২জুন দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ধ্বংসের পথে কক্সবাজার কেজি স্কুল’ শীর্ষক সংবাদটি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।

প্রকৃত ঘটনা হলো- কক্সবাজার মডেল হাইস্কুল ও কক্সবাজার কেজি স্কুল আলাদা ও স্বতন্ত্র দুটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৮১ সালে কক্সবাজার কেজি স্কুলটি বেশ কিছু দানবীর ও শিক্ষানুরাগী এবং সমাজসেবকের সমন্বিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে প্রয়াত জননেতা একেএম মোজাম্মেল হক, কবির আহামদ সওদাগর, সাবেক সমবায় কর্মকর্তা ফসিউল আলম, রফিকুল হুদা চৌধুরী, কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান ও সমাজসেবক শাহীনুল হক মার্শালসহ অনেকে নাম প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে ১৯৯২ সালে প্রাক্তন সমবায় কর্মকর্তা ফসিউল আলম দানপত্রমূলে ঝিংলজা মৌজার তার স্বত্বদখলীয় ১একর ৫০ জমি দান করলে কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই উক্ত বিদ্যালয়ের প্রথম নির্বাহী কমিটিতে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে জনাব ফসিউল আলম ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে তার পরিবর্তে কবির সওদাগরকে প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি দেখিয়ে উক্ত মডেল হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটি গঠন করে এযাবত পরিচালিত হয়ে আসছিলো। এক পর্যায়ে উক্ত সভাপতির একান্ত আপনজন এবং একই এলাকার বাসিন্দা কুতুবজোম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তহবিল তচরূপের দায়ে বিতাড়িত প্রধান শিক্ষক রমজান আলীকে মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বানান। সে হিসেবে তিনি অদ্যবধি উক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে একই কম্পাউন্ডে অবস্থিত আলাদা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন সেলিমা আলম। আর আমি (হামিদা পারভিন) উপাধ্যক্ষ্যের দায়িত্বে ছিলাম। সেলিমা আলম ০৫/০১/১৬ইংরেজিতে পদত্যাগ করে অন্যত্র চলে গেলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়। সেই থেকে আমি নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্বরত রয়েছি। এ যাবত আমার দায়িত্ব পালন নিয়ে কোনো শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী বা সচেতন মহল কর্তৃক আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একই কম্পাউন্ডে অবস্থিত হওয়ায় অর্থলোভী ও ক্ষমতালোভী কক্সবাজার মডেল হাইস্কুলের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক রমজান আলী তার স্বনামধন্য সভাপতির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আমাদের আলাদা প্রতিষ্ঠান কক্সবাজার কেজি স্কুলকেও মডেল হাই স্কুলের সাথে একীভূত করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা রকম ষড়যন্ত্র করে আসছে। প্রায়ই সময় রমজান আলী তার সভাপতির দোহাই দিয়ে বিভিন্নভাবে চাঁদা ও মামলার খরচসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। চাপ প্রয়োগ করে তারা আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৭/৮ লাখ টাকা আদায় করেছে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে অনুরূপ তাদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অনীহা প্রকাশ করি। এই কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বিদ্যালয় দুটি একীভূত করার ষড়যন্ত্র করতে থাকে। তবে সংবাদে বিদ্যালয় দুটি একই পরিচালনা কমিটির অন্তর্ভূক্ত বলে দাবি করা হয়েছে- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

এখানে উল্লেখ্য যে, অত্র কেজি স্কুলের দুইজন শিক্ষককে বেআইনীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলে তারা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন। প্রশাসনের তরফ থেকে উক্ত রমজান আলী থেকে কৈফিয়ত তবল করলে তিনি লিখিতভাবে জবাব দাখিল করেন যে, প্রতিষ্ঠান দুটি একই কম্পাউন্ডে হলেও প্রতিষ্ঠান দুটি আলাদা আলাদাভাবে পরিচালিত। মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তিনি এবং কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ আমি (হামিদা পারভিন)।

এখানে উল্লেখ্য যে, কক্সবাজার মডেল হাই স্কুলের গাফিলতি ও অন্যান্য কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক রমজান আলীর এমপিও বাতিল করার এবং বোর্ড কর্তৃক কমিটি বাতিল করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি এডহক কমিটি গঠন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। তাই মডেল হাই স্কুলের পরিচালনা কমিটি কর্তৃক কক্সবাজার কেজি স্কুল পরিচালিত হওয়ার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। এছাড়া কেজি স্কুলে এ যাবত কোনো আলাদা পরিচালনা কমিটি না থাকায় এটি অভিভাবকহীন হিসেবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে আসছিল। তাই সম্প্রতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং অত্র প্রতিষ্ঠানের একজন তালিকাভুক্ত দাতা সদস্য জনাব শাহীনুল হক মার্শালের নেতৃত্বে অত্র বিদ্যালয়ের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়টি সুচারুরূপে পরিচালিত হয়ে আসছে। সেই মতে জনাব শাহীনু মার্শাল এবং আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ্যের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের যাবতীয় লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়ে সার্বক্ষণিক একজন হিসাব রক্ষক নিয়োজিত রয়েছেন। তহবিল তছরুপ সম্পর্কে কারো কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ থাকলে তার কাছ থেকে যে কোনো আগ্রহী ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারবেন।

এদিকে কেজি স্কুলের শিক্ষক নীলুফার ইয়াছমিনকে অব্যাহতি প্রদান করায় তিনি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আবেদনের কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে পূর্বপদে বহাল করার নির্দেশ প্রদান করা হয়। তৎ বিরুদ্ধে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মহামান্য হাইকোর্টে রীট মামলা নং-১১২৩২/১৭ দায়ের করা হয়। যা সম্প্রতি খারিজ হয়ে যায়। ফলে তাকে পূর্বপদে বহাল করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ দ্বারা বাধ্যবাধকতা থাকায় তার যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদের উল্লেখিত কেজি স্কুলের মান নি¤œগামী বলে দেয়া তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। গত বছর পিএসসি পরীক্ষায় ১০৬ জনের মধ্যে শতভাগ পাশ এবং ৪৮জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। সুতরাং বিদ্যালয়টি কিভাবে নিম্নগামী হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এটি একটি হাস্যকর ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য। অবশ্য কানাচোখে বা টেরাচোখে অত্র বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বগামী ফলাফল দেখা না গেলে আমাদের বলার কিছু নেই।
পরিশেষে আমি প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই সংবাদে অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।

প্রতিবাদকারী
হামিদা পারভীন
অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত), কক্সবাজার কেজি স্কুল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •