কালোবাজারি ও বিষাক্ত সোডিয়াম সালফেট ধ্বংস করছে দেশীয় লবণ শিল্প

ইমাম খাইর, সিবিএন:
বিগত ৫৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশী লবণ উৎপান হয়েছে এ বছর। এরপরও লবণের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা চাষিরা। নতুন করে আমদানির পাঁয়তারা চলছে। কালো বাজারি, উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া ও বিষাক্ত সোডিয়াম সালফেটের কারণে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় লবণ শিল্প। মাঠে ও মিলে পড়ে রয়েছে অন্তত ৬ লাখ মেট্রিকটন অবিক্রিত লবণ। লবণের সঠিক চাহিদা নিরূপনে বিসিকের ব্যর্থতা ও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে কালো বাজারিদের লবণ আমদানির কারণে দেশীয় লবণ খাত মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারছেনা। উঠে আসার পথে আবার পিছিয়ে যাচ্ছে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাত। সামনের মৌসুমে লবণ চাষিরা মাঠে যাবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজারের লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে দেশে লবণের চাহিদা ছিল ১৫ দশমিক ৭৬ লাখ মেট্রিকটন। এই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ লাখ মেট্রিকটন। এ হিসাবে চাহিদার তুলনায় লবণের ঘাটতি ছিল ২ লাখ ১২ হাজার মেট্রিকটন। সেই বছর ৫ লাখ মেট্রিকটন আমদানি বাদে ২ লাখ ৮৮ মেট্রিকটন উদ্বৃত্ত থাকে।
২০১৮ সালে ১৬ লাখ ২১ হাজার মেট্রিকটন লবণ চাহিদা ছিল। এই বছর ১৪ লাখ ৯৩ হাজার মেট্টিকটন লবণ উৎপাদন হয়। ঘাটতি থাকে ১ লাখ ২৮ হাজার মেট্টিকটন। ২০১৭ সালের উদ্বৃত্ত ২ লাখ ৮৮ মেট্রিকটন বাদে চাহিদার তুলনায় ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ উদ্বৃত্ত ছিল।
২০১৭-২০১৮ সালে ১ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন লবণ উদ্বৃত্ত থাকলেও কালোবাজারিদের মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে ঢুকে পড়ে প্রায় ৯ মেট্রিকটন লবণ। যা বাজারে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে বাইরের লবণ খালাসের তথ্য আছে। ২০১৮ সালে ১৮ লাখ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ২৪ লাখ মেট্রিকটন।
লবনমিল মালিকদের একটি সুত্র জানিয়েছে, বিসিকের অসাধু কর্তারা কারসাজি করে কালোবাজারিদের সুযোগ করে দেয়। যে কারণে বারবার দেশীয় লবণশিল্প মার খাচ্ছে। উদ্বৃত্ত থাকার পরও প্রতি বছর লবণ আমদানি করা হয়। টেক্স ফ্রি সোডিয়াম সালফেট ছড়িয়ে দিচ্ছে বাজারে।
সোডিয়াম সালফেটে পিএইচ ৯ থাকে। যা কলকারখানায় ব্যবহার হয়। এই লবণ খাদ্য অনুযযোগি ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভোজ্য লবণে পিএইচ থাকে ৭। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী সোডিয়াম সালফেট বাজারে বিক্রি করছে। মানব জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
কক্সবাজার, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপজেলা (আংশিক)সহ ৬৪ হাজার ১৪৭ একর জমিতে ৫৫ হাজারের বেশি চাষি লবণ চাষ করে। কিন্তু দালাল, ফঁড়িয়া ও আমাদনির চক্রে বারবার ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত চাষিরা। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে বসে এনে লবণ আমদানি করে।
লবণ মিল মালিক, ব্যবসায়ী, চাষিসহ সংশ্লিষ্টদের দাবী, দেশীয় লবণশিল্প বাঁচাতে সমস্ত লবণ আমদানি বন্ধ করতে হবে। ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে মাঠে ফেরানো যাবেনা চাষিদের। লবণের পরনির্ভর হবে দেশ, বাড়বে বেকারত্ব। সুডিয়াম সালফেটের আড়ালে যারা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্ট, সোডিয়াম ক্লোরাইড আমদানি তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
২০১৮-১৯ অর্থ বছরে আমাদের লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদা ছিলো ১৬ দশমিক ৫৭ লাখ মেট্রিকটন। চাহিদার তুলনায় এবার বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। বিগত ৫৮ বছরের মধ্যে এ বছরের যে লবণ উৎপাদন হয়েছে তা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। তবু লবণের নায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন চাষীরা। ৭৪/৭৫ কেজির অপরিশোধিত লবণের বস্তা ২৩০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পরিশোধিত বস্তাপ্রতি ৬৪০-৬৭০ টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। যা বিগত মৌসুমের দামের প্রায় এক তৃতীয়াংশ। ২০১৮ সালে সরকারীভাবে লবণ আমদানি না হলেও চোরাই পথে ঠিকই ঢুকেছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে দেশীয় লবণশিল্পকে বাঁচানো যাবেনা।
বিসিক কক্সবাজারের উপমহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আহামদ বলেন, একটা শ্রেনী লবণ আমদানির জন্য সরকারকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। বিসিকের চাহিদার তুলনায় প্রচুর লবণ বেশী মজুদ আছে।

সর্বশেষ সংবাদ

লামায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বিএনপি নেতা সিরাজ অসুস্থ : দেখতে গেলেন কাজল

জয়শঙ্করের সফরে গুরুত্ব পাবে তিস্তা চুক্তি

চট্টগ্রামে সাড়ে ৭ মাসে ৮০০ ছাড়ালো ডেঙ্গু রোগী

এতিম-মিসকিনের টাকা নিয়ে নৈরাজ্য

শোকের মাসে বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান করছে না আলীরাজ পরিবহণ

বৈদ্যুতিক খুটি সরাতে ২৬ আগষ্ট বন্ধ থাকবে মেরিন ড্রাইভ সংযোগ সড়ক

কক্সবাজার কলাতলী ফ্লাট থেকে ইয়াবাসহ আটক ৩

কিশোরী ধর্ষণের দায়ে ভুয়া পীর ‘নেজাম মামা’ গ্রেফতার

শাহীনুল হক মার্শালকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন চকরিয়া প্রেসক্লাব সভাপতি আবদুল মজিদ

ইন্ডিপেনডেন্ট কমিশন অব ইনকোয়ারি প্রতিনিধিদল সোমবার ক্যাম্প পরিদর্শনে আসছেন

চকরিয়া শপিং সেন্টারে আবর্জনার স্তুপ

পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে মশক নিধন অভিযান

চট্টগ্রামে পাঁঠা বলির সময় যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন

ওষুধ কোম্পানির ৭ প্রতিনিধিকে জরিমানা

রাঙামাটিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনাসদস্য নিহত

প্রত্যাবাসন নিয়ে গুজবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আতঙ্ক, সতর্ক প্রশাসন

সাংবাদিক বশির উল্লাহর পিতার মৃত্যুতে মহেশখালী প্রেসক্লাবে শোক

শহরে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় কর্মচারীর উপর হামলা