শাহীন মাহমুদ রাসেল :

মাদক নেশায় যোগ হয়েছে চেতনানাশক ট্যাবলেট, ব্যাবস্থাপনা ছাড়া মিলছে ঘুমের ঔষধ। রামু উপজেলা সহ গ্রামের অলিতে গলিতে ফার্মেসী গুলোতে চলছে ডাক্তারের ব্যাবস্থাপত্র ছাড়া ঘুমের ঔষধ বিক্রির রমরমা ব্যবসা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ঔষধ বিক্রির অন্তরালে বিক্রি করছে নেশাজাতীয় ইনজেকশন, সিরাপ ও ঘুমের ট্যাবলেট।

ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজার পাশাপাশি এবার নেশার রাজ্যে যুক্ত হয়েছে ঘুমের ট্যাবলেট। প্রশাসনের চাপের মুখে কিছুটা বন্ধ হয়ে গেছে মাদকের ব্যাবসা। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন ধরণের ঘুমের ট্যাবলেট মাদক সেবীদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নেশার ক্ষেত্রে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনার পর থেকে মাদক সেবীরা মাদকের বিকল্প হিসেবে ঝুঁকে পড়েছে বিভিন্ন কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেটের উপরে। হাত বাড়ালেই ঔষুধের ফার্মেসী গুলোতে অনায়াসে মিলছে ঘুমের ট্যাবলেট।

সদর ও রামু উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে লাইসেন্সবিহীন এবং লাইসেন্সধারী ফার্মেসীতে বিক্রি হচ্ছে ঘুমের ট্যাবলেট।সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দেশের নামী দামী বিভিন্ন কোম্পানীর ঘুমের ট্যাবলেট বিক্রয় করছে ফার্মেসীগুলো। যদিও সরকারি নীতিমালায় ঘুমের ঔষধ বিক্রির ক্ষেত্রে, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র প্রয়োজন। কিন্তু সদর ও রামু উপজেলার ফার্মেসী গুলোতে ঘুমের ঔষধ বিক্রি হচ্ছে ডা. এর ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই। যার ফলে মাদকসেবীরা খুব সহজেই মাদকের পরিবর্তে ঘুমের ট্যাবলেটকে নতুন মাদকরুপে সেবন করছে।

চেতনা নাশক ঔষধের মধ্যে রয়েছে সিরামিন সিরাপ ইবনেসিনা কোম্পানী, ডেক্সপ্রোফেন ও ডেক্সপ্রোটেন প্লাস সিরাপ, ইস্কায়েফ কোম্পানী, স্কয়ার কোম্পানীর সিরাপ তুসকা, লাইজন ৩ এমজি, সেডিল ২০ পিস ৫এমজি, ট্রাইপট্রিন ১০/২৫এমপি, ডরমিটল ৭.৫/১৫ এমজি, রেডিএন্ট কোম্পানীর এবং ল্যাগজুটেনিল ৩এমজি, অরিউন কোম্পানীর গোফাম ৩ এমজি, সেনডোজ কোম্পানীর এক্সিউনিল ৩এমজি, অপসোনিন কোম্পানীর ইজিয়াম ৫এমজি পেইস ২এমজি, ইনসেপটা কোম্পানীর হাইফনোফাস্ট ১৫এমজি, ডিসোপান ২এমজি, ক্লোসান ২এমজি, এসকেএফ কোম্পানীর মিলাম ১৫এমজি।

এগুলো এখন উঠতি বয়স্ক তরুন-তরুনীদের মাঝে আকর্ষনীয় আসক্তির বস্তু হয়ে দাড়িয়েছে। এইসব ঘুমের ঔষধ গুরুতর অসুস্থ্য, দুর্ঘটনার আহত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ লোকজনের ঘুমের জন্য ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়।এইসব ঔষধ ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও অতি মুনাফার আশায় বিক্রি করছে কিছু অসাধু ঔষধ ব্যবসায়ীরা। আর সুযোগ নিচ্ছে মাদকসেবীরা। বিপথগামী স্কুল পড়ুয়া ছাত্র থেকে শুরু করে কলেজ পড়ুয়া তরুণ সমাজ আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে মাদকরুপী ঘুমের ঔষধের কারনে।

ফুয়াদ আল খতীব হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শাহীনের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ জাতীয় ঔষধ গুলো অধিক মাত্রায় সেবন করলে কিডনি ও লিভারের সমস্যা হয়। এই ওষুধগুলো প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রয় করা নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু ফার্মেসি মালিক অধিক মুনাফার লোভে এই ওষুধগুলো বিক্রয় করে থাকে। আর এসব ওষুধ খেয়েই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে উঠতি বয়সী যুবকেরা।

ব্যাবস্থাপত্র ছাড়া ফার্মেসি গুলোতে এমন অবাধ উত্তেজক ট্যাবলেট ও সিরাপ বিক্রি হওয়ায় সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবী, ফার্মেসি গুলোতে ঔষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে ঔষধ নীতিমালার আওতায় আনার যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত ড্রাগ সুপার প্রিয়াংকা দাশ গুপ্তা এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ঔষধ বিক্রয়ের অপরাধে একাধিকবার বিভিন্ন ফার্মেসি কে মোবাইল কোট করে জরিমানা করেছি। এরপরেও যদি কেউ বিক্রয় করে আমরা ব্যবস্থা নেব। প্রশাসন চাইলেই আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব। আমি শুধু প্রসিকিউশন দেয়ার মালিক আইনগত ব্যবস্থা প্রশাসনকেই নিতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •