অনলাইন ডেস্ক : সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও ছাত্রশিবিরের (চবি শাখা) সাবেক সভাপতি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের একটি সেমিনার আয়োজন করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে শুরু হয় তোলপাড়। ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে বিভাগের তিন শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (তথ্য ও ফটোগ্রাফি) দিবাকর বড়ুয়া।

জানা যায়, প্রশাসনকে না জানিয়ে গত ২০ জুন বিভাগের সেমিনার কক্ষে অত্যন্ত গোপনে জামায়াতের সাবেক সাংসদ হামিদুর রহমান আযাদের সেমিনার আয়োজন করা হয়। তার দুই দিন আগে এ বিষয়ে নোটিশ দিলেও তাতে গোপন রাখা হয় ওই জামায়াত নেতার পূর্ণাঙ্গ পরিচয়। আর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তার পিএইচডি গবেষণার রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হলেও তাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদ্যবিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক, পিএইচডি সুপারভাইজার অধ্যাপক ড. এএফএম আমীনুল হক এবং সেমিনার আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ড. মুহাম্মদ মমতাজ উদ্দিনকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের আগামী তিন দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নূর আহমদ।

এ বিষয়ে প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন হলুদ দলের আহ্বায়ক ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসনকে অবহিত না করে একজন জামায়াত নেতার সেমিনার আয়োজন অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। তা ছাড়া তার পিএইচডির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোন প্রক্রিয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে, তা তদন্ত করে বের করা দরকার।’ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ঘটনা। আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা আমার প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই জামায়াত নেতার সেমিনার আয়োজন করে। তবে যারাই এ ঘটনায় জড়িত থাকুক সবার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
– আমাদের সময়

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •