গুজব নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রাণালয়ের অভয়েও কাজ হচ্ছে না

‘কল্লাকাটা’ নিয়ে ঘুম হারাম!

শাহেদ মিজান, সিবিএন:

‘পদ্মসেতুতে নাকি এক লাখ মানুষের কল্লা লাগবে। তাই কল্লাকাটার দল বের হয়েছে দেশজুড়ে। এই ‘কল্লাকাটা’র দল হিমছড়িতে থেকে দুই ছেলে নিয়ে গেছে। পরে তাদের লাশ পাওয়া যায়। লাশগুলো দাফন করা হয়েছে। আরো বিভিন্ন স্থান থেকে অনেকের কল্লা কেটে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি।’ কক্সবাজার শহরতলীর বড়ছড়ায় বাস করা মাহমুদুল হক এই কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘গত পরশু (১৩ জুন) দরিয়া নগরের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে পাঁচজনের একটি ‘কল্লাকাটা’র দল। ওই ঘরের লোকজনের চিৎকার শুনে পাশ^বর্তী লোকজন এগিয়ে গেলে চলে যায় কল্লাকাটা দল। তবে তাদেরকে কেউ ধরতে যায়নি। কারণ তাদের কাছে নাকি স্প্রে রয়েছে। তা দিলে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়।’

শুধু মাহমুদুল নয়; অশিক্ষিত ও গ্রামের অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে এখন ‘কল্লাকাটা’র কথা। এই নিয়ে চরম আতঙ্কও তাদের মাঝে। এই আতঙ্কে অনেকে নির্র্ঘুম রাতও কাটাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মহেশখালীর কালারমারছড়ার মিজ্জিরপাড়ার এলাকার হামিদুল হক বলেন, ‘ফেসবুকে প্রায় সময় ‘কল্লাকাটা’ দল কর্তৃক ছেলে-মেয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ হচ্ছে। অনেক জায়গায় ধরে নিয়ে যাওয়া ছেলে-মেয়েসহ ‘কল্লাকাটা’ দলের লোকজনকে ধরার ভিডিও-ও ফেসবুকে প্রকাশ হচ্ছে। এতে আমাদের মাঝেও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘কল্লাকাটা’ কাহিনী এখন শহর থেকে গ্রাম-সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এই নিয়ে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। তবে দৃশ্যমান ঘটনা বা কথিত মতে, কোথাও কল্লাকাটা লাশও পাওয়া যায়নি। তারপরও কেন এই আতঙ্ক? তার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে- ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও তথ্য গুজব হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। স্বল্প জ্ঞানের ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এটি গুজব হয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে শহর-গ্রামসহ সর্বত্র। এ কান ও কান করে এই গুজব পুরো বাংলাদেশজুড়ে বিরাজ করছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যাচ্ছে, ‘কল্লাকাটা’ আতঙ্কে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই হার বেশ পরিরক্ষিত হচ্ছে। এই নিয়ে বেশ আতঙ্কে রয়েছে অভিভাবকেরাও। একইভাবে ছেলে-মেয়েদের কোথাও একা পাচ্ছেন না অভিভাবকেরা। এমনকি জরুরী প্রয়োজনেও যেতে দেয়া হচ্ছে না।

কথিত মতে, গত কয়েক বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলছে পদ্মাসেতুর। ইতিমধ্যে এই সেতুর পিলার স্থাপন প্রায় শেষ হয়েছে। স্প্যান স্থাপন চলছে। এর মধ্যে গত একমাস আগে ছড়িয়ে পড়ে সেতু নির্মাণকারীদের স্বপ্নে দেখিয়েছে- পদ্মাসেতুতে এক লাখ মানুষের কল্লা লাগবে। না হয় সেতুর নির্মাণ করা যাবে না। সেতু নির্মাণকারী চীনের লোকজন এই স্বপ্ন দেখে সরকারকে এক লাখ কল্লা দিতে বলে। সরকার সে মোতাবেক সারাদেশ ছড়িয়ে দিয়েছে ‘কল্লাকাটা’ দল। ওই ‘কল্লাকাটা’র দল পুরো দেশ থেকে মানুষের কল্লা সংগ্রহ করছে। কল্লাকাটার দল বিশেষ স্পে প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে কল্লা কেটে নিয়ে দেহটা ফেলে যাচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, প্রকাশ্যে গুজবের পাশাপাশি ফেসবুকেও কিছু ভিডিও দেখা যাচ্ছে। ভিডিওগুলোতে ছেলেধরা ও উদ্ধার হওয়া ছেলে-মেয়েকেও দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে লোকজন কল্লাকাটার দল বলে বলছে। সন্দেহজনক ছেলেধরা মারধর করারও ঘটনাও বেশ দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেলে-মেয়ে নিখোঁজ ও অপহরণের খবরও ফেসবুকে ছড়াচ্ছে। এমনকি কক্সবাজার শহরেও কয়েকজন ছেলে-মেয়ে নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে। তবে এসবের সাথে ‘কল্লাকাটা’র কোনো সম্পর্ক নেই বলে কঠোরভাবে জানাচ্ছেন আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী।

এদিকে ‘কল্লাকাটা’র গুজবটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় এই বিষয়টিকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সরকারের পক্ষ কঠোরভাবে জানানো হচ্ছে- পদ্মাসেতুতে কোনো কল্লা দরকার নেই। এই নিয়ে পদ্মাসেতু প্রকল্প পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান, এটি সম্পূর্ণ গুজব। কোনো একটি কুচক্রী মহল প্রথম এমন গুজবটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে তা বিভিন্ন মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ওই মহলটি পদ্মাসেতুর বিরোধীতার করতেই মূলত এই অপপ্রচারটি ছড়িয়েছে।

যেভাবে গুজব ছড়ালো
২০১৫ সালের ১ মার্চ নদীতে পশুর রক্ত ঢেলে পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতুর পরীক্ষামূলক ভিত্তি স্থাপনের সময় নদীতে গরু ও খাসির রক্ত ঢালতে দেখা যায় চাইনিজ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। ভাসিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি মুরগিও। তাদের বিশ্বাস, বড় কাজের শুরুতে পশু উৎসর্গের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, এড়ানো যায় বড় দুর্ঘটনা। তখন গণমাধ্যমেও এনিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময়ের রক্তের ছবি এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি মহল। অসাধু ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মূল তথ্য আড়াল করে পুরনো সেই ছবিকে মানুষের রক্তের ছবি বলে চালাতে থাকে।

পুলিশের সূত্র বলছে, ২০১৬- ২০১৭ সালে এই চক্রটি চুপচাপ ছিল। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই গুজবের সূত্রপাত হয় । এরপর গত কয়েক মাস চুপচাপ থাকার এবছরের মার্চ মাস থেকে ফের শুরু হয় গুজব। বলা হয়, পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগবে। একটি চক্র এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। পুলিশ সদর দফতর এই ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

গুজব প্রতিরোধে করণীয়
গুজব প্রতিরোধে সচেতন নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পাল্টা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর সুপারিশ করেছেন মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান। পাশাপাশি গুজবকারীদের বিষয়ে কঠোর হয়ে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের আওতায় আনতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের গুজব মানুষ হত্যার হাতিয়ার। গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর আগে আমরা ধর্মসহ বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যা করতে দেখেছি। কিন্তু এধরনের গুজব এই প্রথম। গুজবকারীদের যেভাবেই হোক ধরে আইনের আওতায় আনতে হবে। তার আগে তাদের সতর্ক করতে হবে। আমাদের ডিজিটাল আইনেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।’
এলিনা খান বলেন, ‘অভিভাবকদেরও মনে রাখতে হবে, এধরনের ভীতি যেন শিশুদের মনে না দেওয়া হয়। তাহলে শিশুরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ এটা সম্পূর্ণ গুজব বলেও মনে করেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজার জেলা বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলে রাজপথই হবে আমাদের ঠিকানা- শাহজাহান চৌধুরী

দারুল আরকম তাহ্ফিজুল কোরআন মাদ্রাসার সবক প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আগামীতে কঠিন নির্বাচন হবে, ফাঁকা মাঠে গোল দেয়া যাবে না : নাসিম

ইলিয়াস কাঞ্চনের ‘মুখোশ উন্মোচনের’ হুংকার শাজাহান খানের

ভূয়া ডিবি এএসপি আটক

ঈদগাহ্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় – ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

পর্যটক সেবায় টুয়াক’র ভূমিকা অনস্বীকার্যঃ দ্বিতীয় ভাসানী

ফেসবুক থেকে মিথিলা-ফাহমির ছবি সরানোর নির্দেশ

রোহিঙ্গা গণহত্যার শুনানি, হেগের উদ্দেশে দেশ ছাড়লেন সু চি

অবরোধের অন্তরালে কেমন আছে কাতার?

লোহাগাড়ায় সড়ক দূর্ঘটনায় আহত মান্নার মৃত্যু

চট্টগ্রাম শাহ্‌ আমানতে ২০টি সোনার বারসহ যাত্রী আটক

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ক্রিকেটে বাংলাদেশি নারীদের স্বর্ণ জয়

ঘুম থেকে উঠে প্রাণ গেল……

ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতির জরুরী বৈঠক হয়ে উঠল মিলনমেলায়

ডাকসু ভিপি নুরের পদত্যাগ চান জিএস রাব্বানী

বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা কক্সবাজার জেলা আহবায়ক কমিটির পরিচিতি সভা

উখিয়ায় মাহবুব হত্যার ৭ দিনেও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি