নীতিশ বড়ুয়া, রামু :

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের উত্তর ফতেখাঁরকুল বনিক পাড়ার অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান শয়ন মল্লিক। ছোটকাল থেকেই পিতা-মাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শয়ন পালিত হতে থাকে নানী সুখেদা ধরের কাছে। সংসারে অনেক টানাপোড়নের মাঝেও নানী সুখেদা ধর নাতি শয়ন মল্লিককে মানুষের মতো মানুষ করতে শিক্ষা অর্জনে ভর্তি করান কক্সবাজার সাহিত্যিকা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু বিধি বাম, দশ বছর বয়সের শয়ন মল্লিক তৃতীয় শেণীতে পড়া-লেখাকালিন সময়ে হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখতে থাকে। পড়া লেখায় তার কষ্ট হচ্ছে। এ কথা তার নানী সুখেদা ধরকে জানালে তিনি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামস্থ পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক শয়ন মল্লিকের চোখের অবস্থা মারাত্মক বলে জানিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসায় দেশের বাইরে নেয়ার পরামর্শ দেন। এখবর শুনে নানী সুখেদার চোখে জল গড়িয়ে পড়ে। অসহায় হয়ে পড়ে হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা। অন্ধকার নেমে আসে তাদের পরিবারে। যেখানে নুন আনতে পানতা ফুরায়, সেখানে বিদেশে নিয়ে আদরের নাতির চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু চোখের সামনে একটা দশ বছরের ফুটফুটে শিশু অন্ধ হয়ে যাবে তাও মেনে নিতে পারছেনা। আবার তাদের সংসারে এমন কোন সহায় সম্পদও নাই, যা বিক্রি করে শিশুটির চোখের চিকিৎসা করাবে। এমতাবস্থায় তাঁরা বিত্তবান ও দানশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করছেন।

এদিকে খবর শুনে গতকাল সোমবার (১জুলাই) অসহায় শয়ন মল্লিকের পাশে দাঁড়ান রামু উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতৃবৃন্দ। দুপুরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক তপন মল্লিক, যুগ্ম সম্পাদক ও সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারি আবু বক্কর ছিদ্দিক, ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আজিজুল হক আজিজ, শ্রমিকনেতা মিজানুর রহমান, রামু বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ সভাপতি একরামুল হাছান ইয়াছিন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মোহাম্মদ ফরহাদ, মোঃ নাছির, ছাত্রলীগ নেতা শাকিলসহ নেতৃবৃন্দ উত্তর ফতেখাঁরকুল বণিক পাড়ায় তাদের ছোট্ট কুঁেড় ঘরে যান। এসময় স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতৃবৃন্দ শিশু শয়ন মল্লিকের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন এবং চিকিৎসায় সহায়তার হাত প্রসারিত করেন।

তৃতীয় শেণীর ছাত্র শয়ন মল্লিকের মামা সুজিত ধর জানায়- শয়ন মল্লিকের চোখের অবস্থা দিন দিন আরো মারাত্মক আকার ধারণ করছে। বাড়তে থাকে চোখের যন্ত্রনা। শয়ন মল্লিক এখন আর চোখে কিছুই দেখতে পায়না। এমনকি সুর্যের আলো থেকেও তাকে দুরে থাকতে হয়। ফলে বাড়ির বাইরে যাওয়া আর তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বন্ধ হয়ে যায় শয়ন মল্লিকের লেখা-পড়া এবং খেলাধুলা। তিনি জানান, চিকিৎসকের মতে শয়নের চোখের চিকিৎসায় চার লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। যাহা তাদের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শিশু শয়ন মল্লিকের চোখের আলো ফিরিয়ে আনতে অসহায় নানী সুখেদা ধর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি এবং দানশীল ও বিত্তবান সমাজসেবকদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। যোগাযোগ ঃ শয়ন মল্লিকের নানী সুখেদা ধর ও মামা সুজিত ধর ০১৮৩১৫১৫৫৮৬, উত্তর ফতেখাঁরকুল বণিকপাড়া, ফতেখাঁরকুল, রামু, কক্সবাজার

###নীতিশ বড়–য়া, রামু। ১ জুলাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •