নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক কালাগাজির পাড়ায় প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আবু কায়সার হত্যা মামলার আসামীরা তার পরিবারের লোকজনকে হত্যাসহ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আত্মসমর্পণের পর জেল কেটে সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে সন্ত্রাসীরা এই হুমকি দিচ্ছে। এতে নিহত আবু কায়সারের পরিবারের লোকজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আবু কায়সারের স্ত্রী নাহিদা সুলতানা মুন্নি এই অভিযোগ করেছেন।

স্ত্রী নাহিদা সুলতানা মুন্নি জানান, আধিপত্য বিস্তার করতে না পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে কালাগাজির জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা ২৯১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দিনদুপুরে ওই এলাকার মৃত জোনাব আলী মেম্বারের পুত্র তার স্বামী আবু কায়সারকে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু রাজনৈতিক ও নানা কারণে আমাদের অজান্তে পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে মামলা করেছিল। আমাদের দায়ের করা এহাজার মামলা হিসেবে রুজু করেনি। পরে জালাল বাহিনীর গড়ফাদার রমিজ আহমদসহ কায়সারের অন্যান্য হত্যাকারীদের আসামী করে আদালতে মামলা করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য মহেশখালী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ মতে, মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় রমিজ আহমদকে প্রধান আসামী করে ৩১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসীট দাখিল করে পুলিশ।

নাহিদা সুলতানা মুন্নি বলেন, হত্যার ঘটনার পরপরই র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে আবু কায়সারের হত্যাকারী জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। কয়েকদিন আগে এসব সন্ত্রাসীরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে। জেল থেকে বেরিয়েই তারা আমাকে এবং আবু কায়সারে ভাই আবুল কাশেম, আবু শামাসহ অন্যান্যদের মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তাদেরকে আসামী করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা যেকোনো মুহূর্তে অন্যদের খুন করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এতে আমরা চরম অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আবু কায়সারের বড়ভাই আবুল কাশেম জানান, আবু কায়সারকে প্রকাশ্যে দিন-দুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। বিষয়টি পরে পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়। তাই হত্যাকারীদের নাম নথিভুক্ত করে আদালতে চার্জসীট দাখিল করেছে পুলিশ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সন্ত্রাসীরা আমাদের খুনসহ নানাভাবে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে। এই মুহূর্ত পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমরা আশ্রয় কামনা করছি।

আবুল কাশেম অভিযোগ করে বলেন, ‘জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা পেশাদার সন্ত্রাসী। তাদের কারণে এক সময় এলাকায় সাধারণ মানুষ থাকতে পারেনি। সেই সময় আমার বাবা মেম্বার হিসেবে এর প্রতিবাদ করেছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জালাল বাহিনীর সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালিয়েছে। সর্বশেষ তারা আমাদের আদরের ছোটভাই আবু কায়সারকে দিন-দুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •