চট্টগ্রাম ব্যুরো:
কোন অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে গায়ের জোড়ে সরকারী রাস্তার উপর ভবন তৈরীর করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আলম প্রকাশ লেদু সওদাগর। তিনি বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকার ছিদ্দিক মাস্টারের বাড়ির স্থানীয় মৃত হজির আহমদের ছেলে। ইমারত নির্মাণ আইন ভঙ্গ করে ভবন তৈরী করলেও অদৃশ্য কারনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না খোদ সিডিএ। ভবনটি নিয়ে সিডিএ বরাবর অভিযোগ করলেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছেনা। এ অবস্থায় এলাকার জনগণের মধ্য ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) এক কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকা নিয়ে মামলার তারিখ পিছিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে লেুদকে সিডিএর আদালতে হাজির হতে বলা হলেও শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে তিনি হাজির হয়না। অথচ লেদু প্রতিদিন প্রকাশ্যে রাস্তায় চলাচল ও দোকানে বসে আড্ডায় মশগুল থাকে বলে জানা যায়।

সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি উক্ত ভবনের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করে সিডিএ। নোটিশে ৩ দিনের মধ্যে ইমারতের অনুমতিপত্র ও অনুমোদন নকশা দপ্তরে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই বছরের ৬ এপ্রিল আবারো নোটিশ দেওয়া হয়। তাদেরকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেধেঁ দেওয়া হয়। কিন্তু এতে কোন প্রাকর সাড়া না পেয়ে ২০১৫ সালের ৮ জুন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির কেটে দেওয়া হয়। এর পর ৬ মাস স্থগিত থাকার পর বার বার নোটিশ দিয়েও এখনও পর্যন্ত কোন কাজ হয়নি। এর প্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৫ নভেম্বর ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেন এবং ১৯ নভেম্বর সময় বেঁধে দেন সিডিএর আদালত। এরপর বার বার নোটিশ প্রদান করেও অদৃশ্য কারনে ভাঙ্গা হয়নি ভবনটি। ওই সময় টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠে, অথরাইজড কর্মকর্তা মনজুুর হাসান ও সহকারি অথরাইজড কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র পালের বিরুদ্ধে। তিনি বিভিন্ন সময় নুরুল আলম প্রকাশ লেদু সওদাগর থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বার বার তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয় গত ৫বছর ধরে অভিযোগের বিষয়টি উঠে আসলে মামলা হয়নি এতোদিন। অন্যদিকে মনজুর হাসানের প্রশ্রয়ে লেদু সওদাগর তার অবৈধভাবে গড়ে তোলা ভবনে কার্যক্রম রিতিমতো চালিয়ে যাচ্ছেন।

আদালত সূত্র জানায়, নগরীর বাকলিয়া থানায় বলিরহাট সানোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শ্বে সরকারি রাস্তাসহ অভিযুক্ত নুর আলম ( প্রকাশ লেদু সও:) সিডিএর অনুমোদন না নিয়ে একটি ভবন নির্মাণ করছেন। যা ইমারত নির্মাণ আইনের লঙ্ঘন। এর পর চলতি বছরের ২৮ মার্চ নুরুল আলম প্রকাশ লেদু সওদাগর মামলা করেন সিডিএ। মামলায় ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ২১( ১ ধারা এবং সিডিএর আইন ২০১৮ এর ৪৪ ধারায় অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় উত্তরে ১.২৫ এর স্থলে ০.৩৮ দক্ষিনে ১.২৫ স্থলে ০.৯১ পূর্বে ২.০০ মিটার ০.৯১ এবং পশ্চিমে ১.৯২ এর স্থলে ১.৩০। কিন্তু লেদু সওদাগর এর নিয়ম কানুন কিছুই মানেনি। নিজের ইচ্ছে মতো গায়ের জোড় খাটিয়ে তিনি ৫তলা বিশিষ্ট ভবনের প্রথম তলা সম্পন্ন করে দোকান ঘর ভাড়া দিয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে শুরু থেকে উক্ত বিষয়টি নিয়ে তদারকিতে ছিলেন সিডিএর অথরাইজড কর্তকর্তা মঞ্জু হাসান। তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় ছিলেন সহকারি সৈকত চন্দ্র পাল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিদিনের সংবাদকে মনজুর হাসান জানান, বিষয়টি আমি খবর নিয়ে দেখছি। সহকারি সৈকত চন্দ্র পাল এ বিষয়ে বলেন, এই ফাইলটি আমি দেখছি। আমি গিয়েছিলাম। তাদের কিছু ক্রটি পাওয়া গেছে। বাকিটা পরে জানতে পারবেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারি মো. ফয়েজ বলেন, অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ এনে নুর আলম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সিডিএর আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদির আইনজীবী বলেন, কোনো ধরনের অনুমোদন না নিয়ে নুরুল আলম সওদাগর ভবন নির্মাণ করেছেন বলে বাদি মো. ফয়সাল অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। এখন প্রতিবেদনের অপেক্ষা।

বিশেষ আদালতের বিচারক সাইফুল আলম চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, মামলা যেহেতু হয়েছে এখন মামলার গতিতে চলবে। প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানা যাবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •