সংবাদদাতাঃ

রামু উপজেলার চাকমারকুল উম্মাহাতুল মুমিনিন বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি বিধি মোতাবেক কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পকেট কমিটির সহযোগিতায় সুপার পদ দখল করে প্রায় এক দশক ধরে মাদরাসার নামে চাঁদা সংগ্রহ করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রঈসুল ইসলাম ও আদনান কবির এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

এই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দিতে রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মাদরাসায় কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরকে নামমাত্র বেতন ভাতা দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে মাদরাসার জন্য সংগৃহীত চাঁদার টাকা পকেট কমিটি সহায়তায় আত্মসাৎ করেছেন সুপার আব্দুর রাজ্জাক।

মাদরাসার কর্মরত তিনজন পুরুষ শিক্ষকের দুই জনই বছরের প্রায় সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চাঁদা সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন এবং তাদের মাসিক বেতন অনেক বেশি হলেও বাকি কর্মরত শিক্ষকদের বেতন ভাতা ২৫০০ এর বেশি নয়।

মাদরাসার নামে সংগৃহীত চাঁদা মাদরাসার ফান্ডে জমা না করে ব্যক্তিত্ব হিসেবে জমা করে থাকেন।

ফলে তারা অল্প বেতন কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করলেও পড়ালেখার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ের নয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, মাদরাসায় নির্বাচিত কোন কমিটি না থাকায় অনিয়ম-দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ নাই। উন্নত পড়ালেখার মান ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এ প্রসঙ্গে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে জানান, রামু উপজেলার চাকমারকুল উম্মাহাতুল মুমিনিন বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •