সংবাদদাতাঃ
শিক্ষকদের ক্লাসে যেতে হুমকি, ক্লাস রুটিন ছিঁড়ে ফেলা, শিক্ষক হাজিরাসহ মূল্যবান কাগজ দলিলাদি লুটসহ বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কৃত শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রামু চাকমারকুল মাদ্রাসার মুহতামিম (পরিচালক) মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।
গত ২ জুলাই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং -১ (রামু)তে মামলাটি দায়ের করা হয়। যার মামলা নং- সিআর -২৩১/১৯।
মামলাটি তদন্তের জন্য ৮৩১/১৯ নং স্মারকমূলে আদালত থেকে রামু থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার একমাত্র আসামি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক পশ্চিম চাকমারকুল এলাকার মরহুম মাওলানা আব্দুর রহিমের ছেলে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা রাখা হয়েছে আরও ৩/৪ জন আসামি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রামু থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসাইন জানান, ঘটনার বিষয়ে সরেজমিন গিয়ে সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আদালতের কাছে সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এদিকে মামলার আরজিতে বাদী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, কক্সবাজার জেলার প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম চাকমারকুল মাদ্রাসা ১৯৪৬ সনে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৯ সনে প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস পটিয়ার তত্ত্বাবধানে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হয়ে আসছে। যার রেজিষ্ট্রেশন নং-০৪। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অতি সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক শিক্ষকতা করাকালে এলাকার কিছু কুচক্রী মহলের প্ররোচনা ও উস্কানিতে মাদ্রাসার শিক্ষক, ছাত্রদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অধিকাংশ সময় মাদ্রাসায় অনুপস্থিত, বিধিবহির্ভূত কাজকর্মসহ নানা অপরাধের কারণে পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে বহিষ্কার করা হয়।
তিনি জানান, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক গত ৫ মে মাদ্রাসার মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। মাদ্রাসার মসজিদে নিয়োগপ্রাপ্ত বেতনধারী খতিব ও ইমাম থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক জুমার বয়ান করেন। গেল রমজানের ছুটি শেষে ১০ জুন মাদ্রাসা খোলার তারিখে ভর্তি কার্যক্রমে বাধা শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি প্রদান করেন বহিস্কৃত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক।
গত ১৯ জুন ক্লাস বন্টন পূর্বক পাঠদান শুরু হয়। ২২ জুন সকালে অতর্কিতভাবে মাদ্রাসায় অনধিকার প্রবেশ করে কর্মরত শিক্ষক মাস্টার জিয়াউর রহমান, মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা নুরুল হককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। মাদ্রাসার নোটিশ বোর্ডে টাঙ্গানো ক্লাস রুটিন ছিঁড়ে ফেলে এবং শিক্ষক হাজিরা খাতাসহ মূল্যবান কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
মামলার বাদী জানান, মাদ্রাসা বন্ধ করে দেয়ার জন্য যা যা করার তাই করবেন বলে হুমকি দিয়েছেন মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক।
মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম দুঃখের সঙ্গে বলেন, গত ২২ জুন দাওরায়ে হাদিসের মুসলিম শরীফ পাঠদানরত শিক্ষক মাওলানা সোলাইমান, জামাতে উলার জালালাইন ক্লাস চলাকালীন মাওলানা হারুন রশিদ (জাদিদ), মাওলানা হারুন (কদীম)কে পাঠদানে বাধা প্রদান করেন এবং দায়িত্বরত আজিজুর রহমানকে ক্লাস নিতে ও মাদ্রাসায় ঘন্টা বাজাতে নিষেধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এছাড়া নিজের ছোট বোন মর্জিনা সুলতানাকে বাদি বানিয়ে মারধর ও শ্লীলতাহানীর অভিযোগে বড় ভাই আবদুল গফুরসহ চার জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় মিথ্যা, সাজানো মামলা করান আব্দুর রাজ্জাক। ওই মামলায় আমাকেও আসামি দেখানো হয়েছে।
এর আগে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা নজিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাল্পনি ও মিথ্যা অজুহাতে একজন ছাত্রকে দিয়ে আরেকটি মিথ্যা মামলা করানো হয়। যেসব মামলার সাথে ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই।
মারাসার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গত রবিবার (১৪ জুলাই) দিবাগত রাতে ৬টি সিসি ক্যামেরা গায়েব করে নিয়ে যায় স্বার্থান্বেষী মহল।
মাদ্রাসার প্রবেশ পথ থেকে পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অঘটন করেও যাতে সিসি ক্যামেরায় ধরা না পড়ে, সে কৌশল হিসেবে কুচক্রী মহল এমনটি করেছে বলে ধারণা মুহতামিম মাওলানা সিরাজুল ইসলামের।
মাদরাসা ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্খীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •