসীনতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় মরে গেছে। বিশেষ করে এখানে পরিচালকের (ভারপ্রাপ্ত) ভূমিকা থাকে মূখ্য। কিন্তু কোন সময় কোন পরিচালক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে উজ্জীবিত রাখার চেষ্টা করেনি, উদ্যোগও নেয়নি। বরং লুটেপুটে খেয়ে নিজেদের পেট মোটা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সাংস্কৃতিক কর্মীদের সংস্কৃতিক চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল পাবলিক লাইব্রেরী। ভবন নির্মাণ কাজ চলায় সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সংস্কৃতি চর্চার জায়গা সংকটের মুহুর্তে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কার্যকর বা সচল থাকা উচিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড চালানোর অবস্থায় নেই।
সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে স্থায়ী কোন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় না। চুক্তিভিত্তিক একজন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয় থেকে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয় তিনি সঠিকভাবে কোন উন্নয়ন কর্মকান্ডের সিদ্ধান্ত নেন না বা নিতে সক্ষম হন না। যারফলে সঠিক উন্নয়ন হচ্ছে না। কোন রকম হেলেদুলে চলছে। পর্যাপ্ত উন্নয়ন করতে হলে এখানে একজন স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ দেওয়া দরকার।
জোটের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কালচারাল একাডেমিক কোন কার্যক্রম নেই। আমরা প্রত্যেক সভায় নানা বিষয়ে পরামর্শ দিই। কিন্তু কোন সময় কার্যকর হতে দেখা যায় না।
সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন বলেন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নিয়ে অনেক পরিকল্পনা হয়। কিন্তু কোন পরিকল্পনা-ই বাস্তবায়ন হয় না। এখানে কোন রকম সংস্কৃতি চর্চা হয় না। পরিচালক হিসেবে যিনি আসেন তিনি নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালান। এছাড়া যেসব পরিচালক ইতোমধ্যে দায়িত্বপালন করেছিলেন তাদের অদক্ষতা এবং সাংস্কৃতিক মন-মানসিকতারও ব্যাপক ঘাটতি ছিল। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকার পেছনে কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকেও দায়ী করেন তিনি।
এসব সমস্যা কাটিয়ে প্রতিষ্ঠানটি সংস্কৃতি চর্চার উপযোগী করে গড়ে না তুললে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি এবং স্থানীয়দের সংস্কৃতি চর্চা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে দাবী করেন জোটের সভাপতি।
সম্প্রতি কক্সবাজার বইমেলা উদ্বোধন করতে এসে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. আবুহেনা মোস্তফা কামাল। ওই সময় তিনি চলমান সংকট নিরসনের কথা জানিয়েছিলেন।
বইমেলা আয়োজন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনও কথা দিয়েছিলেন আগামী তিনমাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সমস্যা ও সংকট নিরসন করার। ইতিমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
১৩ জুলাই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বর্ষাবাস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহজাহান আলী বলেন, এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করার পেছনে পরিচালকের অদক্ষতায় প্রধান দায়ী। পরিচালক দক্ষতার সাথে কাজ করলে প্রতিষ্ঠানটির এ অবস্থা হতো না। এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের জন্য পরিচালককে উদ্যোগী হতে হবে। জেলা প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে।
কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বর্তমান পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মং এ খেন যোগ দিয়েছেন মাত্র এক মাস আগে। তিনি বলেন, ‘আমাকে সরকার পাঠিয়েছে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। আমি ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সংস্কারের বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শিগগিরই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির একাডেমিক সংস্কৃতি চর্চা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সর্বশেষ সংবাদ

পালংখালী ও কোর্টবাজারে ২ টি কলেজ প্রতিষ্ঠার চিন্তা চলছে : ইউএনও নিকারুজ্জামান

স্মরণঃ আলমগীর চৌধুরী,যুগের আলোয় ভাস্কর শিখা অনির্বাণ

কক্সবাজারে অনৈতিক পন্থায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদায়ন!

প্রাইমারি স্কুলের সভাপতি হতে লাগবে স্নাতক ডিগ্রি

চট্টগ্রাম বন্দরের অনিয়মের ১৫০ টি অভিযোগ দুদকে

উখিয়ায় পানের দাম বৃদ্ধি

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ইয়াবা চোরাচালানকারীদের গুলিতে ২ বিজিবি সদস্য আহত

প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে প্রবাসীরা হয়েছেন কক্সবাজারের উন্নয়ন সারথী : মালয়েশিয়ায় এমপি জাফর আলম

চকরিয়ায় এড.জাহাঙ্গীরের ৩য় জানাজায় শোকাহত মানুষেল ঢল

রামুতে যুবলীগের ৪৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

ফকিরাঘোনা ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় পরীক্ষার্থীদের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

লোহাগাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক জামাল উদ্দিনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

পৌর যুবলীগের উদ্যোগে যুবলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন

নওশন নাওয়ার নিতু কক্সবাজারের শ্রেষ্ট শিক্ষার্থী নির্বাচিত

চকরিয়ায় বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির শ্রেষ্ঠ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাংবাদিক জিয়াবুল হক

উখিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রোহিঙ্গা শিক্ষার্থী থাকতে পারবেনা : ইউএনও নিকারুজ্জামান

লামায় বন্য হাতি তান্ডবে নিঃস্ব হলেন কৃষক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৬

২১ বছরেও জাতীয়করণ হল না ধুইল্যাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট