ডেস্ক নিউজ:

সেভ দ্যা চিলড্রেনের আওতাধীন দেশীয় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সিলেট যুব একাডেমির বিরুদ্ধে এক স্থানীয় কর্মী নিয়মবহির্ভূত ছাটাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোনো অভিযোগ ছাড়াই তাকে ছাটাই করছে এই এনজিও। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে উল্টো নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী এই সংস্থার অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ১৩ টি জেলায় সেভ দ্যা চিলড্রেনের “এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রম”একটি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে চলমান রয়েছে। সেভ দ্যা চিলড্রেন বিভিন্ন দেশীয় এনজিওর মাধ্যমে বিভিন্ন এই প্রকল্প কার্যক্রম চালাচ্ছে। তার অংশ হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে কক্সবাজার ও টেকনাফে দুটি ব্রাঞ্চ সিলেট যুব একাডেমি নামে একটি সংস্থার অধীনের পরিচালিত হচ্ছে ।

তথ্য মতে, কক্সবাজারের দুটি ব্রাঞ্চে দীর্ঘদিন ব্যাপক অনিয়ম চলছে। সেভ দ্যা চিলড্রেনের উর্ধ্বতম কর্মকর্তা পরিদর্শন করলে বিভিন্ন সময় এই অনিয়মের বিষয় ধরা পড়ে। শেষে তারা কৌশলতগতভাবে সেভ দ্যা চিলড্রেন টিমের কক্সবাজারের নাইট গার্ড ওমর ফারুককে সিলেট যুব একাডেমির অনিয়মের বিষয়ের খেয়াল রাখতে নির্দেশ দেয় সেভ দ্যা চিলড্রেনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। সে মোতাবেক আবারো অনিয়ম করায় নাইটগার্ড ওমর ফারুক বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানায়।

ওমর ফারুক বলেন, সিলেট যুব একাডেমির লোকজন নানা কাজে ফাঁকি, ভুয়া কার্যক্রমসহ নানাভাবে অনিয়ম করে যাচ্ছি। কিন্তু সেভ দ্যা চিলড্রেন অনিয়মের বিষয়ে তাদেরকে জানাতে আমাকে নির্দেশ দেন। তার অংশ হিসেবে বিগত ১২ এপ্রিল ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন প্রদানের নির্ধারিত দিন ছিলো সিলেট যুব একাডেমির। আদেশ হয় ওইদিন সকল কর্মীরা ও কর্মকর্তারা অফিসে এসে প্রতিবেদন প্রদানের কাজ করবে। কিন্তু ওইদ দিন প্রোগ্রাম মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন অফিসার মাহফুজুর রহমান ছাড়া সবাই অনুপস্থিত ছিলো। তবুও মাহফুজ সেভ দ্যা চিলড্রেনের হেড অফিসে জানায়- সবাই উপস্থিত ছিলো।

তিনি আরো বলেন, অন্যদিকে কক্সবাজারের মেডিকেল সহকারী খতিজা বেগম একজন রোগীকে সেবা দিয়ে রেজিস্ট্রারে ৪ জন রোগীর নাম-ঠিকানা লিখে জাল স্বাক্ষর দিয়ে সে মোতাবেক ওষুধ চুরি করে। এসব অনিয়মের বিষয়গুলো নাইট গার্ড আমি হেড অফিসে ফোন করে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রবিবার (১৪ জুলাই) সিলেট যুব একাডেমির এমএন্ডই অফিসার মাহফুজ বিনা নোটিশে আমাকে অফিস থেকে বের করে দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মাহফুজ কক্সবাজারে যোগদান করে ২৮ এপ্রিল। এই অল্প সময়ের মধ্যে প্রোগ্রাম মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন অফিসার মাহফুজ তার বিভিন্ন আত্বীয়-স্বজনকে স্বজন-প্রীতির মাধ্যমে কক্সবাজার আর টেকনাফ ব্রাঞ্চে চাকরী দিয়েছে। টেকনাফ মেডিকেল সহকারী নাজমা খাতুন ( রাজশাহী), কক্সবাজারের মেডিকেল সহকারী খতিজা আকতার (রাজশাহী), কক্সবাজারের কর্মী তসলিমা বেগম মাহফুজের স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। এভাবে আরো বেশ কয়েকজনকে এভাবে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরি দিয়েছেন।

মহেশখালীর বাসিন্দা চাকরিচ্যূত ফারুকের বাবা অসুস্থ নুরুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবারের একমাত্র অর্থ উপার্জনের উৎস ফারুক। তার চাকরী না থাকলে তার বাবা-মা ছোট ভাই-বোন অনাহারে থাকবে। তিনি উক্ত বিষয়ে প্রসাশনের সহায়তা কামনা করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে  সিলেট যুব একাডেমির  প্রোগ্রাম মনিটরিং এন্ড ইভালুয়েশন অফিসার মাহফুজুর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •